1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় পুলিশের সহযোগীতায় অসহায় মহিলাকে ঘর উপহার স্মরণ : রিয়াদুল জান্নাতে বাবাহারা এক এতিমের কান্না বড়লেখায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও সভা বড়লেখায় ৫০ দুস্থ পরিবার পেলো পাকাঘর ও জমি মালিকানা দলিল কুলাউড়ায় তান্ত্রিকের তন্ত্রমন্ত্রে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল কুলাউড়ায় জমিসহ ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাসিত ১১০ পরিবার প্রেসক্লাব কুলাউড়া সভাপতি আজিজুল ইসলামের পিতার ১ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত আত্রাইয়ে তীব্র শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন কুলাউড়ায় এমপির পক্ষ থেকে ৭ শতাধিক দু:স্থ ব্যক্তির মাঝে কম্বল বিতরণ নাগেশ্বরী শিক্ষক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের জীবনের শেষ সাক্ষাৎকার

  • মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ২০৭ বার পড়া হয়েছে

‘সাধারণ মানুষ জানতো হানাদার বাহিনী আমাকে মেরে ফেলেছে’ -আজিজুর রহমান- গত ডিসেম্বর মাসে এই প্রয়াত নেতার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন সাংবাদিক সাইদুল হাসান সিপন

‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৬ শে মার্চ ভোর রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা মৌলভীবাজার মহকুমা প্রশাসক এবং মহকুমা পুলিশ প্রশাসক সহ বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে বন্দি করে নিয়ে যায়।… বন্দি করে মৌলভীবাজার ও সিলেটে আমাকে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। ওদের নির্যাতনে অনেকবারই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।..৮ এপ্রিল সিলেট শহর কিছু সময়ের জন্য বীর মুক্তিবাহিনীরা মুক্ত করেছিলো এবং মুক্তিবাহিনীরা আমাদের মুক্ত করে নিয়ে আসে। তখন আমার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, একজন মানুষ কথা বললে মনে হত হাজার মানুষ কথা বলছে। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মতো শারীরিক অবস্থা ছিলো না। সাধারণ মানুষ জানতো হানাদার বাহিনী আমাকে মেরে ফেলেছে।’

আবেগাপ্লুত কথাগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪ নং সেক্টরের কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের। পাকহানাদার কর্তৃক উনি বন্দি থাকাবস্থার ঘটনার সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এবং ভয়েজ অব আমেরিকাসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিলো।

 : আপনি কিভাবে জানলেন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে?

আজিজুর রহমান : ২৬ মার্চ ভোরে আমাকে আটক করার পর আমি বুঝতে পারি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম।

 : তখন আপনার বয়স কত ছিলো?

আজিজুর রহমান : আমি তখন ২৮ বছর বয়সের টগবগে যুবক। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমি সত্তরের নির্বাচনে এম.পি.এ নির্বাচিত হই।

 : কার অনুপ্রেরণায় আপনি রাজনীতিতে এলেন? কিভাবে?

আজিজুর রহমান : আমি যখন স্নাতক পাশ করে কলেজ থেকে বের হয়েছি, তখন ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন সারাদেশে ব্যাপকতা লাভ করে। ওই সময় শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু ও জাতীর পিতা) সাংগঠনিক সফরে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেটে যান। আমি তখন পারিবারিক কাজে সিলেটে ছিলাম। সিলেটের দেওয়ান ফরিদ গাজী (গাজী ভাই) এর অনুপ্রেরণায় আমি সিলেটের একটি বাসায় বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে যাই। বঙ্গবন্ধু আমাকে রাজনীতিতে প্রবেশের জন্য উৎসাহ দেন। বঙ্গবন্ধু পিঠে থাপ্পর মেরে আমাকে বলেন, ‘২৫ বছরে না বুঝলে কবে বুঝবে? বৃহত্তর সিলেট জিলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিনকে তিনি বলেন, ‘আজিজ আওয়ামীলীগে যোগদান করবে। আগামীকাল তাকে দিয়ে যোগদানের বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে। শুরু হল আমার সক্রিয় রাজনীতি।

: মুক্তিযুদ্ধে আপনি অংশগ্রহণ কালে কোন লোমহর্ষক স্মৃতি?

আজিজুর রহমান : পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক ২৬ মার্চ আমাকে আটক করা অবস্থায় খুব নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। কখনো কখনো মনে হয়েছিলো তারা আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু মুক্তিবাহিনী আমাকে সিলেটের জেল থেকে মুক্ত করে। জেল থেকে মুক্ত হয়ে আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমাকে ৪ নং সেক্টারে রাজনৈতিক সমন্বয়কারী ও কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য বলা হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এলাকা ছিলো এ সেক্টরের আওতাধীন। এর পরের ইতিহাস অসংখ্য গেরিলা অপারেশন, কোথাও সরাসরি আক্রমণ নিত্যদিনের ঘটনা ছিলো। এসময় ৪নং সেক্টারের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় কমলপুরে (বর্তমান ধলই চা বাগান)। এ যুদ্ধে সিপাহী হামিদুর রহমান (বীরশ্রেষ্ঠ) সহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ওই দিনের স্মৃতি এখনও আমি ভুলতে পারছি না।

 : যুদ্ধকালীন সময়ে আপনার সুখকর কোন মুহূর্ত?

আজিজুর রহমান : মূলত যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে আমার কিছু সুখকর মুহূর্তগুলো মনে করলে এখনো তৃপ্তি পাই। যেমন, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৯ ঘটিকার সময় শমসেরনগর পুলিশ ক্যাম্পে, শমসেরনগর সার্কিট হাউস ও স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি নিজে স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করি এবং চাতলাপুর বিওপি তে তোয়াবুর রহিম এমপি পতাকা উত্তোলন করেন। উলেøখ্য যে, বৃহত্তর সিলেটের পাকহানাদার বাহিনীর ব্রিগেইড হেড কোয়ার্টার মৌলভীবাজার শহরে ছিলো। ৫ ডিসেম্বর মুন্সিবাজারের যুদ্ধে হানাদারবাহিনী পরাজিত হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে পলায়ন করে। ৬ ডিসেম্বর আমরা রাজনগরে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করি তখন পাকহানাদার বাহিনী ফেঞ্চুগঞ্জের দিকে পলায়ন করে। রাজনগর থেকে দুটি কোম্পেনী কুলাউড়ার দিকে পাঠিয়ে দেই এবং বাকি সকল মুক্তিযোদ্ধা কোম্পেনীকে নিয়ে মৌলভীবাজারের দিকে অগ্রসর হই। অন্যদিকে ৬ ডিসেম্বর পাহাড় বর্ষিজোড়া, মাতারকাপন, সোনাপুর ও সালামী টিলায় পাকহানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, মাইন, গ্রেনেড, গোলাবারুদ ফেলে রেখে গিয়েছিলো। ৮ ডিসেম্বর মহকুমা হাকিমের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে আমি নিজে মৌলভীবাজারকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করি। তাই ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত দিবস। স্বাধীনতা অর্জনের মুহুর্তগুলো আমার জীবনের এক তৃপ্তময় অধ্যায়।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক আজিজুর রহমান :

আমি যখন স্নাতক পাশ করে কলেজ থেকে বের হয়েছি, তখন ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন সারাদেশে ব্যাপকতা লাভ করে। তখন সেই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদীদের পক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মৌলভীবাজারে আমি ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করি। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু ও জাতীর পিতা) সাংগঠনিক সফরে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেটে যান। আমি সেদিন পারিবারিক কাজে সিলেটে ছিলাম। সিলেট থেকে আসার সময় রেললাইনে কাছে লোকসমাগমের ভিড়ে গাড়ি নিয়ে আটকা পড়ি। গাড়ি থেকে আসার পথে যখন খোঁজ নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করে দেওয়ান ফরিদ গাজী (গাজী ভাই) আমার হাত ধরে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কোথায় ছিলে? মৌলভীবাজার শেখ সাহেব তোমাকে খুজঁছেন। আমার সাথে চলো।’ বলে সিলেটে একটি বাড়িতে আমাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সামনে হাজির করে বলেন, ‘আজিজ রাজনীতিতে আসতে চায় না।’ আমি বিনীতভাবে বলি, ‘ আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পক্ষে কাজ করছি। রাজনীতি কম বুঝি এবং রাজনীতি বড় ইয়ে….’ আমার কথা শুনে শেখ সাহেব পিঠে একটি থাপ্পড় দিয়ে বলেন, ‘২৫ বছরে না বুঝলে কবে বুঝবে? বৃহত্তর সিলেট জিলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিনকে বলেন, ‘আজিজ আওয়ামীলীগে যোগদান করবে। আগামীকাল তাকে দিয়ে যোগদানের বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে। শুরু হল আমার সক্রিয় রাজনীতি।

(এক) স্বাধীনতা উত্তর মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত মৌলভীবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির আ্হ্বায়কের দায়িত্ব পালন।

(দুই) স্বাধীনতার পর মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসাবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন।

(তিন) মৌলভীবাজার পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা, রিক্সা চালক সমিতির সম্পাদক ও অন্যান্য পেশাজীবি, শ্রমজীবি সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন।

(চার) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তী পর্যায়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন।

(পাঁচ) বিগত আন্দোলন ও বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা ১৪ দল এবং মহাজোটের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

(খ) সামাজিক অবস্থান :: (এক) মৌলভীবাজার মহিলা কলেজ ও সৈয়দ শাহ মোস্তফা কলেজের প্রতিষ্ঠাকলীন সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তার দায়িত্ব পালন।

(দুই) রাজনগর মহাবিদ্যালয় ও কাশীনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গঠন ও পূর্নগঠনের কাজে দায়িত্ব পালন।

(তিন) মৌলভীবাজারে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কাজে বিভিন্ সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে প্রগতিশীল আন্দোলনের দায়িত্ব পালন। মৌলভীবাজার চক্ষু হাসপাতালের আজীবন সদস্য, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত এবং সরকারী বেসরকারী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন দুর্যোগময় মূহুর্তে ত্রাণ সহায়তাসহ জনগনের পাশে দাড়িয়েছি।

উল্লেখ্য যে ৯১ সালে প্রবল ঘূর্ণিঝরে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুবরণ ও গৃহহীন হয়। সেই সময় জাতীয় সংসদ থেকে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিরোধী দলীয় প্রতিনিধি দল জননেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় এমন নির্মম ও ভয়অবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, আজো সে কথা মনে হলে ধৈর্য ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ফিরে এসে সংসদীয় টিমের প্রতিনিধি ও বিরোধী দলীয় হুইপ হিসাবে মহান জাতীয় সংসদে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বর্ণনা উপস্থাপন করলে সংসদে সেদিন শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মৌলভীবাজারের শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘শিল্পি সংঘে’র সভাপতি, ‘নবারুণ সংঘ’ ও স্থানীয় সরকারী তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে কাজ করছি। মূলত আমি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসাবে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পক্ষে কার্যক্রম করেছি।

(গ) সংসদীয় অবস্থান :: (এক) ১৯৭০ সালে এম.পি.এ এবং ১৯৭২ সালে গণপরিষদ (এমসিএ) সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন।

(দুই) ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত।

(তিন) ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদস সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন। (উলেøখ্য যে, উক্ত নির্বাচনে বিএনপি’র সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে পরাজীত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত।)

১৯৫৪ সালে সারাদেশে যুক্তফ্রন্টের জয়জয়কার হলেও মৌলভীবাজার মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। সে কারনেই হয়তোবা পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান আব্দুল বাছিত, ব্যরিষ্টার আহম্মদুর রহমান খান, হাজী ইনাম উল্লাহ্সহ মুসলিম লীগের একটা শক্তিশালী অবস্থানের বিরুদ্ধে আমাকে মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দায়িত্ব ও সত্তরের নির্বাচনে (মাত্র ২৭ বছর বয়সে) এম.পি.এ দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় এবং জয়লাভ করি। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ৭১’ এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ও মুক্তির ঘোষণা এবং তাঁর নির্দেশে মৌলভীবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব আমার উপর দেয়া হয়। শুরু হয় অসহযোগ ও প্রতিরোধ আন্দোলন। ২৫ শে মার্চ রাতে মৌলভীবাজার চা বাগান এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় প্রতিরোধ আন্দোলনের মোটিভেইটিং কাজ শেষ করে আমি যখন নিজ বাড়িতে আসি। তখন রাত ১ ঘটিকা। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা ও পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক ধ্বংসযজ্ঞে অবতীর্ণ ঢাকার সংবাদ তখনও পাইনি। ২৬ শে মার্চ ভোর রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা মহকুমা প্রশাসক এবং মহকুমা পুলিশ প্রশাসক সহ বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে বন্দি করে নিয়ে যায়। ২৭ মার্চ আমাকে বন্দি করে নিয়ে যাবার পথে আইনজীবি বাবু ব্যোমক্য্যাশ ঘোষকেও বন্দি করে মৌলভীবাজার পর্যটন রেষ্টহাউসে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে সিলেট সার্কিট হাউস। সিলেটের দায়িত্বে ছিলো কর্নেল সরফরাজ। মৌলভীবাজার ও সিলেটে আমাকে অকথ্য নির্যাতন করা হয়।

ওদের দাবী ছিল আমাকে ৬ দফার বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি দিতে হবে। ওদের নির্যাতনে অনেকবারই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তাদের নির্যাতন সহ্য করে কর্নেলকে বলেছি, ‘মানুষ ৬ দফার পক্ষে আমাকে ভোট দিয়েছে। বেঁচে থাকতে তোমাদের সাথে কম্প্রোমাইজের কোন প্রশ্নই আসে না।’ ২৬ মার্চ থেকে ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত ঘটনাবলী এ ক্ষুদ্র পরিসরে লেখা সম্ভব আসে না। তবুও দুটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

পাকহানাদার বাহিনী আমাকে গুলি করে হত্যা করার সিদ্ধান্তের অনুমোদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পায়নি। কেননা, পাকহানাদর কর্তৃক আমার বন্দির ঘটনাটি বিবিসি এবং ভয়েজ অব আমেরিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়ে গিয়েছিলো। একজন গণপ্রতিনিধিকে বিনা বিচারে হত্যা করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং আমাকে সিলেট জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সিলেট জেলে থাকাকালীন সময়ে বিহারী জেল পুলিশরা আমাকে হত্যা করার জন্য ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। ৮ এপ্রিল সিলেট শহর কিছু সময়ের জন্য বীর মুক্তিবাহিনীরা মুক্ত করেছিলো এবং মুক্তিবাহিনীরা আমাদের মুক্ত করে নিয়ে আসে। তখন আমার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, একজন মানুষ কথা বললে মনে হত হাজার মানুষ কথা বলছে। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মতো শারীরিক অবস্থা ছিলো না। সাধারণ মানুষ জানতো হানাদার বাহিনী আমাকে মেরে ফেলেছে। আমার শারীরিক অবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়লে জনাব মো. ইলিয়াস ভাইসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সিঁন্দুরখান চা বাগানে আমাকে নিয়ে যান। সেখানে দুইদিন থাকার পর কিছুটা সুস্থ্য হয়ে মৌলভীবাজার ফিরে এসে পূনরায় প্রতিরোধ আন্দোলনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করি। ১ লা মে পর্যন্ত মৌলভীবাজার শহর হানাদার মুক্ত ছিলো। তারপর আসাম বাড়ি হয়ে ভারতে চলে যাই। সেখানে প্রথমে ধর্মনগর ও পরে কৈলাশরে চলে আসি। সেখান থেকে গেরিলা পদ্ধতিতে মুক্তিযুদ্ধের কাজ শুরু হয়।

অন্যদিকে শরনার্থী ক্যাম্প থেকে এবং দেশের ভেতর থেকে মুক্তিকামী জনগণকে সংগ্রহ করে প্রশিÿণ ক্যাম্পে নিয়ে যাই। ইতমধ্যে যে সমস্ত প্রশিক্ষিত বিডিআর, আনছার, পুলিশ, মুজাহিদ ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের লোকজন ছিলেন, তাদের দিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতে হানাদার বাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণের কাজ চলতে থাকে। এসময়টি খুব কঠিন সময় ছিল, কিন্তু আলøাহর রহমতে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নিয়ে ফিরে আসতে থাকলে, দিনদিন আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হতে থাকে।

এই সময় সিলেট থেকে আমিসহ কিছু সংখ্যক এম.পি.কে মুজিবনগর সরকার বিশেষ ট্রেনিং গ্রহণ করি। চাকুলিয়ার ট্রেনিং শেষে কলকাতা ৮ থিয়েটার রোডে তৎকালীন প্রবাসী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনআহমদসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের বৈঠক হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্ণেল এম.এ.জি ওসমানী (জেনারেল) আমাকে ডেকে পাঠান এবং সিলেটি ভাষায় বলেন, ‘ দুনিয়াই জুড়িয়া মাইনষর মত আমরার পক্ষে ইবায়দি বেঠি (ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী) রাজি অইগেছইন। তোমার দেরাদুন যাওয়ার দরকার নেই। তোমার লাগি প্লেইনর টিকেট কাটা অইছে, শিলচর যাওগি।’

আমাকে ৪ নং সেক্টারে রাজনৈতিক সমন্বয়কারী ও কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য বলা হয়। আমি শিলচর এসে দেখি আমাকে রিসিভ করার জন্য লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে একটি জিপ গাড়ি দিয়ে করিমগঞ্জ (এক রাত্রি সেখানে ছিলাম) পরে কৈলাশহর পৌছে দেয়। শুরু হয় আরেক পর্ব। তখন বাংলাদেশের ভেতরে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধের তীব্রতা প্রচন্ডভাবে বৃদ্ধি পায়। ৪ নং সেক্টারের দায়িত্বে ছিলেন মেজর সি.আর দত্ত (জেনারেল)। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এলাকা ছিলো এ সেক্টরের আওতাধীন।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার শরীফপুর ইউনিয়নের ন’মৌজা এলাকাটি স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্ত অঞ্চল ছিলো। এর পরের ইতিহাস অসংখ্য গেরিলা অপারেশন, কোথাও সরাসরি আক্রমণ নিত্যদিনের ঘটনা ছিলো। এসময় ৪নং সেক্টারের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় কমলপুরে (বর্তমান ধলই চা বাগান)। এ যুদ্ধে সিপাহী হামিদুর রহমান (বীরশ্রেষ্ঠ) সহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এর পরেই আসে মহেন্দ্রক্ষণ। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী সহ ১লা ডিসেম্বর আমরা পাকহানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণের নীল নকশা কমান্ডিং অথরিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরকে ব্রিফ করা হয়। তখন পাকবাহিনীর অবস্থান ছিলো কমলগঞ্জের শমসেরনগর ডাক বাংলোতে, চাতলাপুর চেকপোস্ট, শমসেরনগর বিমানবন্দর, চাতলাপুর বিওপি’তে। আমাদের সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিলো কত সময়ের মধ্যে এ এলাকাগুলি পাকহানাদার মুক্ত করতে হবে। শুরু হয় ভয়াবহ যুদ্ধ। ৩ ডিসেম্বর সকাল ৯ ঘটিকার সময় শমসেরনগর পুলিশ ক্যাম্পে, শমসেরনগর সার্কিট হাউস ও স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি নিজে স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করি এবং চাতলাপুর বিওপি তে তোয়াবুর রহিম এমপি পতাকা উত্তোলন করেন।

৪ ডিসেম্বর আমরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যাই। একভাবে জেডফোর্স, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে, দ্বিতীয়ভাগ মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী মুন্সিবাজার হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে এবং তৃতীয়ভাগ প্রায় ষোলটি মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানীসহ আমি রাজনগর হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে অগ্রসর হই।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বৃহত্তর সিলেটের পাকহানাদার বাহিনীর ব্রিগেইড হেড কোয়ার্টার মৌলভীবাজার শহরে ছিলো। ৫ ডিসেম্বর মুন্সিবাজারের যুদ্ধে হানাদারবাহিনী পরাজিত হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে পলায়ন করে। ৬ ডিসেম্বর আমরা রাজনগরে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করি তখন পাকহানাদার বাহিনী ফেঞ্চুগঞ্জের দিকে পলায়ন করে। রাজনগর থেকে দুটি কোম্পেনী কুলাউড়ার দিকে পাঠিয়ে দেই এবং বাকি সকল মুক্তিযোদ্ধা কোম্পেনীকে নিয়ে মৌলভীবাজারের দিকে অগ্রসর হই।

অন্যদিকে ৬ ডিসেম্বর পাহাড় বর্ষিজোড়া, মাতারকাপন, সোনাপুর ও সালামী টিলায় পাকহানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, মাইন, গ্রেনেড, গোলাবারুদ ফেলে রেখে গিয়েছিলো। ৮ ডিসেম্বর মহকুমা হাকিমের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে আমি নিজে মৌলভীবাজারকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করি। তাই ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত দিবস। ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের বিজয় ‘মহান বিজয় দিবস’। আমরা যারা জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলাম, তাদের নিয়ে গঠিত হয় গণপরিষদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তখন আমাদের মধ্যে ফিরে এসেছেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কোটি কোটি শরনার্থীদের পুনর্বাসনের কাজ, যুদ্ধবিদ্ধস্থ বাংলাদেশকে পুনর্গঠন ও আরেকটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব মাত্র ৯ মাসের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু ও মুজিবনগর সরকারের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে। স্মরণ করি রণাঙ্গণের সাথী, সেক্টার কমান্ডারসহ প্রতিটা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষকে। সশ্রদ্ধ সামাল জানাই বীর শহীদদের।

উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আরো ঘটনা রয়েছে। যা এই ক্ষুদ্র জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আগামীতে সময় সুযোগ হলে পূর্ণাঙ্গ স্মুতিচারণ করার ইচ্ছা রইলো।

অতীতের মত বর্তমান ও ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করে যাব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

আজিজুর রহমান পরিচিতি ::

২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ সালে জন্ম নেয়া আজিজুর রহমান মৌলভীবাজারের গুজারাই গ্রামের মরহুম আব্দুস সত্তার ও মরহুম কাঞ্চন বিবির ছেলে। শিক্ষাজীবনে তিনি শ্রীনাথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি, এবং হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর ১০৭২ সালে তিনি গণপরিষদ সদস্য (বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষরকারী গণ পরিষদ সদস্য),

১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য, ১৯৯১ সালে পুনরায় জাতীয় সংসদ সদস্য এবং ওই সময় সেচ, বন্যা ও পানি সম্পদ সদস্য (একাদশ এবং দ্বাদশ সংশোধনীতে হুইপ হিসেবে বিশেষ অবদান), ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯১ সালে কার্যকরী কমিটির সদস্য (ওই সময় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী এবং চীন ও হংকং একত্রীকরণের সময় চীন সরকারের আমন্ত্রণে বেইজিং গমণ), মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের ২ বারের সভাপতি, দুইবারের সাধারণ সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা ১৪ দলের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজ এবং সৈয়দ শাহ মোস্তফা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মৌলভীবাজার কাশিনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত মৌলভীবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক (ওই সময় তিনি সিলেট জেল থেকে মুক্ত হয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রুট করে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে প্রেরণ), মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধচলাকালে রাজনৈতিক কো-অর্ডিনেটর ও কমান্ডার এবং ২০১১ সাল থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছর (২০১৭ সাল) জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে তিনি পুনরায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews