কুলাউড়ায় ঝিমাই বাগানের কয়েক কোটি টাকার পরিপক্ক গাছ কাটতে বাঁধা কুলাউড়ায় ঝিমাই বাগানের কয়েক কোটি টাকার পরিপক্ক গাছ কাটতে বাঁধা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

কুলাউড়ায় ঝিমাই বাগানের কয়েক কোটি টাকার পরিপক্ক গাছ কাটতে বাঁধা

  • সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

এইবেলা, কুলাউড়া  ::  মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই চা বাগানের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দু’সহস্রাধিক পরিপক্ক গাছ কাটাতে বাঁধা দিচ্ছে খাসিয়ারা। এব্যাপারে খাসিয়াদের দায়েরকৃত মামলা উচ্চ আদালতে খারিজ হলেও নানা টালবাহানা শুরু করেছে খাসিয়ারা। বাগানের গাছ কাটতে বাঁধা প্রদান, হুমকি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় মেয়াদপূর্তির পরও কাটতে না পারায় গাছগুলি বিনষ্ট হচ্ছে। সেইসাথে সরকারের প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ঝিমাই চা বাগান সুত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে জনৈক ফজলুল করিমের কাছ থেকে ঝিমাইতে ৬শ ৬১ একর ও ভালাইরমাতে ৭শ ২২ একর জায়গা মালিকানা গ্রহণ ঝিমাই চা বাগান কর্তৃপক্ষ। তবে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আহবানে চা বাগান জাতীয়করণের সময় ভালাইরমা ছড়ার ৭শ ২২ একর জায়গা সরকারের কাছে সারেন্ডার করা হয়। অবশিষ্ট ৬শ ৬১ একর আয়তন বিশিষ্ট ঝিমাই চা বাগান গত ২০১২ সালে লিজ নবায়ন কারা হয় আগামী ৪০ বছরের জন্য। বাগানের প্রতিষ্টালগ্ন থেকে বাগানের মধ্যে কিছু বন জংগল ছিল। সেগুলোতে চা শ্রমিকরা যেতে ভয় পেতো। সেজন্য বাগান কর্তৃপক্ষ ৪-৫ জন খাসিয়াকে লেবার লাইনে বসবাসের অনুমতি দেয় বাগানের শ্রমিক হিসাবে। কিন্তু ফিল খাসিয়া মারা যাওয়ার পর ২০০৯-১০ সালের দিকে ফিল খাসিয়ার ছেলে রানা সুরং বাগানের আপত্তি সত্বেও বিভিন্ন এলাকা থেকে খাসিয়াদের এনে বাগানের জায়গায় জবর দখল বাড়াতে থাকে। বর্তমানে এই খাসিয়া পল্লিতে ৪৪টি পরিবারের বসতি। আর খাসিয়ারা জবরদখল করে রেখেছে বাগানের ৩শ ৭১ একর জায়গা।

এদিকে বাগানের লিজকৃত জায়গা সংকুচিত হওয়ায় টি বোর্ডের প্রতি বছর ২.৫% চা সম্প্রসারণ করার যে নির্দেশনা তা বাস্তবায়নে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে ঝিমাই চা বাগানে। শুধু তাই নয়, বাগান কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার ৯৬টি পরিপক্ষ গাছ কাটার জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমতি লাভ করে। কিন্তু খাসিয়ারা বাগানের গাছ কাটতে বাঁধা দেয় এবং নানা টালবাহানা শুরু করে।

খাসিয়ারা গাছ কাটা প্রতিরোধ করতে ২০১৫ সালে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০১৭ সালে রুল ডিসচার্জ হয়। পরে ডিসচার্জ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল (নং ৪৫৮, ২০১৭) দায়ের করলে তাও বিগত ২০১৯ সালে নিষ্পত্তি হয়। খাসিয়ারা রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন (নং ৪০০, ২০১৯) দায়ের করলে গত ২০২১ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে তাও খারিজ হয়ে যায়।

খাসিয়ারা নানা টালবাহানা করে সময় ক্ষেপনের ফলে টি বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার ১২-১৩ বছর অতিবাহিত হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ পরিপক্ক গাছগুলি কর্তন কিংবা হস্তান্তর কোন কিছুই করতে পারেনি। ফলে পরিপক্ক গাছগুলির বেশিরভাগই বিনষ্ট হচ্ছে।

এব্যাপারে ঝিমাই চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান জানান, বাগানের লিজকৃত ৩শ ৭১ একর জায়গা রানা সুরংয়ের নেত্বত্বে ৪৪টি খাসিয়া পরিবার জবর দখল করে রেখেছে। তারা বাগানের অভ্যন্তরে জায়গা জবর দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং ২০১০ সাল থেকে বাগানের পরিপক্ক গাছ কাটতে নানা টালবাহানা করে বাগানের উন্নয়ন কর্মকান্ড চরম বাধাগ্রস্থ করছে। এমনকি উচ্চ আদালতের রায়ের পরও তারা বাগানের বিরুদ্ধে নানা কুটকৌশল বন্ধ করেনি। বর্তমানে খাসিয়াদের বাঁধা ও বাগানের জায়গা দখলের কারণে বাগানের ৫শ ২৬ জন শ্রমিকের বাসস্থান বানানোর জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। টি-বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক চা চাষাবাদও বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে খাসিয়াদের বাঁধায় চরম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বাগানের চা সম্প্রসারণ কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকান্ড।

এব্যাপারে ঝিমাই পুঞ্জির হেডম্যান রানা সুরং জানান, তারা যুগযুগ থেকে পাহাড়ে বসবাস করে আসছে। তারা বনের শত্রু নয় তারা বনের বন্ধু। গাছ লালন পালন আর পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ঝিমাই কর্তৃপক্ষ যদি গাছ কাটে তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে ফলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।

কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ও টি-বোর্ড থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত ২০৯৬ টি গাছ কাটার চুড়ান্ত অনুমতির জন্য ঝিমাই চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে। চুড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews