ফেলানী হত্যার বিচার ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে :মরার আগে বিচার দেখতে চায় পরিবার  – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান বড়লেখার লন্ডন প্রবাসী জাকির পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা কুড়িগ্রামে আলহাজ পনির উদ্দিন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় নতুন বই বিতরণ পাহাড়ি রোমাঞ্চে মাতোয়ারা দৌড়বিদরা: কমলগঞ্জে সম্পন্ন হলো রাজকান্দি হিল ম্যারাথন কুলাউড়ায় বেশি দমে এলপিজি গ্যাস বিক্রি ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ছাতকে নাদামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন কমলগঞ্জে সংসদ নির্বাচনে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক কমলগঞ্জে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা মৌলভীবাজার-১ আসন- আচরণবিধি লঙ্ঘনে জাপা প্রার্থী রিয়াজকে শোকজ সুনামগঞ্জ–৫ বিলপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন শ্রীমঙ্গলে সাদিয়া’স আইইএলটিএস ফাউন্ডারের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

ফেলানী হত্যার বিচার ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে :মরার আগে বিচার দেখতে চায় পরিবার 

  • বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

Manual3 Ad Code

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

 ৭ জানুয়ারি সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে ছিল তার নিথর দেহ, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার।

Manual3 Ad Code

ঘটনার পর বিএসএফের বিশেষ আদালতে দুই দফা বিচার অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে উভয়বারই খালাস দেওয়া হয়। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহযোগিতায় ফেলানীর পরিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। তবে নানা কারণে সেই বিচারিক প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর পরিবার অভিযোগ করেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার কারণেই তারা ন্যায়বিচার পাননি। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের দরিদ্র নূরুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশ্যে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

Manual8 Ad Code

ভোর ৬টার দিকে ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে প্রথমে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকান নূরুল ইসলাম। এরপর ফেলানী কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় আধাঘণ্টা কাঁটাতারেই ঝুলে ছটফট করতে করতে মারা যায় কিশোরী ফেলানী। পরে সকাল পৌনে ৭টা থেকে তার নিথর দেহ দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে।

Manual3 Ad Code

ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে বিচার শুরু হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়। পুনর্বিচারের দাবিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে বিচার শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২ জুলাই আবারও তাকে খালাস দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুম ফেলানীর বাবার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটিও হয়নি। এরপর আর বিচার এগোয়নি।

ন্যায়বিচার না পেয়ে হতাশ ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, “ফেলানী হত্যার ১৫ বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পাইনি। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও বারবার শুনানি পিছিয়েছে। মরার আগে মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দেখে যেতে চাই। সামনে যেই সরকারই আসুক, ফেলানীর হত্যার বিচার যেন হয়।”

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, “অনেকবার বিচার চেয়েছি, কোনো ফল পাইনি। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। বর্তমান ইউনূস সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”

Manual7 Ad Code

স্থানীয়দের মতে, ফেলানী হত্যার বিচার নিশ্চিত হলে সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, “ভারত সরকার যদি দ্রুত এই আপিল নিষ্পত্তি করে এবং দায়ী বিএসএফ সদস্যকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, তাহলে ভারতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে এবং সীমান্ত হত্যাও কমে যাবে।”

১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ফেলানীর বিচার কাঁটাতারেই ঝুলে আছে, এমনটাই বলছেন তার পরিবার ও সচেতন মহল। #

সংবাদটি শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!