কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ::
বোরো বা ইরি ধানই হল গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি । সারা বছরের সংসার খরচ ও ছেলে -মেয়ের লেখা ও পড়া ,বিয়ে সাদি,রোগ ব্যাধি সহ সব খরচের যোগানদাতা হল ধানের চাষ।
ধানের ফলন ভাল হলে ,ভাল দাম পেলে কৃষকরা ভাল থাকেন। কৃষকদের সচ্ছলতা থাকলেই গ্রামীণ অর্থনীতি সচ্ছল থাকে। ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় কৃষকের জমিতে ধান চাষের বিকল্প উপায় না থাকায় লাভ-লোকসান বা সিমিত লাভে তাদের বাধ্য হয়েই ধানের আবাদে লিপ্ত থেকে সংসার খরচ চালাতে হয়।
তাই সুখে-দু্ঃখে সব সময়েই ধানের আবাদই হল তাদের একমাত্র অবলম্বন। বেশী লাভে , সিমিত লাভে বা লোকসান যাই হোক না কেন ধানের আবাদ চালিয়ে যেতে হয়।
গত কয়েক বছরে লাভ বেশী না হলেও সিমিত লাভে নিয়ে ইরির আবাদ করে আসছেন। এ বছর ও বোরো মৌসুমে মনে আশা নিয়ে ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।
উপজেলার উচু নিচু সব জমিতে বোরো ধানের কচি চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক । এ বছর শীতের প্রকোপ বেশী হওয়ায় একটু দেরিতে চারা লাগানো শুরু হয়েছে।
একসাথে উপজেলার সব এলাকায় চারা লাগানোর মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষক, শ্রমিক সকলেই ধানের চারা লাগানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব এলাকায় চাহিদা থাকায় শ্রমিকের মূল্য বেড়েছে। অন্যান্য ব্যয় ও বাড়তি। ফলে ধান উৎপাদনের সার্বিক ব্যয় বেশি হবে।
ফলে ধান চাষ করে কাঙ্খিত মূল্য না পেলে কৃষকের সংসার খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হবে। উত্তর বড়ভিটা গ্রামের কৃষক মো: আফতাব হোসেন বলেন , তিনি ৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের চারা লাগিয়েছেন।
প্রতি বিঘা জমিতে ধানের চারা লাগানো যাবতীয় খরচ সহ বিঘা প্রতি খরচ হবে প্রায় ১৭০০-১৮০০ টাকা। ধানের বর্তমান বাজার মূল্য মনপ্রতি ১১০০-১২০০টাকা এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হবে ১৮-২০ মন।
এ হিসাবে বিঘাপ্রতি লাভ হবে ৩ -৪ হাজার টাকা।এই লাভ দিয়ে সারা বছরের সংসার খরচ চালানোও কৃষিকাজ ধরে রাখা কষ্টকর।
বড়ভিটা গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি পৈতৃক সূত্রে ৬ বিঘা জমি পেয়েছেন।৪বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করবেন।বিঘা প্রতি যে খরচ হয়,সে তুলনায় লাভের পরিমাণ সিমিত। এই আয় দিয়ে সংসার চলে না। হিমশিম খেতে হয়। তার পরেও আর কোন উপায় না থাকায় এখনও এ পেশা ধরে রেখেছেন। ধান চাষে ভাল লাভ হলে সংসার ভাল চলে লোকসান হলে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়। আগামীতে ভাল দাম পাব এ আশায় এবারো ধানের চারা লাগিয়েছেন।ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানিয়েছে ,এ বছর১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এপর্যন্ত ৮হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। বিজতলা তৈরী, সুস্থ চারা গাছ তৈরী,ও ভাল ফলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না হলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে।#