উলিপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন উলিপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কমলগঞ্জে মসজিদের কমিটি নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-৩ কমলগঞ্জে ব্যবসায়ী নেতার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বড়লেখায় পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ইমামদের প্রশিক্ষণ কুলাউড়ায় এক ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন : মামলার বাদীসহ স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল  বড়লেখা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির মাসিক সভা কমলগঞ্জে প্রেম সংক্রান্ত জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু আহত কমলগঞ্জে আড়াই মাস পর শিশুধর্ষণ চেষ্টাকারী পুলিশের হাতে আটক মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর চেক বিতরণ তালিকায় অনিয়ম মুরগি-ডিমের টাকাও আত্মসাৎ করল এহসান গ্রুপ! বড়লেখা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড বিশেষ কমিটির সভা

উলিপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন

  • শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে
এইবেলা, কুড়িগ্রাম ::
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস ৪ ডিসেম্বর।দেশের অন্যান্য জেলা উপজেলার মতো উলিপুর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবান্বিত ইতিহাস রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে এ উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চল ১১ নং সেক্টরের এবং দূর্গাপুর,বেগমগঞ্জ, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কিছু অংশ ৬ নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে উলিপুুর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি শত্রুবাহিনী।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১৩ই নভেম্বর  উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে দাগার কুঠি গ্রামে পশ্চিম পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী, তাদের দোসর স্থানীয় রাজাকার,আল-বদর, আল-সামস বাহিনী ও দালালদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় উপজেলা হতে ৮ কিলোমিটার পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্ঠিত হাতিয়া দাগারকুটি গ্রামে অপারেশনের নামে  জঘন্যতম বর্বরতা চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করে ৬’শ ৯৭ জন নিরাপরাধ মানুষকে।
পরদিন এলাকাবাসী দাগারকুটি গ্রামেই ৬’শ ৯৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ সংগ্রহ করে গণকবর দেয়। তাদের স্মরণে ওই স্থানে একটি স্মৃতিফলক নির্মিত হয়েছে। উলিপুর রেল স্টেশনের পাশে আরও একটি গণকবর রয়েছে। উলিপুর চিলমারী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে ওই স্থানে মাটি চাপা দিয়ে কবর দেয়া হতো।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর।৬ ও ১১নং সেক্টর যৌথ আক্রমণ চালায় উলিপুরে অবস্থানরত হানাদার ক্যাম্পে।  উলিপুরের ডাক বাংলায় পাকবাহিনী শক্ত অবস্থান গেড়েছিল।
তিনটি দিক থেকে আক্রমণ চালানো হয় পাকবাহিনীর শক্ত অবস্থানের উপর।
মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য নির্যাতন, বিভৎস টর্চার, ধর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ডাক বাংলা ক্যাম্প।আকস্মিক ত্রিমুখী আক্রমণে হকচকিয়ে ওঠে ক্যাম্প, কিছুক্ষণ পাল্টা আক্রমণ চালালে গুলিবিদ্ধ হন চাঁদ কোম্পানীর চৌকস যোদ্ধা আব্দুর রহিম মন্ডল (পরবর্তীতে শহীদ হন)।
শেষ পর্যন্ত  আক্রমনের প্রবলতায় টিকতে না পেরে ৪ ডিসেম্বর  উলিপুর ছেড়ে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। মুক্ত হয় উলিপুর।৪ ডিসেম্বর উলিপুর মুক্ত হওয়ার পর উলিপুরে চালু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর )   উলিপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা  প্রশাসনের আয়োজনে উলিপুর হানাদার মুক্ত  দিবস পালন,দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ফিরোজ মন্ডলের সঞ্চালনায়  উপজেলা পরিষদ হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম  এ মতিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও  উলিপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সরকার।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্য আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা,  উলিপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন,মুক্তিযোদ্ধা বহাদুর,উপজেলা প্রকৌশলী কে কে এম সাদেকুল আলম  প্রমুখ।
এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে  উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews