পাউবির গাফলতিতে কমলগঞ্জে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭ স্থানে ধ্বস পাউবির গাফলতিতে কমলগঞ্জে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭ স্থানে ধ্বস – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে উদ্দীপন এনজিও’র ত্রাণ বিতরণ বড়লেখায় ৩০০ বন্যাদুর্গতকে ত্রাণ দিল এনসিসি ব্যাংক ভূঙ্গামারীতে অভিমান করে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে খেলার মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মৌলভীবাজারের একাটুনা ইউনিয়ন উন্নয়নে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ ওসমানীনগরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আত্রাইয়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ফুলবাড়ীতে শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ফুলবাড়ীতে বিএসএফের ধাওয়ায় নদীতে নিখোঁজ ভাইবোনের লাশ উদ্ধার  বড়লেখায় বানভাসিদের পাশে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

পাউবির গাফলতিতে কমলগঞ্জে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭ স্থানে ধ্বস

  • মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৫টি। এতে আতংক বিরাজ করছে নদী ঘেষাগ্রামবাসীর মধ্যে। যদিও ধস ঠেকাতে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা বাঁধ রক্ষায় সেচ্ছাশ্রমে গাছ ও মাটিভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার আপ্রান চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। পানি উন্নয়ন র্বোডও নামমাত্র কিছু এলাকায় বস্তা ফেলেছে।

মঙ্গলবার বিকালে ধলাই নদীর পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বাঁধে ধসে দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে। ঝুকিপুর্ণ বাঁধ সময়মতো মেরামত না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডেও গাফলতিকে দ্বায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ লাখ লাখ টাকা বরাদ্ধ হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকি ও অনিয়মের কারনে বাঁধের মেরামত কাজ সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

ধলাই নদী ও লাঘাটা নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৯ ও ২০২০ সালে লাঘাটা নদীর নি¤œাঞ্চল খনন ও ধলাই নদীর কয়েকটি বাঁক সংস্কার করা হয়। ফলে নদীতে প্রবল ¯্রােতের পরও এ যাত্রায় বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেল কমলগঞ্জবাসী।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার অন্যতম নদী ধলাইর উভয় পাশের ১২০ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধে রহিমপুর ইউনিয়ণের লক্ষীপুর, খুশালপুর, মুন্সীবাজারের সুরানন্দপুর, পৌর এলাকার গোপালনগর, দক্ষিন কুমড়াকাপন, রামপাশা, আলেপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি ও আদমপুরের ঘোড়ামারা এলাকায় রবিবার রাতে প্রতিরক্ষা বাঁধে ব্যাপক ধ্বস দেখা দেয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। তাছাড়া লক্ষীপুর, ঘোড়ামারা, সুরান্দনপুর এলাকায় মানুষজন বাঁধে মাটি ও বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার গোপালনগর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোডেরর্ নিমার্নৃকত বাঁধে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। ৬ ফুট প্রস্ত বাঁধটির প্রায় ৩ ফুট মাটি পানির তোড়ে ধসে পড়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও পানিতে ভেসে যায় ব্যাগগুলো। মঙ্গলবার সকালে দেখা যায় ধলাই্ নদীর পানি কমতে শুরু করায় মাটি ধসে পড়ছে। বাঁধটি নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই বাঁধ রক্ষা হবে না বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

গোপালনগর গ্রামের এরশাদ মিয়াসহ স্থানীয় গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, গোপালনগর এলাকায় ১ মাস আগে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান বাঁধ নির্মাণে দেরি করায় বাঁধের এই অবস্থা। বাঁধের কাজে নানা অনিয়ম হয়েছে। জিও ব্যাগে মাটি ওজন কম দিয়ে পানিতে বস্তা ফেলা হয়েছে। যার কারনে বাঁধটির মাটি ধস শুরু হয়েছে। অপর দিকে রহিমপুরের লক্ষীপুর, সুরান্দনপুর এলাকায়ও বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সেখানেও গ্রামবাসী সেচ্ছাশ্রমে বাঁধে মাটি কেটে ভরাট করা চেষ্ঠা করছেন। এছাড়াও পৌরসভার কুমড়াকাপন, আলেপুর, মাধবপুরের লঙ্গুরপার, হিরামতি, আদমপুরের ঘোড়ামারা এলাকায় ধসে দেখা দিয়েছে। ২/৩টি জায়গায় তাৎক্ষনিক সোমবার পানি উন্নয়ন র্বোড মাটি ও বস্তা দিয়ে বাঁধ মেরামত করতে দেখা গেছে। যদিও স্থানীয়দের দাবী ঝুকিঁপুর্ণ এলাকায় আগে মেরামতের উদ্যোগ নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

সুরান্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা খুবই ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছি। বাঁধটি ধসে পড়ছে। মাত্র ১ ফুট বাঁধ বর্তমানে আছে। আগে কাজ করালে এমন হতো না।

অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, কমলগঞ্জের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতে সরকারী ভাবে প্রায় কোটি টাকার বরাদ্ধ করা হয়েছে। ওই টাকাগুলো সঠিক ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট র্কমকর্তারা এলাকার কিছু প্রভাবশালীকে ঠিকাদার হিসাবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তাই কাজের মান ও সময় মতো কাজ হয় না বাঁধে।

মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ তরফদার বলেন, আমি নির্বাচিত হবার পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সুরান্দনপুর এলাকার ঝুকিপুর্ন বাঁধটি মেরামতের জন্য বলি। কিন্তু তারা সেই কাজ না করায় গত রোববার অর্ধেক বাঁধ বসে পড়েছে। যেকোন মুর্হুতে পুরোটা ভেঙ্গে যাবে।

কমলগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব পতনউষার ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান বলেন, বন্যায় প্রতি বছর ক্ষেত, বীজতলা, সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করি এবং সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি। পরে নদী খনন ও সংস্কার হওয়ায় কিছুটা হলেও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

ধলাই নদীর ১১টি স্থান ঝুঁকিপূণ স্বীকার করে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘দ্রুত বাঁধগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধলাই নদীর বাঁধ মেরামতে বড় ধরনের একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখানে আমাদের গাফলতি নেই এবং কোন অনিয়ম হয়নি।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরির্দশন করেছি। ধসে পড়া বাঁধগুলো মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ হয়েছে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews