
আবদুল আহাদ, কুলাউড়া ::
জাবেদ আহমেদ ও রিয়াদুল ইসলাম। বয়স তাদের মাত্র ১৯ বছর। দু’জনেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’দিন আগে পুরোনো একটি মোটরবাইক কেনেন রিয়াদুল। সেই বাইকে চড়তে গিয়ে দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পরিবারসহ পুরো এলাকা শোকাবহ।
পরিবার ও পলিশ সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গীরাই গ্রামের মৃত দুলু মিয়ার ছেলে জাবেদ আহমেদ (১৯) এবং একই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ফল ব্যবসায়ী নুরু মিয়ার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম (১৯) দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। রিয়াদুল জুড়ি বাজারে বাবার ফলের দোকানে বসতেন এবং জাবেদ তার ভাইদের কাপড়ের দোকানে সহযোগীতা করতেন।
গত দু’দিন আগে রিয়াদুল ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরাতন মোটরবাইক কেনেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে সেই বাইক নিয়ে দুই’বন্ধু ঘুরতে বের হয়েছিলেন। এসময় কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের আছুরিঘাট নামক স্থানে ঘন কুয়াশার মধ্যে পিকআপভ্যানের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ভোর থেকেই ওই এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল, যে কারণে সড়কে যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। মোটরবাইকটি কুলাউড়া অভিমুখে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী পিকআপভ্যান বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দু’জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুই পরিবারের সদস্যদের কান্নায় কুলাউড়া থানা এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বিলাপ করতে করতে নুরু মিয়া বলছিলেন, সকালে দোকান খোলার কথা বলে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হইছে। বেড়াইতে গেছে জানতাম না। মোটরসাইকেল আমার ছেলের জীবনটা নিল।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, নিহত দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।