মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পেইন ৮৬ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ! কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পল্টন ট্র্যাজেডির সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ওসমানীনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে কুলাউড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন চারুকলার জিয়াউল বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী : রক্তে ভেজা কমলগঞ্জের দলই সীমান্ত বড়লেখায় নিসচা’র উদ্যোগে নিয়মিত হেলমেট পরিধানকারি মোটরসাইকেল আরোহীদের সম্মাননা

মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

Manual1 Ad Code

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ আইটিভি প্রাইড অব বৃটেন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী সমাজসেবক রেহানা আহমেদ। বাবার মানব সেবামূলক কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ হয়ে রেহানা আহমেদ নিজেও একটি চ্যারিটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত চ্যারিটি সংগঠন ‘সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি’র মাধ্যমে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘রিজিওনাল ফান্ডরেইজার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার লাভ করেন। করোনা ভাইরাস মহামারির লকডাউনে প্রতিবেশীদের সহায়তা করার মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া তাঁর উদ্যোগটি বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

রেহানা আহমেদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নাজিরবাজার এলাকার আহমদনগর গ্রামে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা মজির উদ্দিন আহমেদ বাঙালি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত সমাজসেবক। শিক্ষা বিস্তার, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

Manual4 Ad Code

বাবার মানবসেবামূলক কর্মকান্ড ও পারিবারিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে রেহানা নিজেও মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। তাঁর দুই ভাই পেশায় চিকিৎসক এবং তাঁরাও বিভিন্ন দাতব্য ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। পরিবারের এই জনকল্যাণমুখী পরিবেশ রেহানার সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা যুগিয়েছে।

ছয় বছর আগে করোনা করোনা মহামারির লকডাউনে যুক্তরাজ্যের বহু মানুষ কাজ হারিয়ে কিংবা আয় কমে যাওয়ায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সংকটে পড়েন। সেই সময় সেন্ট অ্যালবানসের বাসিন্দা ও দুই সন্তনের জননী রাইহানাহ নিজের আশপাশের অসহায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ছাড়াই শুরু হওয় এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বৃহৎ কমিউনিটি সহায়তা কার্যক্রমে রূপ নেয়।

সহায়তা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে তিনি খাদ্যসংকটের নানা মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারেন। এমন একজন নারীকে তিনি পেয়েছিলেন, যিনি খাবারের অভাবে বিড়ালের খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন। আরেকজন সাবেক সেনাসদস্য ক্ষুধা মেটাতে চিনি খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংগঠিতভাবে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।

Manual5 Ad Code

বর্তমানে সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি প্রতি সপ্তাহে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি খাদ্যসামগ্রীর বাক্স, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি বিতরণ, উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ এবং বিনা মূল্যে কমিউনিটি মিলের ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জনকে জরুরি খাদ্যসামগ্রীর বাক্স সরবরাহ করে। উপকারভোগীদের খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ চাহিদা ও ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় রেখে এসব বাক্স প্রস্তুত করা হয়। এ ছাড়া ৪৬টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়। সেন্ট অ্যালবানস, হ্যাটফিল্ড ও ওয়েলিন গার্ডেন সিটির ২৬টি খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করেও বিতরণ করা হয়।

লকডাউনের সময় অ্যাবে থিয়েটারে খাবারের বাক্স প্রস্তুতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রেহানা আহমেদের নিজস্ব অর্থায়নে ভ্যালি রোডের কাছে একটি বাণিজ্যিক ইউনিটে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি স্যান্ডরিজের হাই স্ট্রিটে স্পেন্সার হলে স্থানান্তরিত হয়।

Manual4 Ad Code

নারী সমাজসেবক রেহানা আহমেদ তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন প্রায় ১০০ জন অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত হচ্ছে। রেহানার মতে, এই অর্জন তাঁর একার নয়; বরং প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগীর সম্মিলিত অবদানের স্বীকৃতি।

Manual6 Ad Code

তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও খাদ্যসংকট অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। কারও সুন্দর বাড়ি কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন দেখে তাঁর আর্থিক সংকট বোঝা সম্ভব হয় না। বাড়িভাভা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য বিল পরিশোধের পর অনেকেরই খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। তাই খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষা করাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

রেহানার উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে সহায়তা নিতে আসা মানুষকে কেবল দাতব্য সহায়তার প্রহীতা হিসেবে দেখা হয় না; বরং কমিউনিটির সমান মর্যাদাসম্পন্ন সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কমিউনিটি ফ্রিজের সেশনগুলোতে সহায়তা নিতে কোনো ভাউচার বা রেফারেল ফরমেরও প্রয়োজন হয় না।

তবে পুরস্কার অর্জনের পরও থেমে থাকতে চান না রেহানা। খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের তালিকা থাকায় আগামী তিন বছরে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সময় দেওয়ার জন্যও তিনি আগ্রহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সিলেটের ওসমানীনগরের আহমদনগর গ্রামের সঙ্গে শিকড়ের সম্পর্ক থাকা রেহানা আহমেদের এই অর্জন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মানবিক উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাঁর কার্যক্রম প্রমাণ করে, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি ছোট উদ্যোগও হাজারো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews