কুলাউড়ার মনু নদী থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে বাঁধা : অভিযোগের ৫ মাসেও মেলেনি প্রতিকার – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সি‌লে‌টের বরকতিয়া সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনে লতিফ সভাপতি ও মুক্তাদির সম্পাদক নির্বাচিত ছাতকে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক ব‌্যবসা‌য়ী গ্রেপ্তার জুড়ীতে মরহুম কটন আলী মাস্টারের স্মরণে মানবিক চায়ের দোকান ১০ উদ্বোধন কমলগঞ্জের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির আগেই মারা গেলেন জয়গুন নাহার খানম কুলাউড়ার ভাটেরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা সাইফুল সিদ্দেকী সেফুলের অপতৎপরতা  রাজনগরে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি : ডাকাতের হামলায় গৃহকর্তা আহত কমলগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধরকে দল থেকে অব্যাহতি থানা পুলিশের অভিযান- বড়লেখায় চুরির মামলায় গ্রেফতার ৬, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল উদ্ধার

কুলাউড়ার মনু নদী থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে বাঁধা : অভিযোগের ৫ মাসেও মেলেনি প্রতিকার

  • বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২

Manual8 Ad Code

এইবেলা, কুলাউড়া :: কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর বালু মহালের কটারকোনা ঘাট থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে গত ০১ জুন ইজারাদার মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক এবং কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু ইতোমধ্যে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও কোন প্রতিকার পাননি। ঘাটে কয়েক লক্ষ টাকার উত্তোলিত বালু পরিবহন করতেও পারছেন না। ফলে সরকারের বড় অংকের রাজস্ব হারানোর সম্ভবনা রয়েছে।

জানা যায়, জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির গত ২৭ মার্চের সভায় মনু নদীর বালু মহাল ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্বে কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের মো. এয়না মিয়াকে ১৪২৯ বাংলা সনের জন্য ইজারা প্রদান করেন। এরপর ২৪ এপ্রিল মহালের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। ইজারাদার মহালটির সুখনবী, দাউদপুর, পাইকপাড়া, রণচাপ, জালালপুর, মাথাবপুর, কটারকোনা, বারইগাঁও, কাউকাপন এবং উপরিভাগগ মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করবেন। তবে কটারকোনা মৌজার ৭০৫ ও ১৫৯৫ নং দাগ দুটি মনু ব্রীজের নিকটবর্তী হওয়ায় বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কটারকোনার জেএল নং ১২৫ এবং দাগ নং ৪৯/৫২৯ ও ১৬৮ হতে ২৬ দশমিক ২৬ একর জায়গা ইজারাদারকে দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ইজারাদার সেই বুঝিয়ে দেয়া দখলকৃত স্থান থেকে আলু উত্তোলন ও পরিবহন করতে গেলে একটি মহল তাতে বাঁধা প্রদান করে।

Manual2 Ad Code

Manual8 Ad Code

বালু মহালের ইজারাদার মো. ময়না মিয়া গত ০১ জুন বালু উত্তোলন ও পরিবহনে বাঁধার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর গত ১০ আগস্ট কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখ্ াপর্যন্ত তিনি কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান। অভিযোগে তিনি বালু উত্তোলন ও পরিবহন করতে গেলে একটি মহল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঁধা প্রদান করে। এমনকি বালু উত্তোলনের ঘাট বন্ধ করে দেয়। সংঘর্ষ এড়াতে ইজারাদার ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কোন প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

সরেজমিন কটারকোনা বালুমহাল ঘাটে গেলে নদী থেকে উত্তোলিত কয়েক লক্ষ টাকার উত্তোলিত বালু পরিবহন করতে না পারায় পড়ে থাকতে দেখো যায়। বর্তমানে এই ঘাট থেকে বালু উত্তোলনও বন্ধ রয়েছে। ঘাটে কথা হয় বালু উত্তোলন কাজের শ্রমিকদের সাথে। তারা জানান, বালু উত্তোলন কাজ বন্ধ থাকায় ২৫-৩০ জন শ্রমিক বেকার দিন কাটাচ্ছে। রাস্তা ভাঙার অযুহাতে স্থানীয় হাজীপুর ইউনিয়নের কতিপয় লোক বালু উত্তোলন ও পরিবহনে বাঁধা প্রদান করছে।

শ্রমিকরা জানান, বিগত প্রায় ১৮ -২০ বছর এই ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হলেও কেউ বাঁধা প্রদান করেনি। মুলত বিগত ইজারাদারের ইন্দনে চেয়ারম্যানও তাঁর লোকজন এই বাঁধা প্রদান করছেন। বিষয়টি নিয়ে ইজারাদারের লোকজন চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন কিন্তু চেয়ারম্যান রাস্তার অযুহাত দেখিয়ে এই ঘাট তার সমর্থকদের দিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন।

Manual2 Ad Code

ঠিকাদারের অন্যতম সহযোগি কিবরিয়া হোসেন খোকন জানান, চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বখস ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তায় খুঁটি পুতে বালু পরিবহন বন্ধ করে দেন। উত্তোলনকৃত বালু তাঁর ছেলেদের (কর্মীদের) দিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় তিনি বালুর ঘাটও বন্ধ করে দেন। বালু পরিবহনে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমরা নিজ খরচে তা মেরামত করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু তিনি তাতেও রাজি নন।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রুমেল জানান, বালু মহাল সরকারের, রাস্তাও সরকারের। বালু উত্তোলন ও পরিবহন করতে না পারলে ঘাট ইজারা দেয়ার কোন মানে হয় না। তাছাড়া ইজারাদার রাস্তা মেরামত করে দেবে বলেছেন, তখন বালু পরিবহন করতে দেয়া উচিত। কেননা বিগত দিনেও এই রাস্তা দিয়ে বালু পরিবহন করা হয়েছে।

হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বখসকে এব্যাপারে জানতে চাইলে উনি ব্যস্ততার অযুহাত দেখিয়ে বলেন, রাতে নিরিবিলি সময়ে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, এই মুহুর্তে বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে তা খোঁজ না নিয়ে ঠিক বলতে পারবো না। তবে ইজারাদার যদি অভিযোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে কিছু একটা ব্যবস্থা নিশ্চয় নেয়া হয়েছে। তারপরও না নেয়া হয়ে থাকলে উনি যোগাযোগ করুক। আমরা ব্যবস্থা নেবো।##

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews