- হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল সার্টিফিকেটের স্তূপ

এইবেলা, হবিগঞ্জ, ১৮ অক্টোবর :- হবিগঞ্জে হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল সার্টিফিকেটের স্তূপ দিনে দিনে বাড়ছে। চলতি বছরের শেষ ৮ মাসে ১৯৩টি সার্টিফিকেট আটক রয়েছে। ফলে এ ঘটনা সংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বাদী ও বিবাদী পক্ষের লোকজন। বিপাকে রয়েছে পুলিশও। তারাও পারছে না তদন্তের প্রতিবেদন দিতে। এদিকে ঘটনাগুলোর মেডিকেল রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা বা ইউনিটে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ইতিমধ্যে সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখনও পর্যন্ত জেলায় ১৯৩টি মামলার তদন্ত মেডিকেল রিপোর্টের জন্য থমকে আছে। এর মাঝে সদর থানায় ৩০টি, মাধবপুরে ১৪টি, চুনারুঘাটে ১১টি, বাহুবলে ২২টি, শায়েস্তাগঞ্জে ৩টি, নবীগঞ্জে ৪২টি, বানিয়াচংয়ে ৫৫টি, আজমিরীগঞ্জে ১০টি এবং লাখাই থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। এর মাঝে মাধবপুর থানায় ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, বাহুবল থানার ১০ সেপ্টেম্বর এবং বানিয়াচং থানার চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারির মামলাগুলো সবচেয়ে পুরনো। শুধু মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্যই এ মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এতে বিচারপ্রার্থীরা মারাÍক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বাড়ছে মামলার জট। মেডিকেল রিপোর্টের বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মো. নাছির উদ্দিন ভূঁঞা যুগান্তরকে বলেন, মেডিকেল রিপোর্টের কারণে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন আমি প্রায়ই হয়ে থাকি। প্রতিটি আইন-শৃংখলা কমিটির সভায়ও আমাকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত উপজেলা হাসপাতালগুলো থেকে যে সার্টিফিকেট দেয়া হয় তাতে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। এগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকে না। কিন্তু জেলা পর্যায়ের সদর হাসপাতালে প্রতিনিয়তই আমি এ প্রশ্নের সম্মুখীন হই। কারণ প্রতিদিন আহত রোগী আসে ৪০ থেকে ৫০ জন। ভিকটিম আসে গড়ে ৫ থেকে ৬ জন। প্রতিদিনই গড়ে ১-২টি পোস্টমর্টেম থাকে। এ হাসপাতালে ৪০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছে মাত্র ২২ জন। আর জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করে শুধু আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) এবং ইএমও (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার)। এর মাঝে আরএমও পদ দুটির মাঝে একটিও নেই এবং ইএমও ৩টির মাঝে দুটিই শূন্য রয়েছে। এখানে একজন ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে একাই একাধারে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন, পোস্টমর্টেম, ভিকটিম পরীক্ষা এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হয়। প্রতিদিনের এত ঘটনার কারণে শুধু মেডিকেল সার্টিফিকেট দিন দিন জমতে থাকে। আর এ কারণেই বিলম্ব হয়। তাছাড়া এখানে আরএমওই নেই সার্টিফিকেট কিভাবে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, এ হাসপাতালে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ লোক ভর্তি থাকে। অথচ এটি ১শ শয্যার হাসপাতাল। শুধু ওভার লোডিংয়ের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র  জানান, এ পর্যন্ত ১৯৩টি মামলা শুধু সার্টিফিকেট না পাওয়ার কারণে তদন্ত শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এগুলোর জন্য বার বার আমরা তাগাদা দিচ্ছি, চিঠি দিচ্ছি, বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করছি। তারপরও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না কেন তা বলতে পারছি না। মেডিকেল সার্টিফিকেট যদি সময় মতো পাওয়া যেতো তাহলে তদন্ত আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। আরও সঠিকভাবে মানুষ ন্যায়বিচার পেত।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *