- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, সিলেট, স্লাইডার

ওসি নন্দনের বেপরোয়া বিলাসী জীবনযাপন: স্ত্রীর নামে আলীশান বাড়ি-গাড়ি

এইবেলা, অনলাইন ডেস্ক, ২৮ নভেম্বর ::

ঘুষ দুর্নীতির ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুপাটের মাধ্যমে বেহিসেবি কোটি কোটি টাকার আয়ে মাদক সেবনসহ বেপরোয়া বিলাসী জীবন যাপন করেন ওসি নন্দন।, তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার আলোচিত সাবেক ওসি।,

তার বিরুদ্ধে ওসি হিসাবে তাহিরপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুষ দুর্নীত ছাড়াও মাদক সেবন, বিনা অনুমতিতে এক উঠতি বয়সী মডেলের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে গানের মডেলিং করায় নানা মোখরোচক গুঞ্চন আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

বর্তমানে সুনামগঞ্জ আদালতে কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজা জেলার কমলগঞ্জে।

দৈনিক ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি নন্দন কান্তি ধর। তার এসব ঘুষ দুর্নীতি ও লস্ট্রীয় সম্পদ লুপাটের বিষয়ে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে তাহিরপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই শুরু হয় তার বিলাশ বহুল জীবন-যাপন। তাহিরপুর উপজেলায় থাকাকালেই গানের মডেল হয়েছেন তিনি। “তুমি শুধু তুমি” গানের মাধ্যমে নিজেকে মডেল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তাছাড়া সিঙ্গাপুর, ইন্দেনেশিয়াসহ চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সময়ও ছিলেন সিঙ্গাপুরে। একজন সাধারণ পুলিশের কর্মকর্তা এতো বিলাশি জীবন যাপন ও দুর্নীতির অভিযোগ হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ কেন পুলিশ প্রশাসন নিচ্ছে না সে বিষয়ে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মঙ্গলবার তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি নন্দন কান্তি ধরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে ২০১৮ সালের একটি ভিডিও গান ভাইরাল হয়েছে।

ওসি নন্দনের ঘুষ দুর্নীতি মামলাবাজি, সন্ত্রাসীদের লালন ও পোষাকী ক্ষমতার সীমাহীন অপব্যবহারে সর্ব সাধারন অতীষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।

তাছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ ২০০ ড্রেজার দিয়ে তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী থেকে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলছেন তিনি। রোববার এমনই অভিযোগ করেন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল এলাকার বাসিন্দা সেলিম ইকবাল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউবে, তুমি শুধু তুমি গানের তথ্য হতে জানাযায়, ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী সংগীত শিল্পী শুভ চৌধুরী ও পপি চৌধুরী’র গাওয়া গানের মডেল হন ওই সময়ে দায়িত্বে তাহিরপুর থানায় দায়িত্বে থাকা ওসি নন্দন কান্তি ধর, তার সাথে সহযোগি মডেল হিসেবে ছিলেন, উর্মি।

মডেলিং এ ওসি নন্দন ও উর্মী

তাছাড়া তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তাহিরপুরের এক বিবাহিত কনষ্টেবল এসআই পদের জন্য আবেদন করলে ওসি নন্দন কান্তি ধর কয়েকলাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সেই কনস্টেবলকে অবিবাহিত বলে ভেরিফিকেশন প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ওই কনস্টেবল ট্রেনিংয়ে গেলে তার বিবাহর বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসে এবং ওই কনস্টেবলকে চাকুরিচ্যুত করা এবং ওসি নন্দন কান্তি ধরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেকোয়ার্টার থেকে নির্দেশনা দিলেও কাড়ি কাড়ি ঠাকা ঢেলে তা ধামাচাঁপা দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানাযায়।

তাছাড়া ওসি নন্দন বিভিন্ন সময় দেশে ও দেশের বাহিরে প্রমোদ ভ্রমনে গেলেও সেখানে তিনি মদ্যপান করেন এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের দামি মদের বোতলের ছবি ফেইসবুকে আপলোড করেন। তাছাড়া স্ত্রী নামে সিলেটে রয়েছে বিলাশ বহুল বহুলতল বাড়ি ও একটি গাড়ি।

তাছাড়া তাহিরপুর উপজেলায় থাকাকালীন ওই উপজেলার উনার আত্মীয় থাকায় পুলিশ কর্মকর্তা থেকে হয়ে যান কারো ভাই বা দাদা, কারো ভাগিন জামাই আবার কারো জামাইবাবু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, তাহিরপুর থানায় দায়িত্বরত থাকাবস্থায় তাহিরপুর থানা কোয়ার্টারে এসি ব্যবহার করছেন ওসি নন্দন। তাছাড়া তিনি সিলেটে মহানগরীতে স্ত্রীর নামে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি ও কিনেছেন দাবি ব্রান্ডের গাড়ি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন ওসি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কোন ধরনের চলচিত্র বা গানের মডেল হতে পারেন না। সেটা হবে তার দায়িত্বে অবহেলা।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি নন্দন কান্তি ধরের সাথে ভারপ্রাপ্ত যোগোযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন গানে মডেলিং করেনি। এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না।,

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (পদোন্ততি প্রাপ্ত) মো.মিজানুর রহমান বলেন, যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা উর্ধ্বোতন কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোন গানের মডেল বা চলচিত্রে অংশগ্রহন করে তাহলে সমস্যা হবে না, যদি সে অনুমতি না নিয়ে কোন মডেলিং করে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *