কুলাউড়ায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মন্দিরে এলেন বিতর্কিত গুরুমহারাজ : এলাকায় উত্তেজনা কুলাউড়ায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মন্দিরে এলেন বিতর্কিত গুরুমহারাজ : এলাকায় উত্তেজনা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় সামাজিক বনায়নের অর্ধশত গাছ কাটার অভিযোগ বড়লেখায় ৩শ’ টিলা ধ্বসে দু’সহস্রাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত বড়লেখা আদালত ভবন ধসে পড়ার শঙ্কায় : ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য ঈদের আগে শতভাগ বোনাসসহ চাকরী জাতীয়করণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ভূরুঙ্গামারীতে জমতে শুরু করেছে কোরবানির হাট কমলগঞ্জে এক রাতে ৪ দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি বড়লেখা দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু শিক্ষক হত্যা ও লাঞ্চনার প্রতিবাদে কমলগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ বড়লেখায় সাংবাদিকদের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময়, বন্যার্তদের ত্রাণের কোন সংকট নেই

কুলাউড়ায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মন্দিরে এলেন বিতর্কিত গুরুমহারাজ : এলাকায় উত্তেজনা

  • বুধবার, ১ জুন, ২০২২

আজিজুল ইসলাম :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সিটিএস মন্দিরের গুরু মহারাজ প্রদীপ বিশ^াসের অবস্থান নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের দুই মহারাজের আধিপত্যের দ্বন্দ্ব ও দানের অর্থের আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে মন্দির থেকে নির্বাসিত ছিলেন গুরু মহারাজ প্রদীপ বিশ^াস। গত সোমবার (৩০ মে) রাতে পুলিশী প্রহরায় প্রদীপ মন্দিরে অবস্থান নিলে দু’পক্ষের মধ্যে ফের চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

মন্দিরে যাতে কোন অস্থিতিশীল ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য থানার একজন উপ পরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছে। মন্দিরে বন্ধ রয়েছে পূণ্যার্থী এবং সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ ও পূজা অর্চনা। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রদীপ বিশশ্বাস ভারতের কলকাতা নদিয়া পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা (পাসপোর্ট নং জেড ২৬০৮১৫৮) পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ভারত থেকে ব্যবসায়ীক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। দেশে এসে ধর্মযাজক হিসেবে পরিচিত করতে সিটিএস মন্দিরের গুরু মহারাজ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন প্রদীপ। প্রদীপ বিশ^াসের সাথে তাঁরই শিষ্য ওই মন্দিরের আরেক মহারাজ দামোদারের বিরোধ চলছিলো। এ ছাড়াও মন্দিরের দানে প্রাপ্ত টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকে অভিযোগ করা হয় প্রদীপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবং দেবোত্তর সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মন্দিরের গুরু মহারাজ প্রদীপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তাঁর এমন কর্মকান্ডে স্থানীয় সনাতন ধর্মলম্বী ও মন্দিরের ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে কয়েক মাস ধরেই মন্দির থেকে বাহিরে ছিলেন প্রদীপ বিশ্বাস।

সিটিএস মন্দিরের এমন অরাজক পরিস্থিতিতে গত ৬ এপ্রিল দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বৈঠকে বসে উপজেলা প্রশাসন। সেই সভায় মন্দিরের আর্থিকসহ পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়াও থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা, কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষসহ দুই মহারাজের পক্ষের ৪জন করে সদস্য এই কমিটিতে রাখা হয়। ওই কমিটি পরবর্তীতে মন্দিরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনসহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ওই কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তকে না মেনে প্রদীপ বিশ^াস মন্দিরের বিভিন্ন বিষয়সহ মন্দিরের অধ্যক্ষ দামোদার মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে। বিষয়টি নিরসনে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে। ২২ মে পুলিশের এই কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্তের জন্য কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে গত ৩০ মে সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই দিন দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ হয় মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় এই সাক্ষ্যগ্রহণ করেন এবং সিদ্ধান্ত দেন সিটিএস মন্দিরে অবস্থান করবেন প্রদীপ বিশ্বাস। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে।

সরেজমিন বুধবার দুপুরে পুষাইনগরের সিটিএস মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরের প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে থানার এস আই বিপ্রেশ রঞ্জন দাসের নেতৃত্বে পুলিশ পাহারায় রয়েছে। এসময় বিষয়টি নিয়ে গুরু মহারাজ প্রদীপ বিশ্বাসের সাথে কথা বলতে চাইলে তাঁর সেবক জানান অভিযুক্ত গুরু মহারাজ ভজনে আছেন। এখন কোন কথা বলবেননা।

মন্দিরের অধ্যক্ষ দামোদার মহারাজ বলেন, গত ৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুই পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়। এটা মন্দিরের গুরু মাহারাজও মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সিলেটের ডিআইজি বরাবরে আবেদন করেন। সোমবার দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় আমাদের দুইজনকে ডেকে নিয়ে জানান গুরু মহারাজ এখন থেকে মন্দিরে থাকবেন এবং আগামী তিনদিনের মধ্যে দুই পক্ষের একটি কমিটি দেওয়ার জন্য বলেছেন।

মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুদর্শন কুমার রায় জানান, মন্দিরের দুই মহারাজ যাতে সম্মিলিতভাবে তাদের ভক্তদের নিয়ে মন্দির পরিচালনা করে সেই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত ১৩ সদস্যে কমিটির মধ্যে দুই পক্ষের ১০ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ নেয়া হয়। মন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা ও মন্দির পরিচালনার জন্য আলাদা আলাদা কমিটিতে কারা থাকবে সেই সকল ব্যক্তিদের নামের তালিকা আগামী শনিবারের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরকে ঘিরে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন অবনতি না হয় সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, আমরা দুই পক্ষের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দসহ সনাতন দর্মালম্বী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গুরুত্বসহকারে বিষয়টি নিরসনে কাজ করবো। এ নিয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাত্যয় না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি রাখছি।

সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার (ক্রাইম) জানান, ডিআইজি কার্যালয়ে সিটিএস মন্দিরের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ আসলে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়কে দায়িত্ব দেই বিষয়টি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমঝোতার ভিত্তিতে নিরসনের জন্য। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। দুই মহারাজের দ্বন্দ¦ নিরসন করে মন্দিরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews