- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, সিলেট, স্লাইডার

সিলেটের শিশু সাঈদ হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ১ জনের খালাস

এইবেলা, সিলেট, ৩০ নভেম্বর:: নির্মমভাবে খুন হওয়া সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায়ের ২২ দিন পর স্কুল ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার বিকাল পৌনে ৪টার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানালের বিচাকর আব্দুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দেশের আইন-আদালত ও বিচারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে এ হত্যা মামলাটি। মাত্র আট কার্যদিবসেই শেষ হয়েছে মামলার বিচারকার্য। আজ নবম কার্যদিবসে এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পুলিশ কনেস্টবলসহ তিনজনের ডাবল মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে আদালতের বিচারক আব্দুর রশিদ সাঈদ হত্যায় সিলেটের বিমানবন্দর থানার সাবেক কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুল, সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব, পুলিশের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদার ফাঁসির আদেশ দেন। এছাড়াও ওই মামলার আরেক আসামি ওলামা লীগ নেতা মাহিব হোসেন মাসুমকে খালাস প্রদান করেন তিনি।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রথমে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির জন্য দণ্ডবিধির ৭ ও ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। অন্যদিকে সাঈদকে অপহরণ করে হত্যার জন্য দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায়ও তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরো এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুল মালেক উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আসামিরা আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের সময় ওই হত্যা মামলার চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে রায় পড়ে শোনান আদালতের বিচারক আব্দুর রশিদ।

গত ১১ মার্চ নগরীর শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আবু সাঈদ (৯) অপহৃত হয়। অপহরণের তিনদিন পর ১৪ মার্চ নগরীর ঝর্ণারপাড় সোনাতলা এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুলের বাসার ছাদের চিলেকোটা থেকে আবু সাঈদের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার (ওসি-তদন্ত) মোশাররফ হোসেন।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন- সিলেটের বিমানবন্দর থানার সাবেক কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুল, সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব, পুলিশের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা এবং ওলামা লীগ নেতা মাহিব হোসেন মাসুম। অভিযুক্তদের মধ্যে এবাদুর, রাকিব ও গেদা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র আরো জানায়, শিশু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর বিপরীতে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর চার্জ গঠনের মাধ্যমে শিশু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক।

সর্বশেষ গতকাল রোববার অষ্টম কার্যদিবসে প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আদালতের পিপি অ্যাডাভোকেট আব্দুল মালেক। পরে আসামিপক্ষের সাতজন আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা ও পরদিন ১ ডিসেম্বর সর্বশেষ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে অবসরে যাবেন আদালতের বিচারক আব্দুর রশিদ।

প্রসঙ্গত, নিহত আবু সাঈদ সিলেট নগরীর রায়নগর শাহ মীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ও রায়নগর দর্জিবন্দ বসুন্ধরা ৭৪ নম্বর বাসার আব্দুল মতিনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এড়ালিয়াবাজারের খশিলা এলাকায়।

রিপোর্ট-খলিলুর রহমান

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *