অক্টোবর ১৩, ২০১৫
Home » আন্তর্জাতিক » লন্ডনে বিএনপি-আওয়ামীলীগের বিক্ষোভের নামে সহিংসতা

লন্ডনে বিএনপি-আওয়ামীলীগের বিক্ষোভের নামে সহিংসতা

এইবেলা, যুক্তরাজ্য, ১৩ অক্টোবর:: আওয়ামীলীগ-বিএনপির বিরোধ লন্ডনে বয়ে এনেছে বোতল ছোড়াছুড়ি,ডিম ছোড়া আর গালাগালির সহিংসতা। গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে এলেই এক দল অপর দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে ডাক দেন বিক্ষোভের। নিজ দলের নেত্রীকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীরা এয়ারর্পোটে পৌছাঁর আগেই সেখানে পৌছেঁ যান নেত্রীর আগমনে বিক্ষোভ দেখাতে আসা বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীরা।

ff copyএয়ারপোর্টে, পার্লামেন্ট স্কোয়ার অথবা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্টানস্থলের সামনে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের নামে চলে ডিম আর পানির বোতল ছোড়াছোড়ি,অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি,কখনো ধাওয়া-ধাওয়ি। পরিস্থিতি নিয়ত্রনে আনতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ আটক করে নেতাকর্মীদের। লন্ডনে আওয়ামীলীগ-বিএনপির হাতাহাতি আর চেয়ার ছোড়াছোড়ির ঘটনায় নেতারা দন্ডিত হয়েছেন আদালতের রায়ে,জেল পর্যন্ত খেঁটেছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের সময়ে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হন যুক্তরাজ্য সেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন। পরে অবশ্য মুচলেকায় মুক্তি পান তিনি।

ডিম ছোড়া অথবা গালিগালাজের দায়ে ঘন্টাখানেক আগেও আটক হওয়া নেতাকর্মীরা ছাড়া পেয়েই ফোন করেন সাংবাদিকদের। অনুরোধ জানান তাদের (বীরত্বপুর্ন কর্মকান্ডের কারনে) আটক হওয়ার খবরটি গনমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের। আটক হওয়া নেতাকর্মীদের ফুলেল ফটোসেশনের ছবি ছাপা হয় অনলাইনের অর্ন্তজালে।

কমিউনিটির দলবাজির রাজনীতির বাইরে থাকা বিশিষ্টজনেরা বলছেন,  এভাবে বিদেশের মাটিতে দেশের প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চার নেতিবাচকতাকে রাজনৈতিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয়ায় রাজনীতির বিকৃত ধারাই হচ্ছে শক্তিশালী। অবশ্য এমন বিক্ষোভকে গনতান্ত্রিক প্রতিবাদের পন্থা হিসেবেও মত দিয়েছেন অনেকে।

আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ অযৌক্তিক: লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময়ে বিক্ষোভ করা প্রসংগে যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও মিডিয়া কমিটির কনভেনার তাজ উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার বিরোধী গনতান্ত্রিক আন্দোলনের সুযোগ নেই। সেখানে একদলীয় শাসন ব্যাবস্থা বিদ্যমান। বিরোধী দল বা মত সেখানে নির্যাতিত।

লন্ডনে যেহেতু গনতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদের সুযোগ রয়েছে সেকারনে আমরা বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহনে একটি নিরপেক্ষ,গ্রহনযোগ্য নির্বাচন,গুম খুন হত্যা বন্ধের দাবিতে গনতান্ত্রিক বিক্ষোভ কর্মসুচী পালন করছি। তিনি আরো বলেন,শেখ হাসিনার প্রতি বিক্ষোভ দেখাতে আমরা (বিএনপি) এখন পর্যন্ত এয়ারপোর্টে যাইনি। তাজ উদ্দীন বলেন,আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে আসায় এখানে এয়ারপোর্টে যে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে সেটা অবান্তর। কেননা খালেদা জিয়া এখন সরকার দলের বা বিরোধী দলের নেত্রী নন,সংসদ সদস্যও নন। তাহলে তার প্রতি কি দাবী আদায়ে বিক্ষোভ করতে পারেন তারা ?

এই অপচর্চা বড়ো লজ্জার-আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী: যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন,গত ঈদ উল আজহার দিনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে যায়নি।

এয়ারপোর্টে,পার্লামেন্টের সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে আমাদের দেশের মানুষ নিজের দেশের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে যখন এসব গালাগালির শ্লোগান, বোতল আর ডিম ছোড়াছুড়ি করে বিদেশীরা তখন স্ব-বিস্ময়ে তাকায়। এটা আসলে বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের নিজেদের জন্য খুব লজ্জার। এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন,বিদেশের মাটিতে দেশকে দেশের মানুষকে ছোট করার এই অশুভ ধারা বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি বলেন,খালেদা জিয়ার ক্ষমতা দখলের নামের ব্যার্থ আন্দোলনে পেট্রল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো বিভৎস ভয়াল অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানাতেই খালেদা জিয়ার প্রতি হিথ্রো এয়ারপোর্টে আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছে।

বিক্ষোভ বে-আইনী নয়: বিশিষ্ট আইনজীবি ও সাংবাদিক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী এ ব্যাপারে আলাপকালে বলেন,ব্রিটেনের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ বে-আইনি নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের আগে স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নেয়া হয়। ডিম বা ছোড়া পানির বোতলে কেউ যদি আঘাতপ্রাপ্ত বা আহত হন তখন সেটি অপরাধ।

কী বলা আছে আইনে: যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন অথবা মুভমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা না থাকলেও ইসিএইচআর আর্টিকেল টেন এর ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস এ বলা হয়েছে,প্রচলিত ধারা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মানুষ,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ,সিভিল সোসাইটি,পেশাজীবি সহ যে কোন শ্রেনী পেশার মানুষ ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন অনুযায়ী তাদের দলীয় বা ঐক্যবদ্ধ মুভমেন্ট করে থাকেন। তবে সেটি করতে হবে অন্যের ক্ষতি এবং শক্তি বা বল প্রদর্শন না করেই।

রিপোর্ট-মুনজের আহমদ চৌধুরী