- ব্রেকিং নিউজ, সিলেট

স্বামীকে দ্বিখন্ড করলেন স্ত্রী

এইবেলা, সিলেট,  ১০ নভেম্বর ::  নিজ হাতে স্বামীকে দ্বিখন্ড করলেন স্ত্রী। এতেও ক্ষান্ত হননি তিনি। স্বামীর খন্ডিত দেহ ঘরে ও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা মাথা জঙ্গলে পূতে রাখেন।  সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়ার মোকামেরগুল এলাকায় চাঞ্চল্যকর  ঘটনাটি ঘটেছে। স্বামীর  লাশ গুমের চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হন ঘাতক স্ত্রী।

হতভাগ্য স্বামীর নাম আলী হোসেন (২৬)। তিনি মোকামেরগুল এলাকায় ঘাতক স্ত্রী পারভীন আক্তারকে (৩৬) নিয়ে বসবাস করছিলেন। আলী হোসেন গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে।

আলী হোসেনের ছোট ভাই জমির হোসেন ভাই নিখোঁজের বিষয়ে সোমবার ৯ নভেম্বর শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-৪২৭) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন অজ্ঞাত নাম্বার থেকে এক লোক মোবাইল ফোনে ভাইয়ের বন্ধু পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা জানায়।

সোমবার বিকেলে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে পারভীনকে আটক করে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (র.) থানা পুলিশ। এরপর পারভীনেরই দেওয়া তথ্য রাতে আলীর খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট সদর উপজেলার শাহপরান থানার দাশপাড়া এলাকার সুরুজ আলীর মেয়ে পারভীন আক্তার তিন বছর আগে পাথর ব্যবসায়ী আলী হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি আলীর তৃতীয় স্ত্রী।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পারভীন বেগম দাবি করেন, তার স্বামী আলী হোসেন তিন বিয়ে করেছেন। স্বামী প্রায় সময় তাকে নির্যাতন করতেন। স্বামীর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই নিজে স্বামীকে খুন করেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই কোপে স্বামীর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন ঘাতক স্ত্রী। স্বামীর দেহের  মাথাটি পার্শ্ববর্তী একটি টিলার গর্তে পুতে রাখেন। আর দেহ নিজের ঘরেই পূতে রাখেন। এরপর ৫ নভেম্বর রাতে মরদেহ রশি দিয়ে টেনে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে রাখেন।

হত্যাকাণ্ডের ছয় দিনের মাথায় সোমবার মোকামেরগুল বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে আলী হোসেনের মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীনকে আটককালে ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি রাম দা উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সোমবার রাতে শাহপরান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ফজলে মাসুদ উদ্ধারকৃত খণ্ডিত মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠান।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে নিহতের স্বজনরা জাফলং থেকে এসে শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে পারভীন বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশের কাছে স্বামী হত্যার বর্ণনা দেন তিনি।  তার দেয়া তথ্য মতে, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী টিলা থেকে খণ্ডিত মাথা ও মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। #


 

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *