জুন ২১, ২০১৫
Home » কৃষি » কুলাউড়ার রাবার চাষীরা হতাশ-একসময়ের সাদা সোনা এখন গলার ফাঁস

কুলাউড়ার রাবার চাষীরা হতাশ-একসময়ের সাদা সোনা এখন গলার ফাঁস

এইবেলা . কুলাউড়া.  ২১ জুন :-

রাবারকে একসময় সাদা সোনা বলা হতো। দাম ছিলো আকাশ ছোঁয়া। হঠাৎ দরপতনে সেই সাদা সোনা এখন মানুষের গলার ফাঁস। বাগান মালিকরা এতটাই হতাশ যে, বাগান থেকে রাবার গাছ কেটে বিকল্প চিন্তা করছে।

Kulaura Raver garden-1

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সরকারি একটি রাবার বাগান রয়েছে। যার নাম ভাটেরা রাবার বাগান। এরপর সেই বাগানকে অনুকরণ করে কুলাউড়ায় বিভিন্ন কোম্পানী চা বাগানের পাশাপাশি রাবার বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। সেই তালিকায় রয়েছে এইচআরসি, ফিনলে, ডানকান এবং সিলেটের রাগীব আলীর কোম্পানী। আর ব্যক্তি মালিকানায় ২০-২২টি ছোট বড় রাবার বাগান গড়ে উঠে। এসব রাবার বাগানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতো। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাবার কেনাবেচা হত। এই শিল্পকে ঘিরে মানুষের স্বপ্নের পরিধিও বাড়তে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে রাবারের দরপতন জন্ম দিয়েছে চরম হতাশার। সেই হাতাশার মাত্রাটা এতই বেশি যে, হতাশ রাবার মালিকরা নিজেদের বাগানের গাছ কেটে তাতে অন্য কোন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।

 

Kulaura Raver garden-3
রাবার বাগান মালিকরা জানান, রাবার বাগান প্রতিষ্ঠার পর তারা প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৩৭৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর এখন সেই দাম নেমে এসেছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। মাঝে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে রাবার বাগান মালিকদের মাঝে দেখা দেয় চরম হতাশা। বর্তমানে উৎপাদিত রাবারে শ্রমিকদের বেতন দেয়াই দুষ্কর। এমন হতাশার কথা জানালেন বাগান মালিক আব্দুল মতলিব, আনার উদ্দিন, রুশন কামাল এবং সামা মিয়া এন্ড ব্রাদার্সের মালিকরা।
কুলাউড়া উপজেলা রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব নজিব আলী ও সাধারণ সম্পাদক একেএম শাহজালাল জানান, একসময় রাবার কৃষি পণ্য হিসেবে বিপনন হত। এরপর তা কৃষি পণ্য থেকে বাদ দিয়ে তাতে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট সংযুক্ত করা হয়। কুলাউড়ায় গড়ে উঠা সবক’টি রাবার বাগান মানুষের অনেক কষ্টের। সরকার থেকে এসব বাগান মালিকদের ব্যাংক ঋণ দিয়েও কোন ধরণের সহযোগিতা করা হয়নি। রাবার বাগান মালিকেদের এই চরম দুর্দিনে সরকারের উচিত বাগান মালিকদের কিছুটা হলেও সাপোর্ট দেয়া। নয়তো বাগান কেটে ফেলা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।#

রিপোর্ট- আব্দুল আহাদ            সম্পাদনা- আজিজুল ইসলাম