মে ২২, ২০১৬
Home » জাতীয় » বড়লেখার সেই মাদ্রাসা শিক্ষককে এমপিওভূক্ত করতে অধিদফতরের তোড়জোড়

বড়লেখার সেই মাদ্রাসা শিক্ষককে এমপিওভূক্ত করতে অধিদফতরের তোড়জোড়

 নিয়োগে অনিয়ম ও মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ

এইবেলা, বড়লেখা, ২২ মে :: বড়লেখার চান্দগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ থাকা স্বত্ত্বেও এবার তাকে এমপিওভূক্ত করা হচ্ছে। গভর্ণিংবডির নিকট ‘কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো না’ মর্মে ব্যাখ্যা চাওয়ার ১০ মাস পর এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থার পরিবর্তে এমপিওভূক্তির মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃত করার তোজড়োড় চালাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদফতরের বিপরীতমূখী সিদ্ধান্ত কতটুকু বিধিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

জানা গেছে, চান্দগ্রাম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় ওহীদুজ্জামান চৌধুরী প্রায় ১৫ বছর পূর্বে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরবী প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। এরপর গত বছরের ৩ মার্চ উক্ত মাদ্রাসায় তিনি উপাধ্যক্ষ পদে জয়েন করেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নিয়ম রয়েছে। তিনি মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারাধীন ফৌজদারী জি-আর-২৬৮/১৩(বড়) নম্বর মামলার প্রধান আসামী। কিন্তু আরবী প্রভাষক ওহীদুজ্জামান চৌধুরী মামলার তথ্য গোপন রেখে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন। দুর্নীতির মাধ্যমে প্রথমে আরবী প্রভাষক ও পরবর্তীতে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেয়া ওহীদুজ্জামান চৌধুরীকে এমপিওভূক্ত না করতে এবং বিধিমোতাবেক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবীতে মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৮ মে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (বিশেষ) মোহাম্মদ নাসির হোসেন অভিযোগের তদন্ত শেষে তার এমপিওভূক্তির ফাইল স্থগিত করে কেন এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো না, কারণ জানতে ১২ জুলাই মাদ্রাসা গভর্ণিংবডিকে নির্দেশ দেন। ৪ মাস পর ১ নভেম্বরের সভায় সুস্পষ্ট নির্দেশনার দোহাই দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো না মর্মে গভর্ণিংবডি অধিদপ্তরে জবাব দাখিল করে। এর ৬ মাস পর গত ১০ মে শাস্তিমুলক ব্যবস্থার পরিবর্তে অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (বিশেষ) মোহছেনা বেগম অভিযুক্ত ওহীদুজ্জামান চৌধুরীকে উপাধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন।

বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী প্রবিধানমালা, ২০০৯ অনুযায়ী কোন শিক্ষক কর্মচারী ফৌজদারী অপরাধে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার, কারাগারে সোপর্দ কিংবা আদালতে আত্মসর্মপনের পর জামিনপ্রাপ্ত হলে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বলে গণ্য হন মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা স্বত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষককে এমপিওভূক্তির তোড়জোড় মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের বিপরীতমূখী সিদ্ধান্ত বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে অনিয়মের মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর এমপিও আবেদন ফাইল আটক থাকার ১৪ মাস পর তাকে এমপিওভুক্ত করতে চেষ্টা তদবির চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, অনেক সময় তদবিরের কাছে বিধিবিধান অসহায় হয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অদৃশ্য ইঙ্গিতে শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর এমপিওভূক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে।

চান্দগ্রাম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১৪ মাস ফাইল আটক থাকার পর গত ১০ মে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (বিশেষ) মোহছেনা বেগম ওহীদুজ্জামান চৌধুরীকে উপাধ্যক্ষ পদে এমপিওভূক্তির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ১৫ মে তার আবেদন ফাইল অনলাইনে অগ্রবর্তী করেছেন।  #

রিপোর্ট- বড়লেখা প্রতিনিধি