- নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

সাংবাদিকতায় আমাদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

আজিজুল ইসলাম, ২৫ মার্চ :

গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে করোনাভাইরাসের ভয়াল আগ্রাসন। লকডাউন বিশ্ব বলা চলে। মানুষের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরমধ্যে গরম উনুনে যেন ঘি ঢালছি আমরা। সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে ভীতিকর সব সংবাদ প্রচার করছি। বিশ্বেও এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি দায়াবদ্ধতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে সৃষ্ট সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে সাংবাদিকদের।

যদি বলি শুধু দেশ হতে দেশ নয়, দেশের ভেতরে শহর থেকে শহর এমনকি গ্রামেও মানুষ অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে। আমরা নিজ নিজ অবস্থানে নিরাপদে থাকবো। সেই সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবো। কিন্তু ইদানিং কিছু গণমাধ্যমে বিষয়টিকে হাইলাইটস করতে গিয়ে মনে হয় উল্টো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

সচেতন অনেক মানুষ যারা নিরাপদে অবস্থান করছেন অনেকেই মোবাইল ফোনে জানতে চাইছে নিরাপদকালীন এই অবস্থা কতদিনের? এই প্রশ্নের উত্তর আমারতো মনে হয় একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি কেন, কোন ডাক্তারই সদোত্তর দিতে পারবেন না। উত্তর খোঁজতে গিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি, তা হলো- কোন নির্দিষ্টতা নেই। তাতে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে তো না খেয়ে মরতে হবে? যেহেতু দুর্যোগ তাই এসব সম্ভবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

আমরা যদি উন্নত রাষ্টের দিকে তাকাই যেমন- ইংল্যান্ড, আমেরিকা কিংবা কানাডা। এসব দেশে অনেক আগেই শহর এমনকি দেশকে লকডাইন করে রেখেছে। সরকারের তরফ থেকে ঘরে ঘরে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির যে উন্নতি যে হচ্ছে, তা কিন্তু বলা যাচ্ছে না। দিন দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। ইতালি ও স্পেনের অবস্থা ভয়ানক। যেখানে ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সেখানেও গণমাধ্যম রয়েছে। তারা আমাদের দেশের গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হলেও সেগুলো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে না।

আমাদের দেশেও করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর ভয়াবহতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা মুশকিল। দেশে সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে আক্রান্তের চেয়েও আতঙ্কটা বেশি। তার কারণ হলো আমরা যখন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে চোখ রাখি তখন দেখি বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে মানুষের মনে দাগ কাটে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

বলা হচ্ছে, ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষের জন্য ঝুঁকি বেশি। কিন্তু বাস্তবে শিশু ও যুবকরা যে মারা যাচ্ছেনা, তেমনটিও বলা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতন হয়ে এর বিস্তার কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব।

ইতোমধ্যে সিলেট অঞ্চল থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ কওে দেয়া হয়েছে। পর্য়ায়ক্রমে হয়তো দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমাদের ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কিংবা অনলাইনের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। সুতরাং এই ক্রান্তিকালে এই দুটি বিভাগকে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। রাখতে হবে ইতিবাচক ভুমিকা। মানুষের মনে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন করতে মূখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। সব সংবাদই যে প্রচার করতে হবে তা কিন্তু নয়।

মনে রাখতে হবে, সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জণের জন্য চটকদার সংবাদের চেয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা মনযোগ দেয়া উচিত। এতে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে। আমরা অবশ্যই করোনাভাইরাস নিয়ে সংবাদ প্রচার করবো। তবে তা যেন হয় দায়িত্বশীলতার সাথে। তার জন্য যে তথ্য গোপন রাখতে হবে তা নয়, বরং নিশ্চিত হয়ে বস্তুনিষ্টতা বজায় যেন থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *