উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কুলাউড়ায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ৩ শীর্ষনেতা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কুলাউড়ায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ৩ শীর্ষনেতা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কুলাউড়ায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ৩ শীর্ষনেতা

  • বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

এইবেলা, কুলাউড়া  :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রথমধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ শীর্ষ নেতাসহ ৪জন প্রার্থী। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন এবং সংরক্ষিত আসনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২জন মনোনয়ন পত্র দেন। সবার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া নির্বাচনী লড়াই সবার অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত। তবে প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

শীর্ষ ৩ নেতা প্রার্থী হিসেবে অনড় থাকায় বিপাকে পড়েছেন কর্মীরা। অবশ্য কর্মীদের মতামত ভিন্ন। তাদের মতে, এবার মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন হবে এবং নেতাদেরও জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৩ নেতা প্রার্থী হওয়ায় হওয়ায় জনমনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা হলেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও সহ- সভাপতি কামাল হাসান। এই ৩ নেতা প্রার্থী হওয়ায় দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা পড়েছেন মধুর সমস্যায়। আবার অনেকে নির্বাচনের পরে পদ পদবী হারানোরও আশঙ্কা করছেন।

রফিকুল ইসলাম রেনু : কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্ষিয়ান নেতা রফিকুল ইসলাম রেনু। উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ৩ বারের সাবেক চেয়ারম্যান। দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ২ যুগেরও বেশি। এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন অনেকটা ঢাকঢোল পিঠিয়ে। নির্বাচন করতে তিনি উপজেলা পর্যায়ে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মতামত নিয়েই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীরা যদি তার সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করলে তিনি হবেন শক্ত প্রতিপক্ষ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্ষিয়ান নেতা রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, আমি দলের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে প্রার্থী হয়েছি। এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনীতিতে কখনও কোন জাতীয় কিংবা উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি সবাইকে নির্বাচনে সবাইকে সাহায্য করেছি। নিজের ভাগ্যকে একবার পরীক্ষা করতে চাই। দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত যাচাই করে প্রার্থী হয়েছি। দলমত নির্বিশেষে সবার সমর্থণ করেছেন। দলের অন্যান্য প্রার্থীদেরও তিনি বলেছেন, তাকে এবার সুযোগ দেয়ার জন্য। যেহেতু জীবনের শেষ নির্বাচন তাই সবার কাছে অনুরোধ, শেষবারের মতো সেবা করার সুযোগ দিন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে এটাই আমার চাওয়া।

কামরুল ইসলাম : কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম। রাজনীতিক পরিবারের মানুষ বলেই সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। বাবা সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল জব্বার ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার রয়েছে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্যতা। দলের একাধিক প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দলীয় নির্বাচন নয়। দলীয় প্রতিকও নেই। নেত্রী সবার জন্য ওপেন করে দিয়েছেন। সকলের অংশগ্রহনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে এতে। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দলের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। জনগণ যাকে খুশি নির্বাচিত করবে। দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন।
নেতাকর্মীদেরও কোনরূপ চাপ সৃষ্টির সুযোগ নেই।

কামাল হাসান :: কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামাল হাসান। সাংবাদিক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ছিলে একসময়ে বাংলাবাজার পত্রিকার কুটনীতিক রিপোর্টার। এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মাকান্ড পরিচালনা করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রতিক না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। এই নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। দলের অপর দু’প্রার্থী রয়েছেন। মানুষ যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে নির্বাচিত করবে। দলীয় প্রতিক ছাড়া নির্বাচন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। দলের ৩ প্রার্থী বিরুদ্ধে একক প্রার্থী সুবিধা পাবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদে যে ৪ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সবাই শক্তিশালী প্রার্থী। দলীয় প্রতিক নেই। নির্বাচনেও দলীয় কোন প্রভাব থাকবে না। দল থেকে কোন চাপও নেই। তিনি প্রতিক তুলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এদিকে মাঠে আওয়ামী লীগের ৩ নেতার ত্রিধাবিভক্তির সুযোগ নিতে চান আওয়ামী বিরোধী একমাত্র প্রার্থী   আল ইসলাহ’র প্রার্থী সাবেক ২ বারের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। আর ইসলাহ’র কুলাউড়া উপজেলায় একটা শক্তিশালী কর্মী সমর্থক রয়েছে। তাদেরকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত বিএনপি’র ভোটেও ভাগ বসাতে চান। আর এই কাজটি সঠিকভাবে করতে পারলেই চেয়ারম্যান পদে তিনি চমক দেখাতে পারেন। তবে বাস্তবতা হলো- ভোট নিয়ে মানুষের অনাগ্রহ। বিগত সংসদ নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি হলে তার আশায় গুড়েবালির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৮ ভোটার অধ্যুষিত কুলাউড়া উপজেলায় মোট ১০৩ টি ভোট কেন্দ্রে গ্রহণ করা হবে ভোট। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল ইসলাম, পুরান উরাং, রাজ কুমার কালোয়ার, মো. সাইফুল ইসলাম কুতুব ও মো: আফজাল হোসেন। সংরক্ষিত নারী আসনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেহা ফেরদৌস পপি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম মনোনয়ন জমা দেন। ।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews