লক্ষ্মীপুরে যুদ্ধের লোমহর্ষক স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা লক্ষ্মীপুরে যুদ্ধের লোমহর্ষক স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় এক ঘন্টা দেরিতে কেন্দ্রে প্রবেশ ৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি বড়লেখার ব্লু-বার্ড কিন্ডার গার্টেনে শিশু কর্ণারের উদ্ভোধন অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বিশ্বনাথ উপজেলা সফরে জুড়ীর মৎস্যচাষীরা  বড়লেখা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশা গোয়াইনঘাটে উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ হাকালুকির বড়ধলিয়া বিলে হামলায় আহত ৩ জলমহাল ইজারা পেতে বিলের পাড়ে রাতারাতি সমিতি অফিস নির্মাণ! কুলাউড়ায় নববধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও জ্বা আটক বড়লেখায় জাতীয় বীমা দিবসে র‌্যালি ও উদ্ভুদ্ধকরণ সভা ঢাকার বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে মারা গেছেন কুলাউড়ার আ’লীগ নেতা বড়লেখায় ইসলামি সমাজকল্যাণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

লক্ষ্মীপুরে যুদ্ধের লোমহর্ষক স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা

  • শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১
লক্ষিপুর :: শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযোদ্ধের লোমহর্ষক গল্প শুনাচ্ছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:: “এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি” প্রতিপ্রাদ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদরের দালালবাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেমিনার হল রুমে মুক্তিযুদ্ধের গল্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর জেলা তথ্য অফিস ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা তথ্য কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার আবুল বাশার (বশির মাস্টার)।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষিকা বনশ্রী পাল, কবি ও সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশ, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা আক্তার প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার (বশির মাস্টার) বলেন- ‘আমরা এদেশের নাগরিক। ১২’শ কিলোমিটার দূর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের লোক এসে আমাদের শাসন করবে, শোষণ করবে এ হতে পারে না। এটা মেনে নিতে পারিনি বলেই আমি ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। আমার সাথে যুদ্ধ করা অনেকেই মারা গেছেন কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি এখনো বেঁচে আছি।’

ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধের মত তা শ্রবণ করেছিলো। এসময় আবুল বাশার (বশির মাস্টার) আরো বলেন- ‘খাওয়া-দাওয়ায় আমরা কত কষ্ট করেছি, তা বলার ভাষা নেই। ভাতের সাথে পোকার পরিমাণ বেশি। দিনের আলোয় খেতে কষ্ট হচ্ছিলো, তাই রাতের অন্ধকারে খেতাম। যেনো চোখে পোকা না দেখি। সারাদিনে ভাত খেতাম একবেলা। এমন দুর্বিষহ ও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যুদ্ধ করে আজকে আমরা স্বাধীন সার্বভৌমত্ব সুন্দর একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। পৃথিবীর বুকে একটা স্বাধীন মানচিত্র পেয়েছি।’

শিক্ষিকা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বনশ্রী পাল কিভাবে পালিয়ে পালিয়ে সপরিবারে ভারতে গেছেন, যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে যাওয়া যোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা করেছেন, তার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশ তার আলোচনায় লক্ষ্মীপুরে কতটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কোথায় কোথায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে এবং জেলা সদরের পশ্চিমাঞ্চল তথা খোয়া সাগরদীঘির পাড়, ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প, টর্চার সেল, মাদাম ব্রিজ, চন্দ্রগঞ্জ ব্রিজ, গণকবর, বধ্যভূমি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে এবং পুরো অডিটোরিয়ামের মাঝে পিন পতন নিরাপত্তা লক্ষ্য করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews