- জাতীয়, বড়লেখা, স্লাইডার

বড়লেখায় অ্যাম্বুলেন্স চালকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

“দীর্ঘদিন পরও বিচার না পাওয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ”

এইবেলা, বড়লেখা, ৩০ জানুয়ারি ::

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক সোহেল আহমদের অবহেলায় এক নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ন্যায় বিচার চেয়ে নিহত লয়লা বেগমের স্বজন সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগ দেয়ার ২১ দিনেও বিচার না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি রাত দুইটার দিকে বড়লেখা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর এলাকার আব্দুর রহিমের স্ত্রী লয়লা বেগম (৫৫) হঠাৎ অসুস্থ হলে আব্দুর রহিমের চাচাতো ভাই সাবেক কাউন্সিলার আব্দুস সাত্তারসহ স্বজনরা লয়লা বেগমকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত, উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সিলেট নিতে হবে।

অভিযোগকারী আব্দুস সাত্তার জানান, ‘ডাক্তারের পরামর্শের পরই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু চালক প্রথমে যেতে রাজি হয়নি। সে বলে ইতিমধ্যে কয়েকটি ট্রিপ মেরেছে। এখন সে ঘুমাবে। কর্তব্যরত ডাক্তারও তাকে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন। পরে হাসপাতালের টিএইচএফপিও তাকে কল করে রোগিকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমরাও রোগিকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বাড়িতে চলে যাই। কিন্তু দুই ঘন্টা পর চালক আমাদের বাড়ির অনেক দুরে গাড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখে। যদিও আমাদের বাড়িতে গাড়ি প্রবেশ করে। কিন্তু সে রোগিকে ধরে এনে গাড়িতে তুলতে বলে। নানা টালবাহানায় কয়েক ঘন্টা সময় ক্ষেপন করায় গাড়িতে তুলতেই রোগী মারা যান।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু চালকের অবহেলার কারণেই উনার মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত সিলেট নিয়ে যেতে পারলে হয়তো তাকে বাচাঁনো যেত। এই ঘটনায় ন্যায় বিচার চেয়ে ৯ জানুয়ারি মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ৩ সপ্তাহ পরও কোন বিচার পাননি।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহজাহান কবির চৌধুরী জানান, ‘এবিষয়ে তিনি কোন অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করা হবে। তদন্ত রিপোর্টে যদি দোষ প্রমাণ হয়, তাহলে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতœদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘একটি অভিযোগের কপি তার কাছে রয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তার (অ্যাম্বুলেন্স চালক) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *