কমলগঞ্জে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় চলন্ত অটোরিকশায় ভেংগে পড়ল গাছ : নিহত ১, আহত ২ কমলগঞ্জের সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু লুটের অভিযোগ : বাঁধা দেয়ায় মামলা হামলার হুমকি  ওসমানীনগরে মন্ত্রী ও উপদেষ্টার খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন  কমলগঞ্জে মুন্সীবাড়ির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ কুলাউড়ায় জবেদা রউফ ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ জুড়ীতে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বড়লেখায় মাসব্যাপী কুরআন প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার বিতরণ  বড়লেখায় মশক নিধনে এমপির নেতৃত্বে সমন্বিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুড়ীতে প্রবাসী সমাজসেবক মাহবুব হাসান সাচ্চুর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ওসমানীনগর আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কমলগঞ্জে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প

  • বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

Manual3 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি::

Manual7 Ad Code

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ ও প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এর উপকরণ তৈরি ও শান বা লবন-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের। পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ভিড় জমাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান কর্মকাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প। শান দেয়া নতুন দা-বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে, কাজ চলছে ভিতরে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ, তবু থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অব্দি চলছে কাজের ব্যস্ততা।

ভানুগাছ বাজারের কর্মকার সুজিত ধর বলেন, এটা আমাদের পৈতৃক পেশা। আমি ছোটকাল থেকেই এই কাজ করছি। প্রতি ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে, তবে এখন করোনার প্রভাবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কাজের চাপ একটু কম, তবে দিন দিন কাজের চাহিদা আরো বাড়ছে। আগে এই সময়টা থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হত। এখন আর তা হতে হচ্ছে না।

কোরবানি ঈদের মাংস কাটার জন্য শান দিতে আসা সৈয়দ জাঙ্গির, সাইফুল ইসলাম বলেন, আসলে বছরে একবার কামারের ঘরে আসা দা বটি শান দেবার জন্য। কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজারের আঁখল মিয়া জানান, বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিনরাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না।

Manual6 Ad Code

শমশেরনগর বাজারের তামার কমর দেব ও অরুন দেব বলেন, করোনার কারণে গত দেড় বছল ধরে তারা খুবই কষ্টে আছেন। করোনার আগে প্রতিদিন দোকানে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা আয় হতো। আর এখন ৮০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা আয় করা কষ্টকর। দোকানে গড়ে ২ জন কওে কর্মচারী রাখতে হয়। একজন কর্মচারীর দৈনিক মজুরী ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে কিছুই থাকে না উল্টো লোকসান হয়। সামনে কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে কুরবানীর পশু জবাই করার উপকরণ তৈরী ও বিক্রি করে কয়েকদিন আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারিগররা জানান, কাঁচা-পাকা লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় ধাতব যন্ত্রপাতি। তবে পাকা লোহার দা-ছুরির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে এবং বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে কমলগঞ্জ উপজেলার কামার দোকানগুলিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মকাররা। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, আদমপুরসহ বিভিন্ন বাজারে আছে কামারের দোকান। শেষ পর্যন্ত করোনার প্রভাবে এবং লকডাউনের বিধি নিষেধে অনিশ্চিত বাজার নিয়ে শঙ্খার মধ্যদিয়েই কাজ করে যাচ্ছে বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী জাত পেশার কারিগর কর্মকাররা।

Manual5 Ad Code

এ পেশার মানুষ সারাবছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আযহা সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় তাদের কর্ম ব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে রাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ। দা আকৃতি ও লোহাভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পুরানো দা-বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবন-পানি দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।#

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!