- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

রাজনগরের বাসিন্দা ব্রাককর্মীর গোয়াইনঘাটে রহস্যজনক মৃত্যু

এইবেলা, রাজনগর. ০৩ মে :: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বাসিন্দা এনজিও সংস্থা ব্রাকের কর্মী সম্পা রানী দাস লিপি (১৯) নামে এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে সিলেটের গোয়াইঘাটে। বুধবার ০৩ মে বিকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে বিকাল সাড়ে চারটার সময় সস্পা রানী দাসের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে রাজনগরে মানববন্ধন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যায় তার লাশ দাহ করা হয়। এব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের  নগেন্দ্র দাসের মেয়ে সম্পা রানি দাস (১৯) ব্রাকের শিক্ষা প্রকল্পের চাকুরিরত ছিলেন। এর সুবাদে সে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ভিত্তিকেল গ্রামের দিনেশ ধরের বাড়িতে এক হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে গত একবছর থেকে বসবাস করছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরে বাড়িতে তার মায়ের কাছে ফোন করে জানান, চাকরি করতে তার ভালো লাগছে না। তিনি বাড়িতে চলে আসছেন। পরে ওই দিন সকালে তিনি রাধানগর বাগারে ব্রাকের কার্যালয়ে নিজ কর্মস্থলে যান। দুপুরে খাবারের জন্য বাসায় ফিরে আসেন। এরপর বিকাল তিনটার পরে দিনেশ ধরের ছেলে খোকন ধরের ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
খবর পেয়ে সম্পা রানী দাসের পারিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদকে সঙ্গে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলায় যান। সেখানে গিয়ে তারা নিহতের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, দিনেশ ধরের পাশের বাড়ির একটি ছেলে তাকে প্রায়ই প্রেম নিবেদন করতো। এছাড়াও অফিসে যাওয়া আসার সময় তাকে উত্যেক্ত করতো।
এদিকে সম্পা রানি দাস তার নিজের ভাড়া করা কক্ষে আত্মহত্যা না করে দিনেশ ধরের ছেলে খোকন ধরের ঘরে আত্মহত্যা কেন করেছে? -তা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনার দিন খোকন ধর তার স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে চিকিৎসকের নিকটে ছিলেন। নিহত সম্পা রানী দাস লিপির ভাই বাপ্পন দাস বলেন, আমরা ধারণা করছে লিপি রানী দাসকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের গায়ে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে হত্যার কারণ জানা যাবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *