বড়লেখা প্রতিনিধি:
ইতালি প্রবাসি বড়লেখা পৌরশহরের ইয়াকুব নগরের ফখরুল ইসলাম। ৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৭ জুন স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরছিলেন তিনি। হঠাৎ আকাশে অসুস্থ হওয়ায় জর্জিয়ার তিবিলিসি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে তাকে রেখে আসে সংশ্লিষ্ট বিমান। জর্জিয়ার ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি করে চলছিল তার চিকিৎসা। স্ত্রী ও চার বছরের ছেলে দেশে ফিরলেও নিজ বাড়িতে জীবন্ত ফেরা হয়নি ফখরুল ইসলামের। প্রায় দেড়মাস পর লাশ হয়ে ফিরলেন নিজ বাড়িতে। জর্জিয়ার ইউনিভার্সিটি হসপিটালে চিকিৎসা চলছিল তার। ১৪ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। এ খবরে স্বজন সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আছে।
নিহতের লাশ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি কাকুতি জানান স্ত্রী হাফছা বেগম। ১৬ জুলাই তিনি ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহা-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এরপর প্রবাসি কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশে নিয়ে আসা হয় ফখরুল ইসালামের মরদেহ।
স্ত্রী-পুত্র আর স্বজনদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে নিহত ফখরুল ইসলামের লাশ। এসময় স্ত্রী-সন্তান, স্বজন ও প্রতিবেশিদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ইয়াকুবনগর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সার্বজনিন গোরস্থানে মরহুম ফখরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ফখরুল ইসলামের মামা লাল মিয়া জানান, সোমবার সকাল সাড়ে পাঁচটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তার্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফখরুল ইসলামের লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ফখরুল ইসলামের মামাতো ভাই মারুফ আহমদ ও রাসেল আহমদ লাশ গ্রহণ করেন। লাশ দেশে আনার ব্যাপারে প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অসামান্য সহযোগিতা করেছেন। এছাড়ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক সাজু ও বর্তমান সরকারের প্রতিও নিহত ফখরুল ইসলামের পরিবার গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।