- কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, স্লাইডার

কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগ : নতুন কমিটি চায় কর্মীরা

এইবেলা, কুলাউড়া, ০২ ডিসেম্বর ::

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুলাউড়া উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি চুড়ান্ত হয়নি গত ৩ বছরেও । উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল নতুন কমিটি জেলায় জমা দেয়ার কথা জানান। তবে বর্তমান কমিটি ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে, ছাত্রলীগের কর্মিরা এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান। এ নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান রনি ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে নিয়াজুল তায়েফকে সভাপতি ও আবু সায়হাম রুমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট এক বছরের কমিটি গঠন করা হয়। এরমধ্যে কমিটির একজন সহ-সভাপতি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় সংগঠন থেকে বহিস্কার হয়েছেন এবং আরেকজন সহ-সভাপতি ইতিমধ্যে বিয়ে করেছেন। এছাড়া হাবিবুর রহমান জনিকে সভাপতি ও ইমন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি এবং জাকারিয়া আল জেবুকে সভাপতি ও আনোয়ার বখসকে সাধারণ সম্পাদক করে কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে চলতি বছরের ৭ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের স্বাক্ষরিত পত্রে নির্দেশনা দেয়া হয় ১৫ দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার হয়। কিন্তুু জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশনার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি তায়েফ-রুমেল নেতৃত্বাধীন কুলাউড়া ছাত্রলীগের কমিটি।

এর মধ্যে কয়েক দফা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা শোনা গেলেও পরে আর তা বাস্তবায়িত হয়নি। কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় পদ-পদবিহীন তৃণমূলের কর্মীরা হতাশায় ভুগছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা ব্যর্থতার জন্য শীর্ষ দুই নেতাকেই দায়ী করছেন। তারা ব্যর্থ নেতাদের নেতৃত্ব চান না। চান নতুন ও উদ্যোমি নতুন কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে শুরুতে কর্মীরা অনেক দৌড়ঝাঁপ ও তদবির শুরু করলেও তা এখন ঝিমিয়ে পড়েন।

মুলত উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব কোন্দলের প্রভাব পড়ে ছাত্রলীগেও। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুল দলের দুই বড়ভাইয়ের আস্তাভাজন। বড় ভাইদের মধ্যে দা কুমড়া সম্পর্ক। সেই প্রভাব পড়ে ছাত্রলীগে। প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হওয়ার পথে। কিন্তু পুর্নাঙ্গ কমিটি দেখেনি আলোর মুখ।

পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান জনি জানান, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ মত ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন অনুমোদন পাইনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজুল তায়েফ ও সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল জানান, আমিও সভাপতি মিলে কমিটি জেলায় জমা দেয়া হয়েছে। অচিরেই তারা পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী জানান, পৃথক দুটি কমিটি জমা হয়েছে। কুলাউড়া ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে সম্বন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জেলায় প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি শীগ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *