উলিপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পেইন ৮৬ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ! কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পল্টন ট্র্যাজেডির সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ওসমানীনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে কুলাউড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন চারুকলার জিয়াউল বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী : রক্তে ভেজা কমলগঞ্জের দলই সীমান্ত বড়লেখায় নিসচা’র উদ্যোগে নিয়মিত হেলমেট পরিধানকারি মোটরসাইকেল আরোহীদের সম্মাননা

উলিপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন

  • শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

Manual7 Ad Code
এইবেলা, কুড়িগ্রাম ::
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস ৪ ডিসেম্বর।দেশের অন্যান্য জেলা উপজেলার মতো উলিপুর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবান্বিত ইতিহাস রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে এ উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চল ১১ নং সেক্টরের এবং দূর্গাপুর,বেগমগঞ্জ, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কিছু অংশ ৬ নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে উলিপুুর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি শত্রুবাহিনী।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১৩ই নভেম্বর  উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে দাগার কুঠি গ্রামে পশ্চিম পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী, তাদের দোসর স্থানীয় রাজাকার,আল-বদর, আল-সামস বাহিনী ও দালালদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় উপজেলা হতে ৮ কিলোমিটার পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্ঠিত হাতিয়া দাগারকুটি গ্রামে অপারেশনের নামে  জঘন্যতম বর্বরতা চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করে ৬’শ ৯৭ জন নিরাপরাধ মানুষকে।
পরদিন এলাকাবাসী দাগারকুটি গ্রামেই ৬’শ ৯৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ সংগ্রহ করে গণকবর দেয়। তাদের স্মরণে ওই স্থানে একটি স্মৃতিফলক নির্মিত হয়েছে। উলিপুর রেল স্টেশনের পাশে আরও একটি গণকবর রয়েছে। উলিপুর চিলমারী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে ওই স্থানে মাটি চাপা দিয়ে কবর দেয়া হতো।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর।৬ ও ১১নং সেক্টর যৌথ আক্রমণ চালায় উলিপুরে অবস্থানরত হানাদার ক্যাম্পে।  উলিপুরের ডাক বাংলায় পাকবাহিনী শক্ত অবস্থান গেড়েছিল।
তিনটি দিক থেকে আক্রমণ চালানো হয় পাকবাহিনীর শক্ত অবস্থানের উপর।
মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য নির্যাতন, বিভৎস টর্চার, ধর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ডাক বাংলা ক্যাম্প।আকস্মিক ত্রিমুখী আক্রমণে হকচকিয়ে ওঠে ক্যাম্প, কিছুক্ষণ পাল্টা আক্রমণ চালালে গুলিবিদ্ধ হন চাঁদ কোম্পানীর চৌকস যোদ্ধা আব্দুর রহিম মন্ডল (পরবর্তীতে শহীদ হন)।
শেষ পর্যন্ত  আক্রমনের প্রবলতায় টিকতে না পেরে ৪ ডিসেম্বর  উলিপুর ছেড়ে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। মুক্ত হয় উলিপুর।৪ ডিসেম্বর উলিপুর মুক্ত হওয়ার পর উলিপুরে চালু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর )   উলিপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা  প্রশাসনের আয়োজনে উলিপুর হানাদার মুক্ত  দিবস পালন,দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ফিরোজ মন্ডলের সঞ্চালনায়  উপজেলা পরিষদ হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম  এ মতিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও  উলিপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সরকার।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্য আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা,  উলিপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন,মুক্তিযোদ্ধা বহাদুর,উপজেলা প্রকৌশলী কে কে এম সাদেকুল আলম  প্রমুখ।
এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে  উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews