মে ১২, ২০১৫
Home » জাতীয় » ভৌতিক সাপ আতঙ্কিত মাদারীপুরবাসী !

ভৌতিক সাপ আতঙ্কিত মাদারীপুরবাসী !

এইবেলা, ডেস্ক ১২ মে :-
ঘুমের ঘোরেও সাপ দেখছেন মাদারীপুরবাসী! অনেক সময় স্বপ্নে সাপ দেখে চিৎকার দিয়ে জেগে উঠছেন। জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের মানুষ এখন অদৃশ্য সাপ আতঙ্কে দিন পার করছেন। আর এদের বেশিরভাগই নারী।
সাপের কামড়ের খবর প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আসছে। সাপের কাটা রোগীদের সন্ধান করতে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আবার কেউ কেউ নিজেদের সাপে কেটেছে বলে দাবি করলেও সাপে কামড়ের কোনো ক্ষত পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে অদৃশ্য সাপের কামড়ে শতাধিক লোক অসুস্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি মহল। তিন সপ্তাহ আগে বীরাঙ্গল গ্রামের আইয়ুব আলী মীরবহরের স্ত্রী পারুল বেগম (৩৫) সাপের কামড়ে মারা গেলে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের মুসারকান্দি, লুন্দি, হাসানকান্দি, মাঝকান্দি, সাতবাড়িয়া এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী, চরনাচনা, বাহাদুরপুর, কালীর বাজার, জাফরাবাদ, কালিকাপুর, দক্ষিণ বীরাঙ্গল, পশ্চিম বাহাদুরপুর, হবিগঞ্জ, মীরাকান্দি, রাধার বাড়ি, সৈয়দনুর, দুধখালি, ধুরাইল ইউনিয়নের ১১ গ্রাম, কুনিয়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামবাসীসহ ৩৭ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে গত চার দিন ধরে অদৃশ্য সাপ আতঙ্কে ভুগছেন।
এ ঘটনার পর রাজৈর থানার মোড় এলাকার কবিরাজ আবুল কালামের বাড়িতে সাপের বিষ নামানোর জন্য গ্রামবাসী ভীড় করছে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ কামানোর উদ্দেশ্যে এই গুজব ছড়াচ্ছে। জানা গেছে, ওই কবিরাজ বিষ নামাতে বকশিস নিচ্ছেন ৫০৫ টাকা করে।
লুন্দি গ্রামের আসাদুজ্জামান জানান, আমাদের গ্রামের জুলি, পারভিন, ভুলু, করিম মুন্সি, তামান্না ও আলীরাজকে এ অদৃশ্য সাপে কামড়িয়ে আহত করেছে। হাসানকান্দি গ্রামের মান্নান রহমানের স্ত্রী পারভীন বেগম, চরনাচনা গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম, সাতবাড়িয়া গ্রামের পরিমল বাড়ৈর স্ত্রী সবিতা বাড়ৈ নিজে অদৃশ্য সাপে কামড় দিয়েছে বলে দাবি করেন। তারা সবাই প্রায় একই ধরণের কথা বলেন। তারা বলেন, হঠাৎ দেখি শরীর কেমন যেন করছে, মাথা ঘুরছে, পায়ে জ্বালাপোড়া করছে। তখন বুঝেছি অদৃশ্য সাপে কামড় দিয়েছে। কবিরাজের কাছে গিয়ে বিষ নামিয়ে আসার পর আমরা এখন সুস্থ।
মাঝকান্দি গ্রামের আরেক গৃহবধূ জায়েদা বেগম বলেন, আমি আসরের নামাজ শেষ করা মাত্রই দেখি মাথা ঝিমঝিম করছে। পা জ্বলছে। তখন বুঝতে পারি অদৃশ্য সাপে কামড় দিয়েছে।
কালীর বাজারের মাওলানা আবু জাফর বলেন, এ ব্যাপারটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেণীর দুর্বল চিত্তের মানুষ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার মণ্ডল বলেন, মাদারীপুরের কোনো হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপে কামড়ের কোন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেনি। মূলত গুজব থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। হয়তো মশা কামড় দিলেও ভাবে সাপে কামড় দিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছি।
এ বিষয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন গুজব প্রবণ এলাকায় কাজ করবে। তারা জনবহুল এলাকায় সচেতনতামূলক কাজ করবে। এ ছাড়াও কারা গুজব ছড়াচ্ছে, কেন গুজব ছড়াচ্ছে সে বিষয়ও তদন্ত হবে।#