বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৯ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৯ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ২৮ অক্টোবর – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কমলগঞ্জে মসজিদের কমিটি নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-৩ কমলগঞ্জে ব্যবসায়ী নেতার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বড়লেখায় পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ইমামদের প্রশিক্ষণ কুলাউড়ায় এক ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন : মামলার বাদীসহ স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল  বড়লেখা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির মাসিক সভা কমলগঞ্জে প্রেম সংক্রান্ত জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু আহত কমলগঞ্জে আড়াই মাস পর শিশুধর্ষণ চেষ্টাকারী পুলিশের হাতে আটক মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর চেক বিতরণ তালিকায় অনিয়ম মুরগি-ডিমের টাকাও আত্মসাৎ করল এহসান গ্রুপ! বড়লেখা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির সভা

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৯ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ২৮ অক্টোবর

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৮২ বার পড়া হয়েছে

এইবেলা, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::

 বুধবার ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৯ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্তে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর পাক সেনাদের একটি ব্যাঙ্কারে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফেরার পথে পাক সেনাদের ছোড়া গুলিতে শহীদ হন বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামের সন্তান সিপাহী হামিদুর রহমান। যুদ্ধ অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া সিপাহী হামিদুর রহমান সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষদিকে কমলগঞ্জের ধলাই সীমান্ত এলাকায় প্রচন্ড যুদ্ধ চলছিল। চারদিকে চা বাগান, মাঝখানে ধলাই সীমান্ত চৌকি। ধলাই সীমান্ত চৌকি থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর শহরে ছিল মুক্তিবাহিনীর সাবসেক্টর ক্যাম্প। হামিদুর রহমান প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন।

সব প্রস্তুতি নিয়ে ২৮ অক্টোবর ভোর রাতে লেফটেন্যান্ট কাইযুমের নেতৃত্বে একটি দল পাক সেনাদের উপর চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমন চালায়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়। ব্যাপক গোলাবর্ষণে পাক সেনাদের ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। সামনে দুই প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শক্র অভিমুখে। শক্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিলো মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফলভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। সেই অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুইজন পাকিস্তানী সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রমণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন।

এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যোমে এগিয়ে যান, এবং  পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করতে সমর্থ হন। কিন্তু হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি, ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হামিদুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে। হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখন্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় এক পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের রক্তে ভেজা রয়েছে ধলই সীমান্ত। প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেসক্লাব ধলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পণ করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ধলই সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) পক্ষে স্থানীয়ভাবে একটি নাম ফলক স্বরুপ স্মৃতিস্তম্ভ¢ স্থাপন করা হয় বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান ধলাই সীমান্ত এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ধলই সীমান্তে ধলই চা বাগানের জমি অধিগ্রহণ করে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত আবেদনে ও এলাকাবাসীর দাবিতে ২০০৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের দেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

সেই অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করেন এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে শহীদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর এলে হামিদুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেসক্লাব তাঁর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তবে এ দিবসে কমলগঞ্জে আলোচনা সভার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়না।

আজ বুধবারও কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেসক্লাব বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পন করবে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews