- জাতীয়, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

এমপি নিজেও জানেন না বরাদ্দের কথা !

কুলাউড়ায় কাবিখার ৯ টন চালের সিংহভাগ লুপাট

এইবেলা, কুলাউড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি ::

কুলাউড়া পৌর শহরে একটি রাস্তায় কাবিখার ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেন স্থানীয় এমপি সুলতান মো. মনসুর আহমদ। রাস্তাটি রেললাইনের পাশে হওয়ায় নামকাওয়াস্তে মাটি ফেলে সিংহভাগ টাকাই লুপাট হয়। বিষয়টি জানাজানি হলেও বরাদ্দের কথা অস্বীকার করেন এমপি। এদিকে অনুমতি ছাড়া রেললাইনের পাশে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে চলছে তোলপাড়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানায়, মৌলভীবাজার -২ কুলাউড়া আসনের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ কাবিখা প্রকল্পের আওতায় শহরের আউটার সিগন্যাল থেকে উত্তর পশ্চিম কামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২৫০ মিটার রাস্তায় মাটি ভরাট নির্মাণ কাজের জন্য ৯ মেট্রিক টন চাউল যার মুল্য ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান প্রকল্প সভাপতি ও কুলাউড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর কায়ছার আরিফ। ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে।

রেললাইনের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ করতে দেখে দু’টি পাকা খুঁটি বসিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। গত ০৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বাংলাদেশ রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ডিএন মজুমদার ও প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. সুবক্ত গীনের নেতৃত্বে রেলের কর্মকর্তারা আখাউড়া-সিলেট রেললাইন পরিদর্শনে আসলে তাদের নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ দেখে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেন। পরদিন রোববার কুলাউড়া রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই রাস্তার মাঝখানে দুটি পাকার পিলার পুঁতে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদ জানান, রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কিছু জানতে হলে তার কুলাউড়া অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। অফিসের যারা বরাদ্দ দিয়েছে তারাই বিষয়টি দেখবে। আমার অফিসের কেউ বিষয়টি আমাকে এখনো জানায়নি। জানালে পরে দেখবো। এ বিষয়ে যেখানে কথা বলতে হবে, আমি সেখানেই কথা বলবো।

এদিকে রেলের জমিতে কিভাবে বরাদ্দ দেয়া হলো এবং রেলের লোকজন খুঁটি মেরে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার প্রসঙ্গে এমপি জানান, আই ডন্ট নো এনিথিং, আই ডন্ট নো। আমি বলতেছি, এটা জিজ্ঞেস করতে হলে অফিসের সুহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসব বিষয়ে আপনি কি অবগত নন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এটা আমার জানার কথা নয়। কোন কারণে রেল বিভাগ রাস্তা বন্ধ করছে কারণ তো থাকতেই পারে। আমি জানি না, আমি জানি না, সব কিছু জানতে হবে, এমন তো কারণ নেই।

কাজ বাস্তবায়ন প্রকল্পের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর কায়ছার আরিফ জানান, স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থে রাস্তায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করবে না। তবে আশপাশের বাসিন্দারা সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করবে।

রেলের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. জুলহাস জানান, রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রেললাইন পরিদর্শনে আসলে রাস্তা নির্মাণের চিত্রটি নজরে পড়লে তা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে তাদের নির্দেশে রেলের স্বার্থে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বরত লোকজন এই রাস্তায় পাকার খুঁটি মেরে বন্ধ করে দেয়। রেল লাইনের সিগন্যালের পাশে অবৈধ রাস্তা থাকতে পারবে না। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. সুবক্ত গীন জানান, রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। যেহেতু রেল লাইনের একপাশে রাস্তা আছে সেহেতু অন্যপাশে রাস্তার কোনো প্রয়োজন নেই। রেলের নিরাপত্তা বিঘœতায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বন্ধ করে দিয়েছি।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *