কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা- ২ বছরেও পুর্নাঙ্গ হয়নি আ’লীগের কমিটি কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা- ২ বছরেও পুর্নাঙ্গ হয়নি আ’লীগের কমিটি – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা- ২ বছরেও পুর্নাঙ্গ হয়নি আ’লীগের কমিটি

  • রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

এইবেলা, কুলাউড়া ::

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের ২ বছর অতিবাহিত হলেও ঘোষণা হয়নি পুর্নাঙ্গ কমিটি। ফলে দলীয় কর্মকান্ড পালিত হচ্ছে দায়সারাভাবে। হতাশা ও ক্ষোভ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে। আর এই পরিস্থিতির জন্য জেলা নেতাদের দায়ী করছেন তৃণমুল নেতারা।

২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনের ২ বছর অতিবাহিত হলেও পুর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়া হতাশ নেতাকর্মীরা। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পুর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায় নির্বাচনে তার একটা প্রভাব পড়বে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথকভাবে জেলা আওয়ামী লীগের নিকট কমিটি জমা দিয়েছেন। ফলে কমিটি চুড়ান্ত করতে জেলা নেতৃবৃন্দও রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তাছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতির কমিটিতে লোক আন্তর্ভূক্তির একটা চাহিদা রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম জানান, পুর্নাঙ্গ কমিটি তালিকা পাঠানা হয়েছে। খুব শীগ্রই তা প্রকাশিত হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদেও পছন্দমত কমিটি জমা দিয়েছেন। আমি কিছু জানি না। তবে জেলা নেতৃবৃন্দ আমাকে আশ্বস্থ করেছেন গ্রহণযোগ্য কমিটি দেয়া হবে।

এদিকে রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির খান দীর্ঘ ২৩ বছর টানা নেতৃত্ব দেন। চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি আছকির খান ও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ২৪ মার্চ মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই মারা যান। এই দুই বর্ষিয়ান রাজনীতিকের মৃত্যুতে রাজনগর আওয়ামী লীগে শুন্যতা দেখা দেয় ।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগে অতীতে দলীয় কোন্দল ছিলো। কিন্তু দলের স্বার্থে ২ নেতা আবার এক টেবিলে বসেছেন সবকিছু ভুলে। কিন্তু ২০১৯ সালে ০৭ ডিসেম্বর দলের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে হঠাৎ করেই দলীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হয়। এই মেরুকরণে নেতৃত্ব দেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও মনসুর নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন বখত। ২০১৯ সালের ১৮ মার্চে আগে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির খান। উপজেলা পরিষদে স্বার্থের দ্বন্দ্বে মিলন বখতের নেতৃত্বে দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা তখন বিরুদ্ধাচরণ করেন । এমনকি অনাস্থা প্রস্তাবও আনেন। বিতর্কিত অবস্থায় তখন উপজেলা চেয়ারম্যান আছকির খান অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েন। সেই সুযোগকে দলীয় রাজনীতিতে কাজে লাগান মিলন বখত। আছকির খানকে মাইনাস করে মিসবাহুদ্দোজাকে সাথে নিয়ে দলীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মিলন বখত।

২০১৯ সালের ০৭ ডিসেম্বর দলের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাবেক সভাপতি মিসাবাহুদ্দোজাকে সভাপতি ও মিলন বখতকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি গত ২ বছরে পুর্নাঙ্গ হয়নি। দু’জন সর্বস্ব কমিটির সভাপতি মিসবাহুদ্দোজা ভেলাই গত ২৪ মার্চ মারা যান। ফলে সাধারণ সম্পাদক মিলন বখত একমাত্র ব্যক্তি যিনি দলের বৈধ পদবীধারী।

দলের এই দুরবস্থার জন্য রাজনগরের তুণমুল নেতারা দায়ী করেন জেলা নেতৃবৃন্দকে। নামপ্রকাশ না করে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলীয় কর্মী সমর্থকরা জানান, জেলা সভাপতি নেসার আহমদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মিসবাউর রহমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ১ম যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমান মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র, ৩য় যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। সবাই ব্যস্ত ক্ষমতাযুক্ত পদ পদবী নিয়ে। দলের চিন্তা এখন তাদের মাথায় নাই।

আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ বখস জানান, দলের ২ বর্ষিয়ান নেতা মারা গেলেন। কেউ একটা শোকসভার আয়োজন করলো না। দলে স্থবিরতা এসেছে। এখন রাজনগরে কত প্রকারের আওয়ামী লীগ আছে। নব্য আওয়ামী লীগ, হাইব্রীড আওয়ামী লীগ, মুখোশধারী আওয়ামী লীগ, সুযোগ সন্ধানী আওয়ামী লীগ রয়েছে। ফলে দলে প্রকৃত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় না।

সাবেক প্রচার সম্পাদক সাদিকুর রহমান বলেন, সভাপতি মারা যাওয়ার পর ২ জনের এই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বৈধতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। গত ৬ মাসে কমিটির এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নাই। দলে নব্য যোগদানকারীরা দলের কর্মকান্ড চালাচ্ছে। আর প্রকৃত নেতাকর্মীরা হতাশা নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল আহমদ তায়েফ বলেন, পৌরসভা নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন এসব খোঁড়া অযুহাতে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। নেতাকর্মীরা দলের এই অবস্থা দেখে হতাশ।
এব্যাপারে রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনসুর নগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত বলেন, দলে এখন আমি একলা। সেক্রেটারি হিসেবে যতটা পারছি ততটাই চালাচ্ছি। জেলা নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান করবেন। এছাড়া সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নেত্রীর সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসবাউর রহমান জানান, কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এতদিন করোনার কারণে পুর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। ##

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews