জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর থেকে::
সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে একেবারে সীমান্তবর্তী উপজেলার ওসমানীনগর। শুধু তাই নয় সিলেট জেলার প্রবেশদ্বার ও বিভাগের আরো দুটি জেলার মিলনস্থল সহ রাজধানীর সাথে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। যা আবার ওসমানীনগর উপজেলার মধ্যখান দিয়ে চলে গেছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক।
বাংলাদেশের প্রাচীন এবং বৃহত্তম বাজারের মধ্যে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার একটি অন্যতম বিশাল বাজার। বাজারের মধ্যখান দিয়ে গেছে সিলেট টাকা মহাসড়ক। গোয়ালাবাজারে ১৮টি ব্যাংক বেশকটি বীমা কোস্পানী ৫ থেকে ৭ হাজার বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সিলেট বিভাগের অন্য তিনটি জেলার কয়েকটি উপজেলার সাথে সীমান্ত আর ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় প্রতিনিয়ত আশপাশের জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ব্যবসা বানিজ্য ও বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় গোয়ালাবাজারে। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে নিষিদ্ধ সিএনজি অটোরিকশা অবৈধ ভাবে মহাসড়ক সদখল করে বাজারের দুই পাশে স্ট্যান্ড করে রাখায় মহাসড়ক একেবারে সরু হয়ে যাওয়া এবং মহাসড়ক দখল করে অবৈধ অসংখ্য ভাসমান দোকানপাট বসার কারণে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা যানজন লেগে থাকে গোয়ালাবাজারে। এতে করে স্থানীয় ও দুরপাল্লার শত শত যানবাহন গোয়ালাবাজারে যানজটের কবলে
আটকা পরে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়িত। অন্যদিকে গোয়ালাবাজারে আগত হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতা প্রতিনিয়ত পরছেন বিপাকে। দীর্ঘদিন থেকে এমন অবস্থা ও অব্যবস্থা চলে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এ বিষয়ে মাঝে মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার কিংবা সংশিষ্ট প্রশানের কর্তাব্যক্তিদের নজরে কেউ দিলে লোক দেখানো কিছু অভিযান করা হয় সিএনজি অটোরিকশা সহ মহাসড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে। তার পর আবার যেই সেই।
সরজমিন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গোয়ালাবাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে সিলেট থেকে গোয়ালাবাজারের প্রবেশ মুখ
গোয়ালাবাজার নিউ প্লাজা মার্কেটের সামনে মহকসড়ক দখল করে বালাগঞ্জ ও তাজপুর গামী অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তুলা হয়েছে। এই স্ট্যান্ডে মহাসড়ক দখল করে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে শতাধিক অবৈধ নিষিদ্ধ সিএনজি অটোরিকা। এরই
উল্টোপাশে রাহাত ম্যানশনের সামনে প্রায় একেবারে মহাসড়কের মধ্যখানে স্ট্যান্ড রয়েছে আরেক অবৈধ ব্যাটারি চালিত টমটমের।
শেরপুরে দিকে একটু আগালে বাজারের হাজী মার্কেটের স্বপ্ন স্টোরের সামনে মাহসড়কে খাদিমপুর-নায়বন্দর সিএনজি
অটোরিকশা স্ট্যান্ড মহাড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে অর্ধশত অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা।
বাজারে আরেকটু দক্ষিণ দিকে স্বাদ মিষ্টি দোকানের উল্টো দিকে বেগমপুর-কালনিচর-কাতিয়ার সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, দক্ষিণ গোয়ালাবাজার ফুলকলির সামন থেকে স্কুল রোড পর্যন্ত মহাসড়ক দখল করে গড়ে তুলা হয়েছে বুরুঙ্গাবাজার স্ট্যান্ড। যা এই স্ট্যান্ডে প্রায় শতাধিক সিএনজি অটোরিকাশ মহাসড়কের অর্ধেক অংশ দখল করে রেখেছে।
এদিকে মহাসড়কের উত্তর গোয়ালাবাজার থেকে দক্ষিণ গোয়ালাবাজার পর্যন্ত পুরো বাজার অংশের অধিকাংশ স্থানে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত টমটম আর বিভিন্ন প্রকারের পণ্যের পশরা নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দখল করে
রেখেছেন অবৈধ দখলদারা। দেখলে মনে হবে মহাসড়কের পুরো বাজার এলাকা যেনো ভাসমান দোকান আর অবৈধ সিএনজি ও টমটম স্ট্যান্ড।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে স্থায়ী ভাবে অবৈধ স্ট্যান্ড ও দোকান উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, ইতিমধ্যে গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারে এদের বিরুদ্ধে মোবাউল কোর্ট পরিচালনা করেছি। খুব শিগগিরই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি চালক পুলিশ সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনদের নিয়ে একটি সভা করবো এর পর যদি মহাসড়ক খালি করা না হয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।#