- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, সিলেট, স্থানীয়, স্লাইডার

বিশ্বম্ভরপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের আকুতি

এইবেলা, সুনামগঞ্জ ৩০ এপ্রিল :: “আমরা এহন খই যাইবাম, কার কাছেই বা যামু” দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এই কথা বলছিলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মেরুয়াখলা গ্রামে বাড়িঘর হারানো পঞ্চাশোর্ধ জমিলা খাতুন। ৩০ এপ্রিল শনিবার দুপুরে বসত ভিটার উপর খোলা আকাশের নীচে বসে এ কথা বলেন।
তিনি জানান, কালবৈশাখী ঝড় বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে তার একমাত্র অবলম্বন বসত ঘরটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নীচ তেরপালে কাপড় মুড়িয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জমিলা জানান, তার স্বামী নেই। বেশ আগে মারা গেছেন। ৩ ছেলের মধ্যে বড় দুই ছেলে বিয়ে করার পর পৃথক হয়ে গেছে। ছোট ছেলে স্বপন মিয়ার (২০) সঙ্গে আছেন। সে দিনমজুরী করে সংসার চালাচ্ছে। বড় দুই ছেলে কাঞ্চন ও কাজলও দিনমজুর তাদের বসত ঘরও ঝড়ে উড়ে গেছে।
একই অবস্থা এ গ্রামের জয়নাল মিয়া, লুৎফুর রহমান ও মুক্তার হোসেন জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে দুদিন ধরে এসব ঘরহারা মানুষ খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন।
দিনমজুর মুক্তার হোসেন জানান, তার পরিবারে ৪ জন সদস্য। এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে স্থানীয় ধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছেলে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ঝড়ে বসত ঘর উড়িয়ে নেয়ায় তাদের বইপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
এই গ্রামের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, মেরুয়াখলা গ্রামের ৫৬টি পরিবার এখন পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। দুদিন পেরিয়ে গেলেও ঘরবাড়ি হারানো লোকগুলো কোনত্রাণ সহায়তা পায়নি। এ ছাড়া এ গ্রামটিতে জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাননি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ জানান,  উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়ন, পলাশ ও ধনপুর ইউনিয়নের ঝড়ের দুদিন অতিবাহিত হলেও কোন ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশরে নীচে বসবাস করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) মোহাম্মদ তালুত জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা এক হাজার দুই শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির একটি খসরা তালিকা পেয়েছেন। দু এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ঝড়ে নিহত স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়েছেন। তার বাবা-মাসহ স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ টন চাল ও কিছু ঢেউটিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসন(সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানান, তিনি সংসদে থাকার কারণে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে পারেনি। রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। তবে ঘটনা শুনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সোমবার তিনি তালিকা নিয়ে ত্রাণ ও দূর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত জেলার বিশ্বম্বরপুর উপজেলার সলুকাবাদ, পলাশ ও ধনপুর ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়। এ ছাড়া ঝড়ে তানজিনা নামে এক স্কুলছাত্রী ঘরচাপায় মারা যায় ও ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে স্কুল ছাত্রীর ছোটভাই সিদ্দিক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিলেক কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।#

 

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *