- কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, স্লাইডার

সাংবাদিকদের সাথে চা চক্রে আব্দুল মোক্তাদির তোফায়েল- কমিটির সদস্য রাখায় আমি কৃতজ্ঞ

এইবেলা, কুলাউড়া, ১১ নভেম্বর ::

‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি, উনার কর্মী হয়ে সারাজীবন কাজ করেছি, আজীবন কর্মী হয়ে পাশে থাকবো। পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করি না, করলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ নেত্রীর কাছে পদের জন্য দৌঁড়ঝাঁপ করতাম। সাধারণ সম্পাদক হতে পারিনি তাতে কোন দু:খ। আমাকে সদস্য রাখায় আমি জেলা ও কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞ। নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি। আমি সত্যিকারে একজন কর্মী হতে চাই।

সোমবার ১১ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। একদিন আগে হয়ে যাওয়া কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও সদ্য সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদির তোফায়েল। ওই কাউন্সিল শেষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি কমিটি ঘোষণা করেন। সেই কমিটিতে তাকে সদস্য মনোনীত করা হয়।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম আব্দুর রহিম মৌলভীবাজার জেলা মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে তিনি সারাজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে গেছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা ভারতের কৈলাশহরের বাবু বাজার ক্যাম্পে স্বপরিবারে অবস্থান করি। বাবার দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছি। ১৯৭৯ সালে কুলাউড়ার এনসি স্কুলের ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৩ সালে কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক, ১৯৮৫ সালে সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৭ সালে সভাপতি নির্বাচিত হই। ওই একই বছর কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। একই বছর কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের ইতিহাসে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হই। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ১৯৮৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সাড়ে ৯ মাস কারাবরণ করি। ওই সময়ের পুলিশের নির্যাতনের ক্ষত এখনো আমাকে কষ্ট দেয়। এখনো আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমি প্রথম কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সালে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থাকলেও আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। ১৯৯৭ সালে আমি উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়ন থেকে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পরবর্তিতে পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।’

এক এগারোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দলের সভানেত্রী এবং দলের সঙ্কটময় ওই সময় আমি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। দলের ওইসময়কার আন্দোলনে নিজেকে বিলিয়ে দেই।’

আমেরিকা প্রবাসে অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৯ সালে আমেরিকা যাই এবং ২০১৪ সালে আমি পুনরায় দেশে আসি। ওই সময়ে আমি আমেরিকার নিউজার্সি স্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীকের প্রধান সমন্ময়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।’

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘গত রোববার (১০ নভেম্বর) আমি কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। আমার প্রতি উপস্থিত কাউন্সিলরদের ব্যাপক সমর্থন ছিলো। কিন্তু দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন আমাকে দলীয় সভানেত্রীর মেসেজ জানিয়ে বলেন, ‘তুমি তোমার (আমি) প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী।’ আমি তাৎক্ষনিক কোন বিচার বিশ্লেষণ না করে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। যেহেতু আমার বাবা আজীবন আওয়ামী লীগ করে গেছেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে গেছেন, আমিও উনার সুযোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *