- বড়লেখা, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

বড়লেখা ট্রাজেডির কানন বালাও না ফেরার দেশে

আব্দুর রব, বড়লেখা, ২৭ জানুয়ারি ::

বড়লেখার পাল্লাথল চা বাগানে স্ত্রী শাশুড়ীসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত কানন বালা (৩৪) গত ৮ দিন ওসমানী হাসপাতালের ফ্লোরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তর শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন এবং পাল্লাথল চা-বাগানের ফ্যাক্টরি ক্লার্ক অঞ্জন দাস। চা বাগানে মৃত্যূর মিছিলে ঘাতকসহ ৫ জনের সাথে যোগ হলো আরো একটি নাম।

গত ১৯ জানুয়ারী ভোরে ননদ জামাই নির্মল কর্মকারের দায়ের কোপে কানন বালা গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় নিহত হন কানন বালার স্বামী, শ্বাশুড়ি, ননদ ও মেয়ে।

অভিযোগ উঠে মৃত্যূর পূর্ব পর্যন্ত সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের একটি বেডও ভাগ্যে জুটেনি চাঞ্চল্যকর হামলায় আহত কানন বালার। অবশেষে হাসপাতালের ফ্লোরেই অনেকটা বিনা চিকিৎসায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাল্লাথল চা বাগানে পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্মল কর্মকার তার স্ত্রী জলি বুনার্জিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় জলিকে বাঁচাতে গিয়ে নির্মলের দায়ের কোপে নিহত হন জলির মা লক্ষ্মী বুনার্জি। স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি হিংস্র নির্মল। ঘাতকের দায়ের কোপে নিহত হন তার স্ত্রীর বড়ভাই বসন্ত বক্তা এবং বসন্তের মেয়ে শিউলী বক্তা। এসময় গুরুতর আহত হন বসন্তের স্ত্রী কানন বালা। ঘটনার সময় পালিয়ে বেঁচে যায় জলির নয় বছরের শিশুকন্যা চন্দনা বুনার্জি। একে একে ৪ জনকে হত্যার পর নিজেকেও শেষ করে দেয় নির্মল। প্রথমে নিজের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ আহতবস্থায় কানন বালাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং নিহত ৫ জনের লাশ মর্গে পাঠায়। ঘটনার রাতেই পাল্লাথল বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। অভিযোগ উঠে ৭ দিনেও সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের একটি বেডও ভাগ্যে জুটেনি চাঞ্চল্যকর হামলায় আহত কানন বালার। অবশেষে হাসপাতালের ফ্লোরেই অনেকটা বিনা চিকিৎসায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

পাল্লাথল চা-বাগানের ফ্যাক্টরি ক্লার্ক অঞ্জন দাস সোমবার বিকেলে জানান, এই ঘটনায় পুরো বাগানবাসী স্তব্ধ। একসাথে এতজনের মৃত্যু, ভাবতেই কষ্ট লাগছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে, নির্মলের হাত থেকে তার স্ত্রী জলিকে বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি।

বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, কানন বালা চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সোমবার সকালে মারা গেছেন। সিলেট কতোয়ালী থানা পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পাল্লাথল চা-বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, পাঁচজনের মৃত্যুর পর আহত নারীও সোমবার সকালে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। রোববার পাল্লাথল চা বাগানের শোকাহত শ্রমিকদের সমবেদনা জানাতে যান। তাদের সাথে বৈঠক করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোহিতায় চা-শ্রমিকদের মেডিক্যাল চেকআপ এবং ফ্রি মেডিসিন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল ১০০জন শ্রমিকের মধ্যে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র নিহত জলি বুর্নার্জির মেয়ে চন্দনাসহ বাগানের ৬২জন শিশুর মধ্যে বিতরণ করেছেন। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ১০৫জন চা-শ্রমিকের মধ্যে অনুদানের চেক দেয়া হয়েছে। নিহত জলি বুনার্জির মেয়ে চন্দনা বুনার্জি ভবিষ্যতে শিক্ষিত ও ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে বেড়ে উঠার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করবেন।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *