- অর্থ ও বাণিজ্য, কুলাউড়া, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার

কুলাউড়ায় বিট কর্মকর্তার আতাতে বনাঞ্চল থেকে গাছ বিক্রি!

এইবেলা, কুলাউড়া, ২১ জানুয়ারি ::

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে বনাঞ্চল থেকে অবাধে গাছ কেটে বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে। গত দুই সপ্তাহ থেকে গাছগুলো কেটে বিক্রি করা হলেও রহস্যময় কারনে নিরব স্থানীয় বন কর্মকর্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোদ বন কর্মকর্তা আহমদ আলীর যোগসাজশেই পাহাড়ে এই নিধনযজ্ঞ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরমচাল ইউনিয়নের সিঙ্গুর টিলায় গত ২-৩ বছর থেকে ধাপে ধাপে গাছ নিধন চলছে। গত দু-সপ্তাহ থেকে ৮-১০ জন লোক মিলে গাছ কাটা শুরু করেন। আর এই কাটা গাছগুলো ক্রয় করছেন ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আহাদ ও বরমচাল ইউনিয়নের সিঙ্গুর গ্রামের আব্দুল হাসিম। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন বন কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও তারা এবিষয়ে কোন কর্ণপাত করেননি। বরমচাল বিটের কর্মকর্তা আহমদ আলী প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে বলেন, খবর পেয়ে গাছ জব্দ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন কর্মকর্তা আহমদ আলীর যোগসাজশেই গত কয়েক বছর থেকে এই বনবিট থেকে নানা প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বরমচাল বনবিটের পশ্চিম সিঙ্গুর এলাকায় প্রায় ১৫-১৬ একর জায়গা জুড়ে কয়েকটি টিলায় অবাধে কাটা হচ্ছে ৮-১০ বছর বয়সী আকাশী, বেলজিয়ামসহ নানা প্রজাতির গাছ। পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে শতাধিক গাছ। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কর্তনকারীরা সটকে পড়েন।

গাছ পাহারার কাজে নিয়োজিত সফর আলী জানান, দু’সপ্তাহ থেকে এখানে গাছ কাটা হচ্ছে। আমি সপ্তাহ খানেক সময় থেকে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি বিনিময়ে কাটা গাছগুলো পাহারা দিচ্ছি। যারা গাছগুলো কাটছেন তারা আমার মজুরি দিচ্ছেন। গাড়ি দিয়ে গাছ অন্যত্র নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সফর আলী বলেন, স্থানীয় বন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি ট্রাকে করে গাছগুলো নেয়া হয়েছে। কিন্তু বরমচাল বনবিট অফিসে গিয়ে ট্রাক বোঝাই গাছ কিংবা বিট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে বরমচাল বনবিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) আহমদ আলী নিজের উপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা সরকারী ভূমি নয়, ১নং খতিয়ানের খাস ভূমি। লোকমারফত গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে নিয়ে তাদের বাধা দেই এবং বেশ কিছু গাছ জব্দ করি। বিষয়টি নিয়ে বন আইনে একটি মামলা (নং-০৪/১৯-২০) করা হয়েছে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *