বড়লেখা প্রতিনিধি:
কতিপয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সিন্ডেকেট (গোপন সমঝোতা) করে সরকারের প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাকালুকি হাওড়ের প্রায় দেড় হাজার একর আয়তনের সর্ববৃহৎ সরকারি জলমহাল ‘গোটাউরা হাওরখাল বদ্ধ’ জলমহালের (একসনা খাস কালেকশন) ইজারা নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দেশ-বিদেশের সাংবাদিকসহ সচেতন মহলের প্রতিবাদের মুখে এবং প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্তে তা ভেস্তে যাওয়ায় মাত্র একদিনের ব্যবধানে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নিলামে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠায় দেশ-বিদেশের সচেতন মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তখনই উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই উন্মুক্ত নিলাম স্থগিত করে পুনঃনিলামের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বারের উন্মুক্ত পুনঃনিলামে জলমহালটি প্রায় ৩৮ লাখ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে।
জানা গেছে, উচ্চ আদালতের মামলা জটিলতার কারণে হাকালুকি হাওড়ের সর্ববৃহৎ সরকারি জলমহাল ‘গোটাউরা হাওরখাল বদ্ধ’ বিলটি এক বছরের জন্য উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বড়লেখার হাকালুকি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে ২২টি নিবন্ধিত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অংশগ্রহণকারিদের গোপন সমঝোতার কারণে কাঙ্খিত দর ওঠেনি জলমহালটির। গত বছর প্রায় ২ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টাকারি সিন্ডিকেট সর্বোচ্চ দর হাকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই দরেই ইজারা প্রদানে প্রশাসনের উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠলে প্রবাসি সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদসহ দেশ-বিদেশের সচেতন মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাৎক্ষণিক ইউএনও, সহকারি কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টরা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। পরে উপজেলা ও জেলা জলমহাল কমিটির পরামর্শক্রমে বৃহস্পতিবার একই স্থানে পুনঃউন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাওয়ায় ৬৬টি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি নিলাম ডাকে অংশগ্রহণ করেন। এতে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা (ভ্যাট-আয়কর সহ ১ কোটি টাকারও বেশি) দর ডাকেন ভোলারকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ছায়াদ আহমদ। তাকেই চূড়ান্ত দরদাতা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা যমুনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি দর হাকে ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা দক্ষিণ ইসলামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ডাক হচ্ছে ৭৭ লাখ টাকা। অথচ সিন্ডিকেট করে মাত্র সাড়ে ৫০ লাখ টাকায় জলমহালটির খাস কালেকশন ইজারা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিল অসাধু একটি চক্র।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, প্রথম দিনের উন্মুক্ত নিলামে দর ওঠে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তা কাঙ্খিত না হওয়ায় সরকারি স্বার্থ বিবেচনায় নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উন্মুক্ত পুনঃনিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৬টি মৎস্যজীবী সমিতি অংশগ্রহণ করে। সর্বোচ্চ দরদাতা (ভ্যাট, আয়করসহ ১ কোটি টাকারও উপরে) হিসাবে ভোলারকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে নির্বাচিত করা হয়েছে।