কুলাউড়ায় ৩০ একর বনের বাঁশ কাটা নিয়ে খাসিয়া ও বনবিভাগের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য কুলাউড়ায় ৩০ একর বনের বাঁশ কাটা নিয়ে খাসিয়া ও বনবিভাগের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের বাসমাশিসের নগদ অর্থ সহায়তা বন্যায় বীজতলার ভুমি নিমজ্জিত-বড়লেখায় বিকল্প ব্যবস্থায় ৪৮ বিঘা জমিতে রোপা আমনের চারা উৎপাদন কুলাউড়ার ভুকশিমইল ইউনিয়ন- দু’টি প্রকল্পের কাজ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ কুলাউড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্বশুড় ননদ আটক ফুলবাড়ীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ   কুলাউড়ায় চা শ্রমিকদের ভূখা মিছিল সাংবাদিক আব্দুল বাছিত খানের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে জুড়ীতে মানববন্ধন দায়সারাভাবে শোকদিবস পালন-বড়লেখায় চার প্রধান শিক্ষককে শোকজ বড়লেখায় চাচা-ভাতিজার ঝগড়া থামাতে গিয়ে হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেন বৃদ্ধা কমলগঞ্জ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

কুলাউড়ায় ৩০ একর বনের বাঁশ কাটা নিয়ে খাসিয়া ও বনবিভাগের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

এইবেলা, কুলাউড়া ::

কুলাউড়া উপজেলায় দুটি বাঁশমহালের প্রায় ৩০ একর জায়গার বাঁশ কেটে সাবাড় করছে ভূমিখেঁকো একটি মহল। সামাজিক বনায়নের নামে বনবিভাগের সহযোগিতায় মহালের এসব বাঁশ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে বনবিভাগ এসব ঘটনার জন্য খাসিয়াদের দায়ী করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ার বেগুনছড়া ও লবণছড়া বাঁশমহালের প্রায় ৩০ একর জায়গায় গত ৩-৪ মাসে মুলি ও মাকাল প্রজাতির বাঁশ কেটে ফেলেছে একটি মহল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লক্ষাধিক টাকা হবে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, মুলত এসব বাঁশ কেটে পরিস্কার করে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির খাসিয়া সম্প্রদায় পানজুম করার পায়তারা করছে।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাসিয়ারা জানান, স্থানীয় বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সামাজিক বনায়নের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের দিয়েই এসব বাঁশ কর্তন করাচ্ছেন। আর কর্মধা ইউনিয়নের জনৈক মেম্বার হচ্ছেন এর মূলহোতা।

খাসিয়াদের অভিযোগ, বাঁশ কর্তনের বিষয়টি বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারকে জানালেও তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় খাসিয়াদের উপর দোষ চেপে অযথা তাদের দায়ী করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বেগুণছড়া বাঁশমহালের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের কয়েক একর জায়গায় মুলি ও মাকাল বাঁশ কেটে একেবারে সাবাড় করা হয়েছে। কাটা বাঁশ শুকিয়ে গেলে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এভাবে এক সময় মহালে আর বাঁশ উজাড় হয়ে যায়। ফলে একদিকে পরিবেশ তার ভারসাম্য বিনষ্ট হয়, অন্যদিকে সরকার বড় ধরনের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, নলডরি বিট কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অর্জুন কান্তি দস্তিদারের সহযোগিতায় এর আগেও ছোটকালাইগিরি, বড়কালাইগিরির মহাল থেকে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাঁশ ও গাছ সাবাড় করা হয়েছে।

খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন আরও অভিযোগ করেন, ওই বন কর্মকর্তার যোগসাজশে এবং সহায়তায় বন একেবারে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে বেগুনছড়া, লবণছড়ার বাঁশ মহাল ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মুল্যবান গাছ। অর্জুন কান্তি দস্তিদার অযথা খাসিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের অযথা হয়রানি করেন।

এব্যাপারে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি সংগঠন কোবরাজ আন্ত:পুঞ্জির খাসিয়া সম্প্রদায়ের নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং জানান, খাসিয়ারা বাঁশ কাটার সাথে জড়িত নয়। মুলত বনবিভাগ স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে এসব বাঁশ মহাল উজাড় করছে। তাদের এসব অপকর্ম আড়াল করতে খাসিয়াদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

অভিযোগ সম্পর্কে নলডরি বিট কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অর্জুন কান্তি দস্তিদার জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাঁশমহালের কয়েক একর জায়গা খাসিয়ারা জবর-দখল করে রেখেছেন। তিনি সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে সেখানে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, জবর-দখলকারী খাসিয়াদের বিরুদ্ধে ২০ অক্টোবর কুলাউড়া থানায় এবং ১৭ অক্টোবর মৌলভীবাজার কোর্টে পৃথক মামলাও দায়ের করেছেন।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বনাঞ্চলসহ মহালের বাঁশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। বেগুনছড়া বাঁশমহালের বাঁশ সাবাড় হওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো, যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews