মার্চ ৩, ২০১৭
Home » জাতীয় » কুলাউড়ার হিঙ্গাজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ৩ শিক্ষকের ইন্ধন

কুলাউড়ার হিঙ্গাজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ৩ শিক্ষকের ইন্ধন

এইবেলা ডেক্স, কুলাউড়া, ০৩ মার্চ :: কুলাউড়া  উপজেলার হিঙ্গাজিয়া মাদরাসায় গত নভেম্বর মাস থেকে থেকে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মিছিল, মিটিং, মানবন্ধন আর প্রতিবাদ সভা নিয়ে ব্যস্ত। মাদরাসার ৩ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে উস্কানি দিয়ে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর মাদারাসার আলিম শ্রেণির আরবি ১ম পত্রের ক্লাসে আরবি প্রভাষক মো. শাহনুর খানের একটি বক্তব্য নিয়ে একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা শুরু করে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভুয়া আইডি খুলে চালানো হয় মিথ্যা অপপ্রচার।

বিষয়টি কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জের নজরে আসলে তিনি কুলাউড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে বিষয়টি তদন্তক্রমে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন।

মৌখিক তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য জানালে অভিযোগকারী ছাড়া একটি রিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেই লিখিত অভিযোগের জবাব দেন আরবী প্রভাষক। পরে বিষয়টি ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমদুদ আহমদ নিষ্পত্তি করে দেন।

হিংগাজিয়া সিনিয়র মাদরাসার আরবী প্রভাষক মোহাম্মদ শাহনুর খান অভিযোগ করেন, ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিষয়টি নিষ্পত্তির পর মাদারাসার সহকারি মৌলভী সায়েম আহমদ, আরবী প্রভাষক গোলাম সারওয়ার খান এবং এবতেদায়ী মৌলভী মো. ফয়জুর রহমানের উস্কানিতে বহিরাগতদের যোগসাজশে শিক্ষার্থীরা গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। মাদরাসার সহকারি মৌলভী সায়েম আহমদের সরাসরি নির্দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। যার প্রমান রয়েছে তার কাছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য জানতে মাদরাসার আরবী প্রভাষক গোলাম সারওয়ার খানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক শুনেই তিনি রঙ নাম্বার বলে ফোন কেটে দেন।

হিঙ্গাজিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মুনতাকিম জানান, বিষয়টি বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। তিনি দেশের বাইরে আছেন। দেশে আসার পর বিষয়টি সুরাহা হবে। এটা খুব গুরুতর কোন বিষয় নয়।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মমদুদ হোসেন জানান, তাঁর আগেও মাদরাসার অধ্যক্ষ বিষয়টি সমাধান করেন। কিন্তু ৩ শিক্ষক বিষয়টি মেনে নেননি। পরে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জের অনুরোধে মাদারাসায় গিয়ে বিষয়টি অবগত হই। ছাত্র শিক্ষকের লিখিত বক্তব্য নেয়ার পর ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিষয়টি সুরাহা হয় এবং বিশেষ মোনাজাতও করা হয়। এখন বিষয়টাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে শিক্ষককে মাদারাসা থেকে বহিষ্কারের একটা পায়তারা চলছে। এখনও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারত থেকে ফিরে এসে তদন্তক্রমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী গোলাম রাব্বী জানান, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। ভারত থেকে ফিরে আসার পর এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#