বড়লেখায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা, সংঘর্ষ এড়াতে মিছিলে পুলিশের বাধা বড়লেখায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা, সংঘর্ষ এড়াতে মিছিলে পুলিশের বাধা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কুলাউড়ায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ৩ শীর্ষনেতা বোরো ধানের সোনালী শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন বড়লেখায় যুব ফোরামের অর্ন্তভূক্তিকরণ সভা রাজারহাটে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে স্থানীয় স্টেক হোল্ডারদের সাথে সংলাপ ওসমানীনগরে বিদ্যুৎপৃষ্টে স্যানেটারী মিস্ত্রির মৃত্যু বড়লেখায় গণশুনানি : গ্রাহক হয়রানীর দায়ে পল্লীবিদ্যুত আজিমগঞ্জ কেন্দ্রের ইনচার্জকে বদলির নির্দেশ কমলগঞ্জে শমশেরনগরে রেললাইনের পাশে অবৈধ পশুর হাট কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুর রহমানের সমর্থনে মতবিনিময় কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেহার বেগমের মতবিনিময় বড়লেখায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির ঈদ পুর্নমিলনী

বড়লেখায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা, সংঘর্ষ এড়াতে মিছিলে পুলিশের বাধা

  • রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

এইবেলা, বড়লেখা::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কমিটি বিলুপ্তের জেরে রোববার দিনভর ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মূখোমূখি অবস্থানে পৌরশহরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ ছাত্রলীগের উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে ছাত্রলীগের একাংশের অভিযোগ, বিকেলে তারা পৌরশহরে একটি আনন্দ মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা আহতও হয়েছেন। এই নিয়ে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

থানা পুলিশ, স্থানীয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী (আমীন) ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলা, পৌর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলা ছাত্রলীগ বরাবরে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। এদিকে কমিটি বিলুপ্তির প্রতিবাদে গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদের নেতৃত্বে বড়লেখা উপজেলা, পৌর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে পৌর শহরের উত্তর বাজারের ডাকবাংলো এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা প্রতিবাদ সভা করেন।

অন্যদিকে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্রলীগের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি’ বিলুপ্ত করায় জেলা ছাত্রলীগকে অভিনন্দন জানিয়ে বড়লেখা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (বিলুপ্ত কমিটি) তাওহিদুল ইসলাম ফরহাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একাংশ আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগের (বিলুপ্ত কমিটি) অপর গ্রুপ পৌরশহরের ডাকবাংলো এলাকায় পাল্টা অবস্থান নেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ও বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী ছাত্রলীগের দুইগ্রুপকে বুঝিয়ে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তখন মিছিল শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে (তাওহিদুল ইসলাম ফরহাদের গ্রুপের) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি-বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। মিছিলে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডবোকেট জিল্লুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আছকির আলী, সাবেক উপজেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক সামছুল ইসলাম টুকু, বড়লেখা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেহান পারভেজ অংশ নেন। পরে মিছিল করতে না পেরে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কটুক্তির প্রতিবাদে পিসি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (বিলুপ্ত কমিটি) তাওহিদুল ইসলাম ফরহাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর।

অপরদিকে বড়লেখা পৌরশহরের ডাকবাংলো এলাকায় বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের (বিলুপ্ত কমিটি) সভাপতি ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জালাল আহমদ, বড়লেখা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমদ, বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ময়নুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সুমন আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাকের আহমদ ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আলী হোসেন, বড়লেখা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ বিষয়ে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের (বিলুপ্ত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম ফরহাদ রোববার রাত নয়টায় মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আজকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের আয়োজন করেছিলাম। মূলত উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি’ বিলুপ্ত করায় জেলা ছাত্রলীগকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে কটূক্তির প্রতিবাদে আমরা মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করি। মিছিল চলাকালে পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে, আটকের চেষ্টা চালিয়েছে। আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে আমাদের কয়েকজনের হাত কেটে গেছে। কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ’পুলিশের বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা (ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ) অন্যপাশে লাটিসোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। পুলিশ আমাদের পেশার দিচ্ছে মিছিল না করতে। আমার বাড়ির সামনেও পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে পুলিশ বাধা দেবে কেন? তারা যখন (ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ) মিছিল করল তখন পুলিশ বাধা দিল না ? ঘুরেফিরে তারা ‘লাগাবাজার’ (উস্কানিমুলক) মিছিল দিল। পুলিশ তাদের বাধা দিল না। অথচ এই কমিটির মেয়াদ শেষ এবং বিবাহিত ও অছাত্র দিয়ে কমিটি চলছিল।’

উপজেলা ছাত্রলীগের (বিলুপ্ত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই কালো টাকার বিনিময়ে জেলা ছাত্রলীগ বড়লেখা উপজেলা, পৌর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছে। মূলত একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে জেলা ছাত্রলীগ সুসংগঠিত বড়লেখা ছাত্রলীগকে অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিলুপ্ত করেছে। এর প্রতিবাদে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। আজকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়-এমন কয়েকজন পৌরশহরে মিছিল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তারা মিছিলের আয়োজন করে। বিষয়টি শুনে আমরা পৌরশহরে অবস্থান নিই। মিছিলে যারা অংশ নিয়েছিল তাদের বেশিরভাগই বখাটে । এমনকি মাদক কারবারিরাও ছিল। পরে পুলিশ আমাদের সরে যেতে অনুরোধ করেছে। আমরা ডাকবাংলোর সামনে অবস্থান করেছি।’

বড়লেখা থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ শহরের পৃথক দুটি স্থানে অবস্থান নিয়েছিল। এতে উয়ভগ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুইগ্রুপ মুখোমুখি হলে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারত। তাই আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দুইগ্রুপকে সরিয়ে দিয়েছি। লাঠিচার্জের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews