করোনা পরিস্থিতি ও আমার উপলব্ধি – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জুড়ীতে কৃষক কার্ড পেলেন ৮২১ জন বড়লেখায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাজমিস্ত্রি নিহত স্বপ্ন থেকে সফল উদ্যোক্তা আত্রাইয়ের শফিকুল ইসলাম মৌলভীবাজারে জেলা কাজী সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বিজিবির বিশেষ অভিযান- বিয়ানীবাজারে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক উদ্ধার কমলগঞ্জে গ্রামবাংলা সমাজকল্যাণ পরিষদের বিনামূল্যে চক্ষু শিবির : ৫ শতাধিক রোগকে সেবা প্রদান বীজ ও সার বিতরণ সভায় এমপি নাসির- বড়লেখায় ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি আবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ আত্রাইয়ে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের অভিযোগ কমলগঞ্জ ধলাই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন : একজনের কারাদণ্ড ৪ ট্রাক জব্দ নাগেশ্বরীতে মসজিদের নামে টিআর প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

করোনা পরিস্থিতি ও আমার উপলব্ধি

  • সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

Manual3 Ad Code
Manual5 Ad Code

মোঃ ফয়সাল মিয়া ::


কতদিনপর কলম হাতে নিলাম সঠিক মনে করতে পারবো না , লেখালেখি করার অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই ছিলো কিন্তু মায়ের অকাল প্রয়াণ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়াতে লম্বা বিরতি । সাম্প্রতিক সময়ে সারাবিশ্ব যে মহামারীর সাথে যুদ্ধ করছে এবং আমরা যেভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনাবসানের খবর শুনছি- এরকম একটা পরিস্হিতিতে কতগুলো কঠিনতম উপলব্দি হলো যা পাঠকের সাথে ভাগাভাগি করার প্রবল ইচ্ছা থেকে এই লেখা –

উপলব্দি -০১ : একটি অদৃশ্য ভাইরাস ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

আমরা বিজ্ঞানের কতশত আবিষ্কার দেখেছি এবং প্রতিনিয়ত খবর পাচ্ছি কিন্তু একটি অতি ক্ষুদ্র ভাইরাস পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে । প্রতিষেধক হিসেবে এখন পর্যন্ত কোন পথ্য আবিষ্কার করতে পারেনি । এরই মধ্যে (আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন পর্যন্ত ) প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশী মানুষের প্রানহানি ঘটেছে । এই তালিকার মধ্যে শতশত চিকিৎসক আছেন যারা জীবদ্দশায় অনেককে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং যাদের চিকিৎসার উপর ভর করে সুস্থতার আশায় মানুষ যেত কিন্তু সেই ডাক্তারগণ আজ লাইনধরে মৃত্যুর কাতারে । সত্যি মন ভয়ে কুকঁড়ে যায় যখন দেখি আমার যার কাছে পথ্য নিতে যাব সে আমার আগেই একই কারণে মৃত্যুর মিছিলে , কার কাছে যাবো আমি আক্রান্ত হলে । এ থেকে একটা কথার নির্মম উপলব্দি হলো – “সকল ক্ষমতার মালিক সৃষ্টিকর্তা” যদিও মিথ্যে আধুনিকতা ও তথাকথিত বিজ্ঞানে ডুবে আমরা অনেকে এটা মানতে চাই না । আমরা এটা করে ফেলেছি ওটা করে ফেলেছি – কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ন ভিন্ন। আমরা মিথ্যে আধুনিকতা নয় আবার ধর্মান্ধতাও নয় , ধর্মের সঠিক জ্ঞান নিয়ে চলি ।


উপলব্ধি :০২ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্হান বিগত কয়েক দশকে আমরা বিশ্বে ছোট ছোট কিছু যুদ্ধ ও ক্ষমতার লড়াই দেখেছি এবং শুনেছি , এতে নিরপরাধ লোক প্রাণ হারিয়েছে ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আর করোনা পরিস্তিতির কারণে আমরা কত লোকের প্রাণ হারালাম ! বিশেষ করে গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপর এর প্রভাব কি ভয়াবহ, ভয়জাগানিয়া তা সহজেই অনুমেয় ।
Manual6 Ad Code

সারা বিশ্বের শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষ গুলো দিনে দিনে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়েছে, কমবেশী বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কর্মজীবী মানুষ আজ কর্মহীন । লাখ লাখ কোম্পানী -ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ও বাংকের অনাদায়ী দেনার পরিমান পাহাড়সম বোঝায় রুপান্তরিত হচ্ছে । গতকাল থেকে আগামীকাল আরও ভয়াবহ । এমতাবস্তায়, করোনা মহামারী থেকেও সত্যিকারের মহামারী (না খেয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ) আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ।
এখন শুধু সরকার নয় আমাদের সকলকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ যুদ্ধে নামতে হবে, যার যার অবস্হান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি যদি পারি তাহলে কাউকে এক বেলা খাইয়ে, কাউকে একটা চাকরি দিয়ে, কাউকে একটু চিকিৎসা খরচ দিয়ে, কাউকে একটু ভালোবাসা দিয়ে কাছে দাঁড়াই -কে জানে আগামীকাল আমরা বেঁচে নাও থাকতে পারি । অন্যের জন্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার সুখ তৃপ্তিদায়ক এবং নিশ্চিতভাবে পরকালের পুঁজি ।


উপলব্ধি:০৩ আমরা ঘরে বন্দী হলাম এবং বিপন্ন প্রকৃতি জেগে উঠলো বাংলাদেশে করোনা রোগের সনাক্ত হওয়ার ফলশ্রুতিতে মার্চ মাসের শুরুর দিকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শেষের দিকে সকল অফিস আদালত, কল-কারখানা ছুটি এবং বাইরে বের হবার উপর শর্তারোপ করার কারণে আমরা (মানুষ) সৃষ্টির সেরা জীব ঘরে বন্দী হলাম । কেন জানি মন বলে প্রকৃতি আমাদের উপর বিরক্ত ও হতাশ হয়ে করোনা দিয়ে ঘরে আটকালো, যদিও আমার অবচেতন মনের কল্পনা মাত্র ।

এখন দেখেন আমরা ঘরে বন্দী হওয়ার ফলে কি হলো – যেখানে করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে দিল্লি ও ঢাকা পাল্লা দিয়ে কখনও দিল্লি সবচেয়ে দূষিত শহর আবার কখনও ঢাকা সবচেয়ে দূষিত শহর এটাই চলছিল । এই দূষন কোন অংশেই ভাল কিছু ছিল না আমাদের স্বাস্হ্যের জন্য । কিন্তু যখনই সরকারের লক ডাউন ঘোষণা করলো আমরা গৃহবন্দী হলাম তার কিছুদিন পর আমার এক সাবেক কলিগ ও খুবই কাছের ছোট ভাই আমাকে ঢাকার air quality index এর রুপান্তরের গল্প শুনালো । কিভাবে এটা worst থেকে moderate এবং good/better -এর দিকে যাচ্ছে- এটা খুব চোখেপড়ার মত গতিতে রুপান্তর হয়েছিল ।

এবার তাহলে বুঝেন আমরা প্রকৃতিকে কতটা শাসরুদ্ধকর জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম । ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক দশক পর কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে ডলফিনের লম্পজম্প দেখা গেলো । আহা! যে প্রকৃতি আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে, সে প্রকৃতির জন্য আমরা কতটা হুমকি , পক্ষান্তরে আমরা কতটা আত্নঘাতীও।

যতবার সাইক্লোন , ঘূর্ণিঝড় নানান বিচিত্র নামে হানা দিয়েছে ততবারই আমাদেরকে সুন্দরবনের প্রকৃতি দেয়াল হয়ে দাড়িয়ে আমাদেরকে বাঁচিয়ে ছোট ।আসুন পারলে একটা গাছ লাগাই আর যেন একটা গাছও ধ্বংস না করি এবং নিজেকে উজাড় করে প্রকৃতিকে ভালবাসি । আগামী প্রজন্ম সবুজে বেড়ে উঠুক ও প্রকৃতির সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করুক ।
উপলব্ধি:০৪ করোনা পরিস্তিতি ও মানবিক হয়ে উঠা প্রতিনিয়ত অবিরাম ছুটে চলা অন্তহীন পথে । হঠাৎ করোনা আমাদের সব ছুটোছুটি বন্ধ করে দিয়ে চার দেয়ালে আটকে দিল । চোখের সামনে দেখতে পেলাম প্রবীন, নবীন সহ অনেক প্রিয় ও সম্ভাবনাময় প্রাণের অকাল প্রয়াণ ।

এর মধ্যে কাউকে কাউকে মৃত্যু শয্যায় থেকেও শুনতে হলো কঠোরতম ভৎর্সনা অতীত কৃতকর্মের জন্য , আবার কারো জন্য ক্রন্দনরত প্রার্থনা । কথিত আছে আমাদের কৃতকর্মের ফল পরকালে নিশ্চিতভাবেই ভোগ করবো , তবে তার কিয়দংশ এখানেও ভোগ করতে হয় । শত শত কোটি টাকার সম্পদ রেখে একেবারে একা সাড়ে তিন হাত সাদা কাপড়ে প্যাঁচিয়ে বিদায় । চলে যেতে হয় হবে সব ফেলে রেখে ।

এই চরম সত্য জানা সত্ত্বেও আমরা ধীরস্থির ভাবে চলতে পারি না – আমাদের “লাগামহীন অস্তিরতা “ও” সব খেয়ে ফেলবো” মানসিকতা কখনো আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেয় না , আমাদেরকে ঠেলে দেয় অশান্তির অন্ধকারে । আমরা যেন এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও শান্তিতে ঘুমোতে পারি ।

আমার এই ভাবনাগুচ্ছের শেষ লাইনটি হলো – আসুন ভালো থাকি, ভালো রাখি । আমরা আমাদের কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকা।#
লেখক- মোঃ ফয়সাল মিয়া এডভোকেট -ঢাকা জর্জ কোর্ট,ঢাকা প্রধান সম্পাদক -সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়া।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!