১৯শত কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় যাতায়াত রাস্তা বন্ধ ও ভূমি দখলের মামলা করায় বাদিকে হুমকি-ধমকি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড- ১৪ বছর ধরে কারাগারে নিরপরাধ এনামুল, মুক্তির অপেক্ষায় গোটা পরিবার কুলাউড়ার একটি চা বাগান থেকে পাইপগান ও চায়না রাইফেলের গুলি উদ্ধার কুলাউড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন সুনামগঞ্জের ৫ আসনেই জাপার জয়লাভ সম্ভব : শামীম পাটোয়ারী আত্রাইয়ে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন  র‌্যাব-৯ এর অভিযানে কমলগঞ্জ থেকে ২টি এয়ারগান উদ্ধার কমলগঞ্জে আনসার ভিডিপি সদস্যের উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে রত্নগর্ভা মা সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা “সবে আমাকে মাফ করি দিও” চিরকুট লিখে তরুণীর আ#ত্ম#হ#ত্যা

১৯শত কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ

  • শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

Manual6 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়া এবং ঠিকাদারসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও দুদকের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পৌ‌ছে‌ছে।

অভিযোগে বলা হয়, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, দিরাই, সুনামগঞ্জ সদর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আংশিক এলাকায় বাস্তবায়নাধীন ‘সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট’ কার্যত লুটপাটের প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পে অন্তত ৪০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজের হাজী শহীদ তালুকদার, হাইওয়ে কোম্পানির আব্দুল হাই, ভাঙারি ব্যবসায়ী শফিকুল ও সিরাজুলসহ প্রায় ২০ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজী শহীদ তালুকদার নিয়মিত ঢাকা মেট্রো–ড ১২–২৮৬৩ নম্বর ট্রাকে নতুন তামার তার ও সরকারি মালামাল ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেছেন।

Manual7 Ad Code

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এক বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাত বছরেও কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পে ৩ হাজার ৬০০ খুঁটি বসানোর কথা থাকলেও বাস্তবে বসানো হয়েছে মাত্র ৯০০টি। বাকি খুঁটি কোথায় গেছে—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Manual8 Ad Code

মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় নতুন খুঁটি ও লাইন দেওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জের অন্তত ১৫০টির বেশি গ্রামে নতুন লাইন বসাতে ৪ থেকে ৫ লাখ এবং ট্রান্সফরমার বসাতে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে এভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চেচান, রাজনপুর, গন্ধভপুর, খিদাকাপন, পিঠাখাই, বাউর ও দেওকাপনসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, টাকা দিলে খুঁটি আসে, আর টাকা না দিলে বাঁশে ঝুলন্ত তার দিয়েই বিদ্যুৎ নিতে হয়। জরাজীর্ণ লাইনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

Manual3 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার করার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় পুরনো ট্রান্সফরমার, ব্যবহৃত ব্রেকার ও নিম্নমানের তার বসিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

অ‌ভিযুক্ত অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়া বলেন,একা‌ধিবার মোবাইল ফো‌নে রিং হ‌চ্ছে কেউ রি‌সিভ ক‌রে‌নি।

তবে পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও অবগত আছেন।

জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে দুইবার বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি খুবই কম বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ উন্নয়নের নামে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে লুট হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—সরকার অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়, নাকি এ ঘটনাও চাপা পড়ে যায়।
এব‌্যাপা‌রে সি‌লেট বিউবো অ‌তি‌রিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কা‌দির‌কে তার ব‌্যক্তিগত মোবাইল নম্বার কল দি‌লে তি‌নি রি‌সিভ ক‌রে‌নি। ###

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!