আগস্ট ১৫, ২০১৬
Home » জাতীয় » ওরা ক্ষুদে ডাক্তার….

ওরা ক্ষুদে ডাক্তার….

এইবেলা, শ্রীমঙ্গল, ১৪ আগস্ট:: প্রাইমারী স্কুলে পড়ুয়া ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, সংগীত চর্চা কিংবা খেলাধুলা ইত্যাদি করে থাকে। তবে শ্রীমঙ্গলের রোদেলা, আবির, রিয়া ওদের সাধারন কাজের বাইরে যুক্ত হয়েছে নতুন এক কাজ তারা ক্ষুদে ডাক্তার হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় সচেতন করে তুলছে।

এক মাস আগেও বিদ্যালয়ে কেবল ছাত্র অথবা ছাত্রী হিসেবেই ওদের পরিচিতি ছিল। কিন্তু এখন ওরা আর শুধু শিক্ষার্থী নয়, খুদে ডাক্তারও। কী কী নিয়ম পালন করলে নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ওরা এখন বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য স¤পর্কিত এসব প্রাথমিক জ্ঞান স¤পর্কে সচেতন করে তুলছে।

আর খুদে ডাক্তারদের এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি শিক্ষাবৃত্তিমূলক সংগঠন বাতায়ন। বাতায়নের উদ্যোগে শহর ও শহরতলির ২০টি স্কুলের ৬০ শিক্ষার্থীকে খুদে ডাক্তার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই ৬০ জন নিজ নিজ স্কুলে প্রতিটি শ্রেণির জন্য আরও তিনজন শিক্ষার্থীকে তাদের সঙ্গে যুক্ত করে খুদে ডাক্তার টিম গঠন করেছে। একেকটি টিম একেকটি শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালন করছে। আর প্রতিটি স্কুলের একজন শিক্ষক ওই খুদে ডাক্তারদের টিম লিডার হিসেবে আছেন।

প্রশিক্ষণ শেষে খুদে ডাক্তারদের একসেট স্বাস্থ্যবিধি দেওয়া হচ্ছে। আর স্কুল থেকে বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে খুদে ডাক্তারদের সাদা পোশাক অ্যাপ্রোন। স্বাস্থ্যবিধিতে স্বাস্থ্যসম্মত জীপনযাপনের জন্য নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষায় পালনীয় বিধিবিধানগুলো লেখা রয়েছে।

খুদে ডাক্তাররা সাদা অ্যাপ্রোন গায়ে দিয়ে ওই বিধিবিধানগুলো শ্রেণিকক্ষে পাঠ করে শোনায়। তারা ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি পালনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সুস্বাস্থ্য অর্জন স¤পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে।

স্বাস্থ্যবিধিতে লেখা রয়েছে: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে নিয়মিত গোসল, দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা, চুলের যতœ নেওয়া, নখ কাটা, হাত পরিষ্কার করা ও মলমূত্র ত্যাগ ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম। এ ছাড়া বাসগৃহের পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য গ্রহণের নিয়ম, পোশাক-পরিচ্ছদ, খেলাধুলা ও ব্যায়াম, বিশ্রাম ও ঘুমের নিয়ম এবং সুস্থ থাকতে হলে কোন কোন অভ্যাস পরিত্যাগ করা প্রয়োজন তা শিক্ষা দেওয়া হয়।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসমাইল মাহমুদ বলেন, তার স্কুলের খুদে ডাক্তাররা সপ্তাহে এক দিন প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের দাঁত ও মুখ পরিষ্কার আছে কিনা, চুল কাটা, নখ কাটা ও পোশাক পরিষ্কার কিনা এসবের খোঁজ রাখছে। যদি কোথাও অনিয়ম চোখে পড়ে তাহলে খুদে ডাক্তার ওই শিক্ষার্থীর হাতে একটি চিরকুট লিখে দেয় নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য; যা পরের সপ্তাহে আবার ওই খুদে ডাক্তাররাই শ্রেণিকক্ষে গিয়ে চেক করছে।

বাতায়নের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগ ডা. হরিপদ রায় জানান, শিশুদের স্বাস্থ্যসচেতন এবং তাদের মাধ্যমে সমাজ ও জাতি গঠনে তাদের সেবামূলক কাজে অনুপ্রেরণা দেওয়াই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে ২০টি সরকারি প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৬০ জন শিক্ষার্থীকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১৩৮টি বিদ্যালয়ের ৪১৪ জন শিক্ষার্থীকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ। আমরাও চাচ্ছি ট্রেইনআপ করে একজন শিক্ষক ও পাঁচজন শিক্ষার্থী দিয়ে প্রতিটি স্কুলে এটা করতে। ২০১০ সালেই প্রতিটি স্কুলে এ রকম টিম গঠন করা আছে। তবে তারা শিক্ষার্থীদের সচেতন করবে এ রকম কিছু বলা নেই। কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে তাদের ট্রেনিংও করানো হয়নি। তারা শুধু টিকা দিবস, ভিটামিন ও কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের দিনে সহপাঠীদের সাহায্য করে থাকে।