বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ টিকা নিবন্ধন সেবা : ৩ দিনে দুর্ভোগ ছাড়াই টিকার নিবন্ধন করলেন ৬১৮ প্রবাসী বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ টিকা নিবন্ধন সেবা : ৩ দিনে দুর্ভোগ ছাড়াই টিকার নিবন্ধন করলেন ৬১৮ প্রবাসী – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ টিকা নিবন্ধন সেবা : ৩ দিনে দুর্ভোগ ছাড়াই টিকার নিবন্ধন করলেন ৬১৮ প্রবাসী

  • বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

কবে ভ্যাকসিন দিতে পারবেন এ দুশ্চিন্তা কাটেনি

বড়লেখা প্রতিনিধি ::

বড়লেখায় উদ্বোধনের পর ৩ দিনে কোনো রকম দুর্ভোগ ছাড়াই ৬১৮ জন প্রবাসী করোনার টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। প্রবাসী অথবা প্রবাসে গমনইচ্ছুক কাউকেই টিকা নিবন্ধনের জন্য যেতে হচ্ছে না জেলা সদরে। নিজ ইউনিয়নেই তারা নিবন্ধন করতে পারছেন। এতে টিকার নিবন্ধন নিয়ে বড়লেখার প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কেটে গেছে। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে তাদের সময় ও টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি দূর হয়েছে। তবে কবে তারা টিকা দিতে পারবেন এ দুশ্চিন্তা এখনো কাটেনি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে করোনার টিকা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন। রোববার ভার্চুয়ালি টিকা নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকার নিবন্ধন করছেন। এছাড়া একটি ভ্রাম্যমাণ টিকা নিবন্ধন সেবা দল বাড়ি গিয়ে প্রবাসীদের টিকার নিবন্ধন করে দিচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছেন বড়লেখা ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। উদ্বোধনের দিন রোববার ৪ জন, পরদিন সোমবার ৪০০ জন ও মঙ্গলবার ২১৪ জন প্রবাসী করোনা ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করেন। এরমধ্যে বর্ণি ইউনিয়নে ৭৪ জন, দাসেরবাজার ইউনিয়নে ৩৭ জন, নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নে ৮৪ জন, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৩৭ জন, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৬৭ জন, বড়লেখা সদর ইউনিয়নে ৪১ জন, তালিমপুর ইউনিয়নে ৭২ জন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে ৬৭ জন, সুজানগর ইউনিয়নে ৫৫ জন, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে ৪৩ জন ও পৌরসভায় ৪১ জন।

নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে সোমবার দুপুরে টিকার নিবন্ধন করেন কাতার প্রবাসী সুহেল আহমদ। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের জামকান্দি গ্রামে। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটা অনেক সুন্দর হয়েছে। নিখুঁতভাবে উদ্যোক্তা সব কিছু করে দেন। আমরা অনেকেই নিবন্ধন করেছি। খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সোমবার মৌলভীবাজার যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। রোববার রাতে নিউজে দেখি বড়লেখায় টিকার নিবন্ধন করা যাবে। এটি দেখেই ইউনিয়নে যাই। দ্রুত সব কিছু হয়ে গেছে। কষ্ট দূর করার জন্য আমাদের মন্ত্রী, ডিসি, ইউএনওকে ধন্যবাদ। নিজের ইউনিয়নে হওয়ায় আমাদের সময়, টাকা দুটোই বেঁচেছে। এছাড়া সহজে নিবন্ধন করতে পারছি এইটা বড় বিষয়।’

নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারের ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি সব সময়। প্রবাসীদের টিকার নিবন্ধনের কাজটি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। লকডাউনের সময় জেলা সদরে গিয়ে নিবন্ধন করতে তাদের অনেক কষ্ট হতো। কাজটি তারা নিজ ইউনিয়নে করতে পারছেন। এতে খুশি তারা।’

এই বিষয়ে ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, ‘ভ্যাকসিন নিবন্ধনের জন্য ভ্রাম্যমাণ দল গঠন করে দেওয়ায় প্রবাসীদের খুব উপকার হচ্ছে। সকলে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। লকডাউনে সকল ইউনিয়ন কার্যালয়ের পাশাপাশি তথ্যসেবা কেন্দ্রও বন্ধ। শুধুমাত্র লকডাউনে টিকা নিবন্ধনে প্রবাসীদের কষ্ট দূর করতেই আমরা তথ্যসেবাগুলোকে কাজে লাগিয়েছি। এছাড়া দূরবর্তী কোনো গ্রাম। যেখান থেকে প্রবাসীর ইউনিয়নে এসে নিবন্ধন করতে কষ্ট হবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি যাচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ দলটি তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে কারিগারি সহায়তা দিচ্ছে। লকডাউন চলাকালে প্রবাসীদের টিকা নিবন্ধনের কার্যক্রম চলবে।’

প্রসঙ্গত, সীমান্তবর্তী বড়লেখা উপজেলা থেকে মৌলভীবাজার সদরের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের পথ। লকডাউনের মধ্যে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে করোনার টিকার নিবন্ধন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন উপজেলায় অবস্থানকারী প্রবাসীরা। তবে তাদের এই দুশ্চিন্তার নিরসন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলাতেই নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন বড়লেখা ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। এ লক্ষ্যেই গত শনিবার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের ভিডিও কনফারেন্সে প্রশিক্ষণ দিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়। পাশাপাশি একটি মাইক্রোবাস, তিনজন ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার (সেবা প্রদানকারী), প্রয়োজনীয় ল্যাপটপসহ টিকা নিবন্ধনের একটি ভ্রাম্যমাণ দল গঠন করা হয়। পরদিন রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ - ২০২০
Theme Customized By BreakingNews