এইবেলা, বড়লেখা: :
হাকালুকি হাওর পারের বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের কাজিরবন্দ এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন বান্ধব একটি সংযোগ রাস্তা (আরসিসি) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে অবহেলিত জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত নিম্নাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, কৃষির ও ব্যবসা বাণিজ্যসহ জীবন মানের ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন এলাকাবাসি। ১ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর। প্রধান অতিথি হিসেবে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। আগামি বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে রাস্তাটির। গুনগত মানসম্পন্ন নির্মাণ কাজে এলাকাবাসি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কাজিরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে আব্দুস সাত্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র পর্যন্ত দুর্যোগ ঝুঁিক প্রশমন বান্ধব ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বর্নি ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় আরসিসি রাস্তাটির নির্মাণ কাজে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। বাস্তবায়ন সহযোগি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সহযোগি সংস্থা সিএনআরএসের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সহ মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঠিকাদারের লোকজনের কাজের তদারকি করছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আতিকুর রহমান, কাজিরবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান, জায়েদ আহমদ, আব্দুল করিম, লুলু মিয়া, ফয়েজ উদ্দিন, ফারুক উদ্দিন, সোনা উদ্দিন প্রমুখ জানান, এই রাস্তাটি বড়লেখা, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সংযোগ রাস্তা। তাছাড়া হাকালুকি হাওরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। হাওরপারের লোকজনের চলাচলের এই রাস্তাটি বছরে ৫/৬ মাস বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকে। যুগ যুগ ধরে মানুষজন কর্দমাক্ত রাস্তায় মারাত্মক দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন। সরকারি বরাদ্দে রাস্তায় মাঝে মধ্যে মাটির কাজ করা হলেও পরবর্তী বন্যায় তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রাস্তার কারণে এলাকার ছেলে-মেয়েরা বছরের প্রায় অর্ধেক সময় স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারে না। এতে ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। নিম্নাঞ্চলের লোকজন কৃষি, শিক্ষা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় রাস্তাটি পাকাকরণে এলাকাবাসি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানের পাশাপাশি এলাকাবাসির আর্থসামাজিক অবস্থারও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। এলাকাবাসি জানান, রাস্তাটি বেশ উচু করে নির্মাণ করায় আশা করছেন সাধারণ বন্যায় তলিয়ে যাবে না। কাজের মানও অত্যন্ত ভাল বলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। হাকালুকি পারে আরো অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে রাস্তাঘাটের কারণে বাসিন্দারা যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। এই সংস্থার মাধ্যমে আরো কিছু রাস্তা নির্মাণ করা গেলে হতদরিদ্র এলাকাবাসি উপকৃত হবেন।
রাস্তাটির বাস্তবায়ন সহযোগি সংস্থা সিএনআরএসের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর খোরশেদ আলম জানান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক বাস্তবায়িত ঝুঁকি হ্রাস বা প্রশমন স্কিমের রাস্তাটির নির্মাণ কাজে উপজেলা সুপারভিশন কমিটি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী ও সিএনআরএস এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় কমিউনিটি গুণগতমান বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত কাজের তদারকি করছেন।

বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, হাকালুকি হাওরপারের অবহেলিত এলাকায় কাজটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে। বন্যায় এলাকার জনগণ সহজে বন্যাআশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারবেন। দুইটি প্রাইমারি স্কুল ও দুইটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। হাওরের ফসল উঠাতে ও গবাদিপশুর যাতায়াতেও বিশেষ অবদান রাখবে রাস্তাটি। বিশেষ করে এই এলাকার ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। হাওরাঞ্চলের এই এলাকার মানুষজনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।