কুড়িগ্রামে মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদি আরবের সড়কে প্রাণ গেলো কুলাউড়ার যুবকের কুড়িগ্রামে মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে সুনামগঞ্জ–৫ এলাকাকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে চান- কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এমপি মৌলভীবাজার- কুলাউড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় ১ জন নিহত ওসমানীনগরে নকশী বাংলা’র রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ কমলগঞ্জের `ফাগুয়া’ উৎসবে মাতোয়ারা চা শ্রমিকরা কুলাউড়ায় দোকান ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ভারতীয় মহিষ পাচারকারিদের চক্রান্ত- বড়লেখায় মব সৃষ্টি করে বিজিবি সদস্যদের হেনস্থার অপচেষ্টা মৌলভীবাজারে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে এমপি নাসের রহমানের বৈঠক রাজনগরে তারেক হত্যাকান্ড :: চট্টগ্রাম থেকে ৩ আসামি গ্রেফতার

কুড়িগ্রামে মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে

  • বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

Manual2 Ad Code
মোঃ বুলবুল ইসলাম,  কড়িগ্রাম প্রতিনিধি ::
কুড়িগ্রামে ফেলে দেয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় বাড়তি আয়ে মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরছে।
মাছের আঁশ সাধারণত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেয়া হয়। অথচ এই মাছের আঁশ কয়েক বছর ধরে কুড়িগ্রামে মূল্যবান পণ্য মাছের আঁশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর কয়েকশ মণ মাছের আঁশ রপ্তানী করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই মাছের আঁশ সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ইলিশসহ হরেক রকম মাছের আঁশ চাহিদা বেশি। শুধু আঁশ নয় মাছের পেটে ফুলকা,কানসহ ফেলে দেয়া অনেক উচ্ছিষ্ট অংশেরও চাহিদা রয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেগুলো পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বছরে দুই থেকে তিনবার এই আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারের নিকট। প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় দুই হতে চার হাজার টাকায়। শুধু আঁশ নয় মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়। নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হয় মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের জাত অনুযায়ী আঁশের দাম ভিন্ন হয়। মাছের আঁশে প্রচুর পরিমাণে ‘কোলাজেন’ থাকে। যা খাদ্য,ওষুধ,ফুড সাপ্লিমেন্ট,কসমেটিকস,ওষুধ,ক্যাপসুলের খোসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ব্যাটারি, কৃত্রিম কর্নিয়া, বায়ো পাইজোইলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর, রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া,ব্যাটারি তৈরি, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাপান, চীনসহ ইউরোপে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার সুবাদে দিন দিন এটি লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে। মাছের আঁশ সংগ্রহের সাথে অনেক মানুষ জড়িযে পড়ছে। তারা বাজার থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বিক্রি উপযোগি করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। ফেলা দেয়া মাছের আঁশ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে মাছ কাটার শ্রমিকরা বাড়তি আয় করছেন। ঢাকা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের নিকট শুকনা আঁশ কেজি প্রতি ৬০ হতে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
রাজারহাট উপজেলার সুনীল চন্দ্র এবং দীলিপ কুমার বলেন, মাছের ব্যবসা করি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু মাছের আঁশের ব্যবসা গত বছর থেকে শুরু করেছি। এরআগে এই আঁশ ফেলে দেয়া হতো। কিন্তু আরডিআরএস বাংলাদেশের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন আর মাছের আঁশ ফেলে দেই না। প্রতিদিন মাছ ছিলানোর পরে আঁশ সংগ্রহ করে সেগুলো শুকিয়ে বছরে দুই -তিনবার বিক্রি করে থাকি। ১ মণ মাছের আঁশ কিনতে খরচ যায় ২০ থেকে ২৫টাকা। একমণ মাছের আঁশ শুকিয়ে এক কেজি পাওয়া যায়। সেগুলো ৬০হতে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে থাকি। এতে করে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে মাছের ফেলে দেয়া আঁশ থেকে।
খলিলগঞ্জ বাজার পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, বর্তমানে বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করে থাকি। একমাসে ২০ হতে ৩০ কেজি পর্যন্ত মাছের আঁশ হয়। এগুলো ধোঁয়া মুছা ও শুকিয়ে বছরে তিনবার বিক্রি করি ঢাকা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের কাছে। শুধু মাছের আঁশ নয়, মাছের নারিভূরি, পাকনা,মাছের পেটে থাকা বেলুন,মাছের মাথা হরমোন থাকে সেগুলোর বিক্রি করে থাকি।
মাছ কাটা শ্রমিক সজিব বলেন, দিনে বাজারে ২-৪মণ পর্যন্ত মাছ কাটা হয়। সেই মাছের আঁশ আগে আমরা শ্রমিকরা ফেলায় দিতাম। এখন আর দেই না। বিভিন্ন মহাজনের কাছে সেই আঁশ গুলো বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।
আরডিআরএস বাংলাদেশের এগ্রিকালচার বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় প্রায় দ্ইু বছর ধরে জেলার দুটি উপজেলায় ৬জন মৎস্যজীবিকে পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। উচ্ছিষ্ট এসব মাছের আঁশ সদস্যদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে পাইকারের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। জেলার অন্যত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ চলছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, মাছের আঁশ মানুষের রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে এছাড়াও সারাবিশ্বে কাঁচামাল হিসেবে মাছের আঁশ জনস্বাস্থ্যের এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই খাত ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্প পরিণত হতে যাচ্ছে। এজন্য মৎস্য বিভাগ মাছের আঁশের গুণগত মান ঠিক রাখতে কাজ করেছে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!