বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর এলাকায় বড় অঙ্কের ঋণ প্রদানের প্রলোভণ দেখিয়ে ৬ মাস ধওে দরিদ্র লোকজনের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে গেছে ‘সুখী’ নামক কথিত এনজিও’র মাঠকর্মী মাহবুবুর রহমান। দীর্ঘদিন আশ্বাস ও ঘুরিয়েও ঋণ প্রদান না করায় কতিপয় উত্তেজিত গ্রাহক মোটরসাইকেল সহ তাকে আটক করেন।
দুইদিনের মধ্যে সে টাকা ফেরৎ দিয়ে মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেওয়ার শর্তে তা ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে যায়। কিন্ত একমাস অতিবাহিত হলেও সে আর ফিরে না আসায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ সোমবার কথিত এনজিও’র মাঠকর্মী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৬/৭ মাস ধরে ‘সূখী’ নামে একটি এনজিও’র মাঠকর্মী পরিচয়ে প্রতারক মাহবুবুর রহমান উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন দরিদ্র এলাকার লোকজনকে বড় অঙ্কের ঋণ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয় আদায় করতে থাকে। ঋণ দেওয়ার কথা বলে সে সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে সঞ্চয় বাবত ৬ হাজার টাকা, নুর হোসেনের ৭ হাজার টাকা, খালেদা বেগমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, ছায়রা বেগমের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৫শ’ টাকা কালই বিবির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে। ৬ মাস থেকে তাদেরকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে আসলেও ঋণ প্রদান করেনি। প্রায় এক মাস আগে ভুক্তভোগিরা গ্রাহকরা তার ব্যবহৃত হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আকলিম উদ্দিনকে অবহিত করেন। উভয়পক্ষের সমঝোতায় প্রতারক মাহবুবুর রহমান ২ দিনের টাকা ফেরৎ দিয়ে মোটারসাইকেল নেওয়ার শর্তে মুক্তি পায়। কিন্তু ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও কথিত এনজিও কর্মী আর ফিরে আসেনি।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, কথিত এনজিও কর্মী তার এলাকার বিভিন্ন দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেওয়ার প্রলোভণ দেখিয়ে অন্তত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার একটি মোটরসাইকেল ইউনিয়ন অফিসের জিম্মায় রয়েছে।
ইউএনও মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন। তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নিবেন।