ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিকল ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন এবং নতুন বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই আলমপুর এলাকার ২০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। এ অবস্থায় একটি প্রভাবশালী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আলী আহমদ নিয়ামতআলী,আউয়াল,দালাল গফ্ফার সহ চক্র পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) অফিস থেকে বিকল্প ট্রান্সফরমার এনে দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার বসানোরও চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী হস্তক্ষেপ করেন এবং ওই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ট্রান্সফরমার বিকলের সুযোগে নতুন বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের নামে গ্রাহকপ্রতি এক হাজার টাকা করে আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনি। তিনি গ্রামবাসীকে জানান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বিকল ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং সরকারি নিয়মেই এ সেবা পাওয়া সম্ভব। তাঁর এই অবস্থানের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে গোবিন্দগঞ্জ কলেজসংলগ্ন একটি দোকানের ভেতরে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আব্দুস সাত্তার, করিম, রাকিব আলী, দুধু মিয়া, হারিছ আলী ও মনির মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক রনিকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য, আলমপুর, গন্ধর্বপুর ও ভরাংপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট সেবার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১২ সালেও ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সর্বশেষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় গত ২৮ জুলাই রাতে আলমপুর গ্রামে নতুন ২০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হলে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনি অভিযোগ করে বলেন, অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ দূর করতে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের সমন্বয়ে একটি উন্মুক্ত বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং সরকারি সেবার নামে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।###