- নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্লাজমা ডেরাইভড থেরাপি, হতাশায় আশার আলো…

ডা. সাঈদ এনাম, ২৫ মার্চ ::

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শতকরা আশি ভাগ সামান্য৷ সর্দি-জ্বর এর পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। তারা সুস্থ হন, কারন করোনাভাইরাস আক্রমনের পর আক্রান্তের দেহে আল্লাহ তায়লা প্রদত্ত ক্ষমতায় তখন তার দেহে সয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এর নাম এন্টিবডি। এই সিরাম এন্টিবডি পরবর্তীতে তাকে করোনাভাইরাস আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে,, ফলে তিনি আর সাধারণত ২য় বার করোনাভাইরাস এ সংক্রমিত হননা।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, “আচ্ছা একজন সুস্থ মানুষের দেহে যদি সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়া অসুস্থ রোগীর শরীর থেকে রোগ প্রতিরোধী সিরাম এন্টিবডি কালেকশন করে তার সম্পুর্ন সুস্থ দেহে পুশ করানো হয়, তবে কি সেই সুস্থ মানুষ পরবর্তীতে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাবেন? চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলে? ” এ পদ্ধতিটি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ক্ষেত্রে কতটুকু কার্যকর হবে? অনেকেই জানতে চেয়েছেন, চাচ্ছেন। প্রশ্নটির উত্তর, “হ্যা, হবে। কার্যকর হবার কথা”।

কারো শরীর থেকে কোন রোগের আক্রমনের পর আল্লাহ প্রদত্ত প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট এন্টিবডি সংগ্রহ করে যদি সুস্থ মানুষের দেহে পুশ করা হয় তবে যে জীবানুর বিপরীতে ঐ প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি হয়েছে ঐ জীবাণু দিয়ে আক্রমণ থেকে তিনি সুরক্ষা পাবেন। এই পদ্ধতির নাম Serum Convalescent therapy. কিছু ঐতিহাসিক মহামারী ঠেকাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই এন্টিবডি থেরাপি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সুফল পেয়েছেন। ১৯১৮ সালে এই করোনাভাইরাস এর মতো যখন স্প্যানিশ ফ্লু ইউরোপে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ কে মারছিলো তখন এক পর্যায়ে চিকিৎসক গন এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। স্প্যানিশ ফ্লু থেকে সুস্থ হওয়া রোগী থেকে সিরাম এন্টিবডি কালেকশন ও প্রসেসিং করে তা সুস্থ এবং অপেক্ষাকৃত দূর্বল মানুষের রক্তে পুশ করে দিয়েছেন। এতে দেখা স্প্যানিশ ফ্লু এর সংক্রমণ শতকরা ৫০ ভাগ কমে গিয়েছিলো। একই ভাবে ১৯৩৪ সালে পেনসেলভেনিয়াতে Measles মিজেলস রোগ আউটব্রেক এ সুস্থ শিশুদের উপর একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিলো এবং সুফল পাওয়া গিয়েছে। ৬২ জন সুস্থ ছাত্রের শরীরে মিজেলস রোগ প্রতিরোধী সিরাম সংগ্রহ করে পুশ করা হয়েছিলো এবং এতে ৫৯ জন ছাত্র সুরক্ষা পেয়েছিলো। এই প্লাজমা ডেরাইভড থেরাপি অতি সম্প্রতি ইবোলা মহামারী, এভিয়ান ফ্লু মহামারীতে এমন কি সার্স ও মার্স ভাইরাস আক্রমনে ক্রিটিক্যাল অসুস্থ রোগীতে প্রয়োগ করা হয়েছিলো, এবং সুফল ও পাওয়া গিয়েছে। জাপানের তাকাডা ফার্মাসিউটিক্যালস এ নিয়ে গবেষণা করছে। হয়তো তারা অচিরেই এ পদ্ধতির আরেকটু উন্নত সংস্করণ করে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ঔষধ বা প্রতিষেধক তৈরী করে ফেলবে। তারা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর কাছ থেকে রোগ প্রতিরোধী সিরাম এন্টিবডি সংগ্রহ করে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের এ মিশন এর নাম TAK -888. আজ সকালে আমার এক বন্ধু আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী বংশদ্ভূত কনসালটেন্ট (ডাক্তার) এর কাছ থেকে জানলাম, গতকাল আমেরিকান ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে এই প্লাজমা ডেরাইভড থেরাপি পদ্ধতির জন্যে এপ্রুভ্যাল দিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের ইমিউনলজি এ ব্যাপারে গবেষণা শুরু করতে পারেন।

লেখক :: ডিএমসি কে-৫২, সাইকিয়াট্রি। সহকারী অধ্যাপক সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন মেম্বার, আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজি।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *