কমলগঞ্জের ধলাই নদীর চর অপসারণে সরকারের গচ্ছা সাড়ে ৪ কোটি টাকা কমলগঞ্জের ধলাই নদীর চর অপসারণে সরকারের গচ্ছা সাড়ে ৪ কোটি টাকা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

কমলগঞ্জের ধলাই নদীর চর অপসারণে সরকারের গচ্ছা সাড়ে ৪ কোটি টাকা

  • শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ২৪২ বার পড়া হয়েছে

এইবেলা, কমলগঞ্জ ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর অপরিকল্পিত চর অপসারণের খনন কাজের কারণে সরকারের সাড়ে ৪ কোটি টাকা গচ্ছা গেলো। তবে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী গচ্ছা যাওয়ার কথা স্বীকার করতে নারাজ।

জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার বুকদিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীর গুরুত্বপূর্ণ বাঁক সমুহে বালীর চর জমে নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছিল। আঁকাবাঁকা ও ইউ আকৃতির ধলাই নদীতে অসংখ্য চর থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছিলো। অল্প বর্ষণেই উজানের পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদী ফুলে ফেঁপে উঠে। প্রবল স্রোতে বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিত। নদীর ভাঙনের কারণে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছিলো। ফলে বিপুল সম্পদ, ফসল বন্যার পানিতে বিনষ্ট সহ মানুষের বাড়ী-ঘর নদীর ভাঙ্গনের শিকার হতো।

কমলগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার খাল, জলাশয় ও নদী পুনর্খনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়ের) আওতায় মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা সমস্যা থেকে উত্তরণে ও ধলাই নদীর স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে বড় বড় ২২টি স্থান চিহিুত করে চর অপসারণ খনন প্রকল্প হাতে নেয়।

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজে ঢাকার আরাধনা এন্টারপ্রাইজ চর অপসারণ করার কাজ পায়। চর কাটার কাজের নির্দেশনাপত্র হলেও নানা জটিলতায় কিছুটা বিলম্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আংশিক কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রæয়ারি কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর (উজিরপুর) এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সংসদীয় আসনের সাংসদ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ২২টি বড় চর অপসারণ কাজ করলেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত চর খননের কারণেই অপসারণকৃত চর এলাকায় পুণরায় আগের চেয়ে আরো বড় আকারে চর জেগে উঠেছে। নতুন করে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে নদীর পাড়ে বসবাসকারী ও স্থানীয় কৃষকরা। মাঝপথে সরকারের গচ্ছা গেছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার উপরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, চর অপসারণের সাথে সাথে যদি জ্যাম্প করা হতো তবে এত তাড়াতাড়ি পুনরায় চর ভরাট হতো না।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তীর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম থাকায় এবং নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে পুনরায় চর দিয়েছে। আমরা যতটুকু কাজ পাব ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে ততটুকুই বিল দেব। যার কারণে সরকারী টাকা গচ্ছা যাওয়ার কোন শ্রে-নেই। হ্যাঁ, যদি সাথে সাথে জ্যাম্প দেয়া যেত তবে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যেত।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews