- জুড়ী, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

জুড়ীতে রাতের আধারে মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে দুস্কৃতিকারীরা 

এইবেলা, জুড়ী, ২৩ মার্চ ::

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের জালালপুর জামে মসজিদের জায়গা দখল নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাতের আধারে দুস্কৃতিকারীরা কর্তৃক মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সময়ে জালালপুর জামে মসজিদের ৫ শতক জায়গা নিজের দাবী করে দখলের চেষ্টা করেন হোছন আলী নামের এক ব্যক্তি। হোছন আলীর এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করছেন এই মসজিদের সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নুর উদ্দিন। মসজিদের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জালালপুর-রতœা চা বাগানের রাস্তা সমেত মসজিদের একটি সুন্দর টিলা কেটে হোছন আলীর একটি জমি ভরাট করিয়েও দেন নুর উদ্দিন মেম্বার। তখন মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় জনগণ টিলা কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে নুর উদ্দিন মেম্বার জানান, ইউনিয়ন থেকে কিছু বরাদ্ধ আসায় মসজিদের সৌন্দর্য্য বর্ধনে টিলাটি কেটে সমান করা হচ্ছে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি সম্পূর্ন ভূয়া। এই ভূয়া বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ দেখা দিলে তারা পঞ্চায়েতি ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মসজিদের জমিটি জরিপ করেন। ওই জরিপে হোছন আলী ও নুর উদ্দিন মেম্বারের যোগসাজশে মসজিদের জায়গা দখলের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। তখন জনগণ ওই কাজে বাধা দেন। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য নুর উদ্দিনের পরামর্শে হোছন আলী বাধা দান কারীদের বিরোদ্ধে জুড়ী থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’পক্ষের দুই আমিন দিয়ে পূনরায় আবার জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়। ওই জরিপেও দেখা যায় মসজিদের জায়গা দখল করেই মাটি কর্তন ও দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। অতঃপর মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় জনগণ মিলে মসজিদের বাউন্ডারী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাতের আধারে একদল দুস্কৃতিকারী মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে ওই স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষ, খুন ও রক্তপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

জালালপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন, সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন, জহুর উদ্দিন, সদস্য আব্দুল করিম বাচ্চু, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম মনির, আজির উদ্দিন, আব্দুস শহিদ, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গনি, মজির উদ্দিন, মতিউর রহমান, আব্দুস সালাম সোহাগ, বশির উদ্দিন, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম সাতির, মোঃ আজিজুর রহমান, ইকবাল হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন, রমিজ উদ্দিন, আব্দুল বারিক, আব্দুল মজিদ, সৈয়দ জয়নাল মিয়া, আব্দুল হান্নান প্রমূখ ক্ষোভের সাথে বলেন, মসজিদের জায়গা নিয়ে এ কেমন কারবার। মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে নুর উদ্দিন মেম্বারকে সভাপতি বানালাম, আর তিনি রক্ষক হয়ে ভক্ষনের চিন্তা করছেন। এ কেমন উন্নতি। তাছাড়া সভাপতি আমাদের মসজিদের দলিলটাও নিজের কাছে জব্দ করে রেখেছেন। আমরা সন্দেহ করছি, না জানি তিনি আর.এস জরিপে মসজিদের জায়গা হোছন আলীর নিকট বিক্রয় করে ফেলেছেন। আমাদের মসজিদের সুন্দর ওই টিলাটি কেটে নুর উদ্দিন মেম্বার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং টিলার মাটি হোছন আলীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সর্বপরি মেম্বার ও হোছন আলী মিলে আমাদের মসজিদের দেয়ালটি ভাঙ্গিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে হোছন আলী ও নুর উদ্দিন মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *